নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ শ্রমিকদের উদ্দশ্য করে বলেছেন, শ্রমিক ভাইরা আপনারা কারোও ইন্ধনে পড়বেন না। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখছি। সেখানে দেখা যাচ্ছে কারা উস্কানি দিচ্ছে। সেগুলো দেখে শনাক্ত করা হচ্ছে। অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ফতুল্লার শিবুমার্কেট এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে একথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যারা রাজনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্র করছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। শ্রমিক ভাইদের বলবো আপনারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
মজুরি কমিশন গঠন করেছেন। আপনাদের ন্যায্য দাবী আলোচনা সাপেক্ষে পূরণ করা হবে। আপনারা কারও ইন্ধনে পড়বেন না। আপনাদের জন্য যেটা ন্যায্য সেটা করা হবে।
শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ও শ্রমিকদের অসন্তোষ প্রশমনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশে রাজপথে সরব উপস্থিতি দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদকে। আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন তিনি।
এ সময় তাঁর সঙ্গে রাজপথে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে।
তবে এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের মনে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে—সব দায়িত্ব কি একা আজাদ, রাকিব ও টিপুর? জেলা ও মহানগরের অন্যান্য শীর্ষ পদধারী নেতা, সংসদ সদস্য, প্রশাসক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান এবং মেয়র পদে আলো ছড়ানো প্রার্থীরা তবে কোথায়?
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক প্রভাব ও অবস্থান জোরালো হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ ও জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদীয় মনোনয়ন কেন্দ্র করে শীর্ষ নেতাদের ব্যানার, পোস্টার, প্রচার-প্রচারণা এবং শো-ডাউন শহরজুড়ে লেগেই থাকে। কিন্তু শিল্পাঞ্চলের এই বড় সংকট ও সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির মুহূর্তে নারায়ণগঞ্জ সদর বা অন্যান্য সংসদীয় এলাকার বিএনপি সমর্থিত প্রভাবশালী নেতাদের রাজপথে দেখা যায়নি।
স্থানীয় রাজপথের একাধিক সক্রিয় কর্মী ও সাধারণ জনগণের মতে, কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে যেখানে জনদুর্ভোগ কমানো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, সেখানে হাতেগোনা কয়েজন নেতা ছাড়া বাকিদের এই নীরবতা অত্যন্ত হতাশাজনক।
আন্দোলনস্থলে চরম যানজট এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েনের মতো উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নজরুল ইসলাম আজাদ, সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের দাবি শোনেন এবং আশ্বাস দেন। নজরুল ইসলাম আজাদ জানান, শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি এবং তাঁদের ন্যায্য দাবি নিয়ে কাজ চলছে। অন্যদিকে, মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শ্রমিক ও জনদুর্ভোগ লাঘবে মাঠে নেমে সার্বিক সহযোগিতা করেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
তবে সাধারণ পথচারী, শ্রমিক নেতা ও তৃণমূল কর্মীদের প্রশ্ন—কেবল একটি নির্দিষ্ট বলয়ের নেতাদের যদি পুরো জেলার জনসংকট নিরসনে উদ্যোগ নিতে হয়, তবে নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের অন্যান্য আসনের শীর্ষ নেতারা কেন রাজপথে নামছেন না? দলীয় পদ-পদবি ও নির্বাচনের মনোনয়ন দৌড়ে সামনের সারিতে থাকা নেতাদের সংকটকালীন এই ‘মাঠবিমুখ’ আচরণ নিয়ে এখন নারায়ণগঞ্জের বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চরম চাপা ক্ষোভ ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। যদিও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ৩১ অক্টোবর, তবে বিশেষ কারণে পরদিন অর্থাৎ ১ নভেম্বর জাকজমকপূর্ণভাবে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আলোচনা সভা এবং প্রীতি সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দঘন মুহূর্তে কেক কাটা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের আইনি অধিকার সুনিশ্চিত করতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সবসময় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে। আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা ও ঐক্য বজায় রেখে আগামী দিনেও সকল ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার দৃপ্ত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের সিনিয়র ও জুনিয়র আইনজীবীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সংগঠনের উত্তরোত্তর সফলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু আন্তর্জাতিক মানবসেবা সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জেলার প্রগতিশীল ও সচেতন ভোটাররা তাকে এই দায়িত্ব প্রদান করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের নানা প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন ও মামলার শিকার হয়েও রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অবিচল থাকার পুরস্কারস্বরূপ এই জয় পেয়েছেন তিনি। কঠিন সময়েও দলের হাল ধরে রাখা এই নেতার প্রগতিশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলেও যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এই বিজয় তারই এক অনন্য প্রমাণ।
ফ্যাসিবাদী শাসনকালে যখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বহুমুখী জুলুম, নির্যাতন এবং অসংখ্য মামলার মুখে বিরোধী মতের অনেকেই কোণঠাসা ছিলেন, তখন রাজপথের লড়াইয়ে অগ্রভাগে ছিলেন অ্যাডভোকেট টিপু। সেই সংকটময় সময়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কথা ভেবে অনেকে যখন স্থানীয় প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সঙ্গে আঁসাত করে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা এবং আয়েসী জীবনযাপনে ব্যস্ত ছিলেন, তখনো রাজপথের আন্দোলন ও দলীয় নেতাকর্মীদের ছাতা ধরে রেখেছিলেন তিনি। রাজপথে তার ধারাবাহিক সরব উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিল।
রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। এই সংগঠনের নির্বাচনে সাধারণ ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণ করেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রগতিশীল ও চিন্তাশীল নাগরিকরা। এই নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে অ্যাডভোকেট টিপুর বিপুল ভোরে দাপটি বিজয়ী হওয়া প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল একজন রাজপথের লড়াকু রাজনৈতিক নেতাই নন, বরং সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রগতিশীল মহলেও তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত।
রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক এই সংগঠনে তার এই বিজয় নারায়ণগঞ্জের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন বার্তার জন্ম দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন