দূর-দূরান্তে মাইক বসিয়ে মানুষকে ওয়াজ শুনতে বাধ্য করার অধিকার কে দিয়েছে, এমন প্রশ্ন করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী।
আজ রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তাফসির মাহফিলের মাইকগুলো যথাসম্ভব প্যান্ডেলের ভেতরেই রাখুন। আগ্রহী শ্রোতারা সেখানে বসেই তাফসির শুনবেন। শ্রোতাদের সুবিধার্থে উন্নত সাউন্ড সিস্টেম নিশ্চিত করুন। বিশেষ করে শহরের ভেতরকার মাহফিলগুলোতে দূর-দূরান্তে মাইক বসিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত আলোচনা করে—অসুস্থ, বৃদ্ধ, শিশু, অমুসলিম ও ঘুমন্ত মানুষদের কষ্ট দেয়া আমাদের জন্য উচিত নয়। আর তাদেরকে এ আলোচনা শুনতে বাধ্য করার অধিকারই আমাদের কে দিয়েছে?’
তিনি আরও লেখেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে, চিরায়ত এই দ্বীনি ঐতিহ্যের মাহফিলগুলো আধুনিক সমাজে তার আবেদন হারাবে। দয়া করে ইসলামি প্রোগ্রামগুলোকে বিতর্কিত করা থেকে বিরত থাকুন।’
মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন, ‘আমাদের কোন আচরণে বা কার্যক্রমে বিরক্ত হয়ে কেউ যদি ইসলামের ব্যাপারে বিরূপ মনোভাব পোষণ করে, তার পুরো দায়ভার আমাদের, ইসলাম ধর্মের নয়। ইসলাম চিরসুন্দর, চির-আধুনিক। ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সকলের।’
নারায়ণগঞ্জ আদালত অঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম বিরাজ করছে। টাউট উচ্ছেদে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকা, দালালদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য, পোশাকবিধি লঙ্ঘন এবং আইন না মেনে শিক্ষানবিশদের স্বাধীনভাবে ওকালতি করার অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আদালত চত্বরে প্রতিদিন হাজারো বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ মামলা-সংক্রান্ত কাজের জন্য এসে টাউট ও দালালদের খপ্পরে পড়ছেন। দ্রুত কাজ পাইয়ে দেওয়া, কম খরচে জামিন করানো বা জজ-ম্যাজিস্ট্রেটের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসব প্রতারক চক্র। ফলে একদিকে চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা, অন্যদিকে বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্ধারিত নিয়মাবলির তোয়াক্কা না করা। বার কাউন্সিলের স্পষ্ট নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষানবিশদের পরিচয় নিশ্চিত করতে লাল টাই পরিধান করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ কোর্টে অনেক শিক্ষানবিশই লাল টাই পরছেন না। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষানবিশদের স্বাধীনভাবে চেম্বার চালানো বা আইনি প্র্যাকটিস করার কোনো এখতিয়ার না থাকলেও অনেকে আইনজীবী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে চেম্বার খুলে বসেছেন এবং নিয়মিত ওকালতি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিযোগ করেন, আদালত অঙ্গনকে দালালমুক্ত করার জন্য বা টাউটদের ধরতে গেলে কিছু সুবিধাবাদী আইনজীবী তাদের পাশে এসে দাঁড়ান এবং তাদের রক্ষা করেন। এই সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর আশকারা পেয়েই টাউট-দালালরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
পেশাগত শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন রক্ষায় সচেতন আইনজীবীরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ জেলা বারের মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।
আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের দাবি, নারায়ণগঞ্জ জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন ও আদালত প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অবিলম্বে একটি শক্তিশালী “টাউট উচ্ছেদ কমিটি” গঠন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা উচিত।বার কাউন্সিলের ড্রেসকোড বাস্তবায়নে কঠোরতা আরোপ করতে হবে, যাতে শিক্ষানবিশদের চিহ্নিত করা সহজ হয়। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের তদারকি ছাড়া শিক্ষানবিশরা যেন কোনো অবস্থাতেই স্বাধীনভাবে চেম্বার পরিচালনা বা ওকালতি করতে না পারেন, সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। যেসব আইনজীবী টাউট ও দালালদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন, তাদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে বার কাউন্সিলের মাধ্যমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ৯ নম্বর হাইজাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ ও চরম বিতর্ক। ক্ষমতা ও আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে বহুরূপী রাজনীতির পশরা সাজিয়েছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কমিটির সদস্য লিটন। অতীতে আওয়ামী লীগের এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ বলয়ে থেকে সুবিধা বাগিয়ে নেওয়া এই নেতা এখন রাতারাতি খোলস পাল্টে বর্তমান বিএনপি এমপির ‘শেল্টারে’ চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্নে বিভোর।
স্থানীয় ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাইজাদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন লিটন। সে সময় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যের সাথে তার ছিল গভীর সখ্যতা ও প্রকাশ্য ওঠাবসা। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের অবস্থান নিরাপদ রাখতে ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থিতা বাগাতে তিনি এখন ভীড় জমিয়েছেন বিএনপির প্রভাবশালী এমপির বলয়ে।
বর্তমানে বিএনপির এমপির ছবি ব্যবহার করে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে পুরো হাইজাদী ইউনিয়ন সয়লাব করে দিয়েছেন লিটন। শুধু তা-ই নয়, এমপির ডান পাশে বসে বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক প্রোগামে তাকে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে নিয়মিত। ক্ষমতার এই নগ্ন রূপান্তর দেখে খোদ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।
হাইব্রিড এই নেতার আগমনে ক্ষুব্ধ ত্যাগী ও কারানির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা জানান, বিগত দিনে যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তাদেরকে একপাশে ঠেলে দিয়ে লিটনের মতো একজন চিহ্নিত আওয়ামী লীগ নেতাকে নিয়ে মাতামাতি করছেন গুটিকয়েক ‘সুমনপন্থী’ বিএনপি নেতাকর্মী। অভিযোগ রয়েছে, বিপুল অঙ্কের টাকা ছিটিয়ে এবং বিএনপির ভেতরের একশ্রেণির সুবিধাভোগী চক্রকে ম্যানেজ করে মাঠে নিজের পাল্লা ভারী করার চেষ্টা করছেন লিটন।
এদিকে সচেতন রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—হঠাৎ করে একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে নিজ ছায়াতলে টেনে নিয়ে মাঠে নামানোর পেছনে বিএনপির স্থানীয় এমপির ভূমিকা ঠিক কী?
অভিজ্ঞ মহল মনে করছে, এমপি হয়তো লিটনকে মাঠে নামিয়ে নির্বাচনকে উত্তপ্ত করছেন এবং তার মাধ্যমে রাজনৈতিক দরকষাকষির শক্তি বাড়িয়ে নিচ্ছেন। টাকা এবং প্রভাবকে পুঁজি করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করার এই পাঁয়তারা হাইজাদী ইউনিয়নের সাধারণ ভোটাররা ভালোভাবে নিচ্ছেন না।
হাইজাদী ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ও তৃণমূলের বিএনপি সমর্থকেরা জানান, বিগত সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কোনো নেতার পুনর্বাসন তারা বরদাশত করবেন না। বহুরূপী লিটনের এই রাজনৈতিক ভেল্কিবাজি এবং টাকার জোরে চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টাকে ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবেন বলে প্রহর গুনছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত লিটন ও স্থানীয় বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হাইজাদীর রাজনীতিতে এখন মূল আলোচনার বিষয়—আওয়ামী লীগের লিটন কি বিএনপির এমপির শেল্টারে শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদ হাতিয়ে নিতে পারবেন, নাকি রাজপথের ত্যাগী নেতারাই শেষ হাসি হাসবেন?
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যেন থামছেই না অপরাধ ও রক্তপাতের খেলা। একের পর এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে পুরো উপজেলায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মনে। সম্প্রতি ওসমান হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খুন হলেন জহির নামে আরেক ব্যক্তি। স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন—”ওসমানের পর জহির খুন, তারপর কে?” একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে এখন চরম ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। কে কার পরে টার্গেটে পরিণত হবেন—এই ভয়ে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতির কারণেই অপরাধীরা বারবার এমন নৃশংস ঘটনা ঘটাতে সাহস পাচ্ছে। কিছুদিন আগে ওসমান নামের এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের শোক কাটতে না কাটতেই জহিরের প্রাণহানি পুরো জনপদকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। একের পর এক এমন খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, অপরাধচক্রগুলোর শেকড় কতদূর গভীরে?
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শোকারিত ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, দ্রুত এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জোরদার অভিযান চলছে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু দায়সারা অভিযান নয়, বরং এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি এবং অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।
একের পর এক তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার এই মিছিলে ইতি টানতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে প্রশাসন কতোটা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
আপনার মতামত লিখুন