খুঁজুন

“ঘুরপাক খাচ্ছে কোর্টপাড়ার রাজনীতি” ​

কোর্ট প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ।
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
“ঘুরপাক খাচ্ছে কোর্টপাড়ার রাজনীতি”  ​

 

​

সাম্প্রতিক সময়ে নানা বিতর্ক, বলয় তৈরি, অন্তর্কোন্দল এবং আসন্ন আইনজীবী সমিতি ও ফোরামের পদ-পদবিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার রাজনীতি। বিএনপিপন্থী আইনজীবী মহলে আধিপত্য বিস্তার ও প্রভাব জাহির করাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নতুন নতুন সমীকরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতির ঘটনায় এখন সরগরম পুরো কোর্টপাড়া। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এবং শীর্ষ আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে রূপ নিয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।

নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার রাজনীতি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অগ্রযাত্রায় সাবেক স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট খোরশেদ মোল্লার অবদান অনস্বীকার্য। বিগত কঠিন সময়ে রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম থেকে শুরু করে আদালতপাড়ায় আইনজীবীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুঃসময়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ আইনজীবীদের আইনি সেবা ও সুরক্ষা দিতে তাঁর সাহসী ভূমিকা আদালতপাড়ার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে আদালতপাড়ার প্রধান চালিকাশক্তি। বিভিন্ন আন্দোলন ও আইনজীবী সমিতি পরিচালনায় তাঁর একক প্রভাব ছিল প্রশ্নাতীত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর অনুসারী ও সাবেক অনুসারীদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায় তাঁর রাজনীতির ছকে কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে। কোর্টপাড়ায় নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে এবং আগামী দিনের রাজনীতিতে নিজের বলয় শক্তিশালী করতে তিনি নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন।

বর্তমান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকিরের উত্থান নারায়ণগঞ্জ কোর্টপাড়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সাখাওয়াত হোসেন খানের হাত ধরে মূলধারার রাজনীতির রাজনীতিতে এলেও বর্তমানে তিনি সাখাওয়াত বিরোধী শিবিরের শীর্ষভাগে অবস্থান করছেন। প্রশাসনিক ক্ষমতা ও বৃহৎ অংশের আইনজীবীদের সমর্থন তাকে এক শক্ত ভিত্তি এনে দিলেও, আগামী দিনে ফোরামের রাজনীতি ও আদালতপাড়ার দ্বন্দ্বে নিজের এই শক্ত অবস্থান বজায় রাখাটাই তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনীতির মূল চ্যালেঞ্জ।

আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা এইচ এম আনোয়ার প্রধান আদালতপাড়ায় এখন বেশ শক্তিশালী ও প্রভাবশালী বলয় গড়ে তুলেছেন। রাজনৈতিক ‘গুরু’ সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে চরম দূরত্ব তৈরি হওয়া সত্ত্বেও, তিনি আসন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ‘সভাপতি’ পদপ্রার্থী হওয়ার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাখাওয়াত বিরোধী বলয়ের সমর্থন ও নিজস্ব জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান কোন উচ্চতায় পৌঁছায়, তা নির্ভর করবে আসন্ন নির্বাচন ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর।

আদালতপাড়ার বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও আইনজীবী সমাজের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়ন এবং অ্যাডভোকেট রিফাতের ভূমিকা ও অবদান চোখে পড়ার মতো। সাধারণ আইনজীবীদের বিভিন্ন সংকটে পাশে থাকা ও পেশাগত অধিকার রক্ষায় তাদের সরব উপস্থিতি আইনজীবী অঙ্গনকে সব সময় চাঙ্গা রেখেছে। সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোতেও নিজেদের শক্ত অবস্থান বজায় রেখে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সক্রিয়তা অব্যাহত রেখেছেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার সিনিয়র ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট বারী ভূইয়া অতীত থেকেই আদালত অঙ্গনের প্রতিটি সংকট নিরসনে মধ্যপন্থী, অভিভাবকতুল্য ও গঠনমূলক অবদান রেখে আসছেন। তবে সাম্প্রতিককালে আদালতপাড়ার উদ্ভূত রাজনৈতিক সংকট ও হাতাহাতির ঘটনার সমাধানের লক্ষ্যে তিনি উদাত্ত আহ্বান জানালেও তাতে কেউ সাড়া দেননি। প্রবীণ এই আইনজীবীর আহ্বানে কারো কর্ণপাত না করা এবং একপ্রকার ‘মূল্যহীন’ মনে করে এড়িয়ে চলার বিষয়টি আদালতপাড়ার শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন প্রবীণ আইনজীবীদের তীব্রভাবে ব্যথিত করেছে।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ও আদালতপাড়ার অভ্যন্তরীণ বলয় তৈরিতে অ্যাডভোকেট আজিজ মোল্লা, গালিব এবং জাকিরের সক্রিয়তা এখন বেশ দৃশ্যমান। সাখাওয়াত ও আনোয়ার-জাকির বলয়ের টানাটানির মাঝে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যৎ আইনজীবী সমিতি ও ফোরামের নেতৃত্বে মাঝারি ও তরুণ সারির এই উদীয়মান নেতারা নিজেদের কীভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং কার পাল্লা ভারী করেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানামুখী হিসাব-নিকাশ।

এদিকে সম্প্রতি আদালতপাড়ায় গুঞ্জন ছড়ায় যে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি সুমন নিজের পদ ও প্রভাব বজায় রাখার তাগিদে অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধানকে ‘ম্যানেজ’ করার এক গোপন উদ্যোগে নেমেছেন। খবর চাউর হয়েছে, এই জটিল পরিস্থিতি সমাধান এবং সমঝোতা ও ‘ম্যানেজ’ প্রক্রিয়ায় নেপথ্য কারিগর হিসেবে মধ্যস্থতা করছেন রাসেল প্রধান। এই সমঝোতার খবরের গুঞ্জন চাউর হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনজীবী মহলে নতুন আলোচনা ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের আগামী দিনের নেতৃত্বের দৌড়ে কারা আসছেন—তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। কোর্টপাড়ার সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, বর্তমান রাজনৈতিক জটিল সমীকরণ, গ্রহণযোগ্যতা এবং বলয়ভিত্তিক সমঝোতার প্রেক্ষিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শীর্ষ পদে অ্যাডভোকেট খোরশেদ মোল্লা (সাবেক স্পেশাল পিপি) এবং বর্তমান পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকিরের আসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফোরামের নেতৃত্ব এই দুই নেতার হাতে গেলে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার রাজনীতি নতুন রূপ পাবে এবং শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটবে বলেই মনে করছেন সাধারণ আইনজীবীরা।

নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় সাম্প্রতিক টানাপোড়েন, পিপি পদ নিয়ে বিতর্ক এবং আসন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রাজনীতিতে যদি শেষ পর্যন্ত আনোয়ার প্রধান (সভাপতি) ও জাকির হোসেন (সাধারণ সম্পাদক) পদে সমিতিতে চলে আসেন এবং সুমনের চেয়ার সুরক্ষিত হয়, তবে সাখাওয়াত হোসেন খান এবং তাঁর সাথে থাকা আজিজ মোল্লা ও গালিবদের রাজনৈতিক কৌশলের ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হবে।

এই প্রেক্ষাপটে কোর্টপাড়ার রাজনীতি নিয়ে একাধিক বিজ্ঞ আইনজীবী বলেন, যদি শেষ পর্যন্ত জাকির হোসেন সাধারণ সম্পাদক হন এবং আনোয়ার প্রধান সভাপতি পদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন, তবে এটা স্পষ্ট হবে যে—সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুসারী আজিজ মোল্লা ও গালিবদের মতো রাজপথ ও বারের সক্রিয় মাঠপর্যায়ের নেতাদের মূলত ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সাখাওয়াত বলয়ের এই নেতাদের ত্যাগ কেবল ‘কুরবানি’ বা রাজনৈতিক গুটি হিসেবেই গণ্য হবে। রাজনৈতিক শিষ্যের (আনোয়ার প্রধান) কাছে নিজের আধিপত্য হারানো এবং শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত পদে নিজের পছন্দের পূর্ণ বলয় বসাতে না পারা সাখাওয়াত হোসেন খানের রাজনৈতিক কর্তৃত্বকে মারাত্মক ধাক্কা দেবে।

স্পেশাল পিপি সুমনের নিয়োগ ঠেকানো এবং সাবেক স্পেশাল পিপি খোরশেদ মোল্লার অধিকার বা বারের স্বার্থ রক্ষার নাম করে যে বিরোধ ও লড়াই শুরু হয়েছিল, সুমন চেয়ারে বসে গেলে সেই পুরো আন্দোলনের রাজনৈতিক যৌক্তিকতা শূন্যে মিলিয়ে যাবে। সুমনকে ম্যানেজ করার বা মেনে নেওয়ার মাধ্যমে যদি সমঝোতা হয়, তবে এতে আনোয়ার প্রধান রাজনৈতিকভাবে আরও একধাপ এগিয়ে যাবেন। প্রমাণিত হবে যে, সরকারের সিদ্ধান্ত এবং বারের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আনোয়ার প্রধান যা চেয়েছেন, সেটাই বাস্তবায়িত হয়েছে।

সমিতির নির্বাচনে যদি আনোয়ার প্রধান সভাপতি এবং জাকির হোসেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। নারায়ণগঞ্জ কোর্টপাড়ায় সাখাওয়াত হোসেন খানের দীর্ঘদিনের একক প্রভাবের সমাপ্তি ঘটবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে “আনোয়ার-জাকির” যুগের সূচনা হবে। একদিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে প্রশাসনিক ও আইনি ক্ষমতা ধরে রাখা, অন্যদিকে বার সমিতির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসা জাকির হোসেনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার শীর্ষে নিয়ে যাবে। এতদিন ধরে যে সাধারণ আইনজীবীরা সাখাওয়াতের ডাকে রাজনৈতিক সংঘাত ও সমঝোতাবিরোধী অবস্থানে শামিল হয়েছিলেন, তারা নিজেদের চরম প্রতারিত মনে করবেন।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, যদি এত দ্বন্দ্ব, হট্টগোল এবং রক্তচাপ বাড়ার পর শেষ পর্যন্ত সুমন স্পেশাল পিপি হিসেবে স্থায়িত্ব পান এবং সমিতির নির্বাচনে আনোয়ার প্রধান ও জাকির হোসেন মনোনীত হয়ে বার শাসন করেন—তবে মাঠের লড়াইয়ে নামা আজিজ মোল্লা ও গালিবদের অবস্থান হবে রাজনৈতিকভাবে ‘বলির পাঁঠা’ হওয়ার শামিল। এটি সাখাওয়াত হোসেন খানের মাস্টারপ্ল্যানের চরম ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং আদালতপাড়ার রাজনীতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে আনোয়ার-জাকির বলয়ের হাতে।

 

নগরীর মাঠে কার ছক কষছেন এমপি’র ভাই রাকিব?

শহর প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ।
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
নগরীর মাঠে কার ছক কষছেন এমপি’র ভাই রাকিব?

 

​সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব এতদিন মূলত আড়াইহাজার কেন্দ্রিক সামাজিক ও পারিবারিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকলেও, সম্প্রতি তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এলাকাকে ঘিরে নানা সামাজিক ও কল্যাণমূলক কাজে অংশ নিচ্ছেন। আড়াইহাজারের সীমানা ছাড়িয়ে তাঁর এই “নগরমুখী যাত্রা” এবং নগরবাসীর কল্যাণে পদচারণাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ রাজনীতিতে নতুন নানা নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জোর চর্চা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, আড়াইহাজার ছেড়ে তাঁর নগরমুখী হওয়ার নেপথ্যে নানাবিধ উদ্দেশ্য। নাসিক নির্বাচনকে ঘিরে নগর রাজনীতিতে একজন নতুন ও তরুণ মুখের চাহিদা তৈরি হয়েছে। রাকিবুল ইসলাম রাকিব সরাসরি আড়াইহাজার থেকে রাজনীতি শুরু করলেও দীর্ঘমেয়াদে নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র পদ বা নগর রাজনীতিতে বড় অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রচার-প্রচারণা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছেন। নগরবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে “সমাজসেবক” হিসেবে নিজের এক স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।

সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের রাজনৈতিক প্রভাব আড়াইহাজারে শক্তিশালী। তবে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলায় পারিবারিক ও রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করতে সিটির মতো কৌশলগত স্থানে পারিবারিক প্রতিনিধি হিসেবে রাকিবের এই ভূমিকা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “এক ভাই আড়াইহাজারের এমপি, অন্য ভাই সিটির অভিভাবক”—এমন এক দূরদর্শী রাজনৈতিক নকশাও এর পেছনে কাজ করতে পারে।

ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি হিসেবে রাকিবের একটি নিজস্ব পরিচিতি রয়েছে। আড়াইহাজারের বাইরে নারায়ণগঞ্জ মূল শহরের উদীয়মান ব্যবসায়ী সমাজ, যুবসমাজ এবং নতুন প্রজন্মের ভোটারদের আকর্ষণ করতে তিনি কল্যাণমূলক কাজের পথ বেছে নিয়েছেন। ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষকতা, অসহায় মানুষদের সহায়তা এবং সামাজিক উদ্যোগে যুক্ত হয়ে তিনি দ্রুত নগরের সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করছেন।

ভবিষ্যতে দলীয় মনোনয়ন কিংবা দলীয় সিদ্ধান্ত যে পথেই যাক না কেন, আগে থেকেই মাঠ গুছিয়ে রাখলে নির্বাচনে রাজনৈতিক দরকষাকষিতে কিংবা সমর্থন আদায়ে একধাপ এগিয়ে থাকা যায়। তাই আড়াইহাজারের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ নগরে নিজের শক্ত বলয় তৈরি রাখাই এই নগরমুখী সামাজিক ও কল্যাণমুখী কৌশলের মূল নেপথ্য কারণ।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, রাকিবের এই “আড়াইহাজার ছেড়ে নগরমুখী কল্যাণ” কোনো আকস্মিক পদক্ষেপ নয়; বরং এটিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের রাজনীতি ও সমাজনীতিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করার একটি কৌশলগত ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন স্থানীয় বোদ্ধারা।

 

জহির হত্যায় সেই ছাত্রদল নেতার ছায়া, মামলা না হওয়ায় বাড়ছে রহস্য!

বিশেষ প্রতিবেদক, আড়াইহাজার।
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
জহির হত্যায় সেই ছাত্রদল নেতার ছায়া, মামলা না হওয়ায় বাড়ছে রহস্য!

 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও আড়াইহাজারের সীমান্তবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহির ফকির। গত বুধবার রাতে নিজ ফার্মেসি থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতি ও অপরাধজগতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘুরেফিরে আসছে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট কিছু নেতার নাম। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ, নেপথ্যের শেল্টারদাতা এবং অপরাধীদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও নিহত জহিরের পরিবার।চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পার হলেও দৃশ্যমান কোনো মামলা বা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা করা নিয়ে জহির ফকিরের সঙ্গে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসাইনের দীর্ঘদিনের বিরোধ ও দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর আগেও মোবারক ও তাঁর অনুসারীরা জহিরের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার রাতের ওই হত্যাকার্ডেও আড়াইহাজার থেকে লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, অতীতে অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নাম আসলেও এবং মোবারক হোসেনের বাসা বা সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও রহস্যজনক কারণে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বারবার আইনের আওতার বাইরে বা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, নেপথ্যে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও কিছু অসাধু মহলের শক্ত শেল্টার বা অভয়ারণ্য থাকায় তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। কার বা কাদের ইন্ধনে এই চক্রটি পার পেয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের মুখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—কীভাবে অল্প সময়ে বিপুল বিত্তবৈভব ও অর্থের মালিক হলেন এই বিতর্কিত ব্যক্তিরা? তাদের চলাফেরা, জীবনযাত্রা এবং সম্পদের পরিমাণ সাধারণ আয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না। প্রশ্ন উঠেছে, তাদের বৈধ আয়ের উৎস আসলে কী? তারা নিয়মিত বা সঠিক নিয়মে আয়কর (ইনকাম ট্যাক্স) দিয়ে আসছেন কি না এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কখনো তাদের সম্পদের উৎস বা অবৈধ অর্জিত সম্পত্তির বিষয়ে অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনা করেছে কি না, তা নিয়ে জোরালো দাবি উঠেছে।

কালাপাহাড়িয়া ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায়ই বিভিন্ন সহিংসতা, আধিপত্য বিস্তার ও খুনের ঘটনা ঘটে থাকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা অপরাধ সিন্ডিকেটের কারণে খুনি ও সন্ত্রাসীরা সহজেই পার পেয়ে যায় এবং প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলেও আইনের সঠিক প্রয়োগের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিচ্ছে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তবে জনমনে প্রশ্ন—দ্রুত আসামিরা গ্রেপ্তার হয়ে আইনের মুখোমুখি না হলে এ ধরনের নৃশংসতা ও ত্রাসের রাজত্ব কি থামবে না?

 

নারায়ণগঞ্জ আদালতে টাউট-দালালদের দাপট, নেই প্রতিকার

বিশেষ প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
নারায়ণগঞ্জ আদালতে টাউট-দালালদের দাপট, নেই প্রতিকার

 

 

নারায়ণগঞ্জ আদালত অঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম বিরাজ করছে। টাউট উচ্ছেদে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকা, দালালদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য, পোশাকবিধি লঙ্ঘন এবং আইন না মেনে শিক্ষানবিশদের স্বাধীনভাবে ওকালতি করার অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আদালত চত্বরে প্রতিদিন হাজারো বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ মামলা-সংক্রান্ত কাজের জন্য এসে টাউট ও দালালদের খপ্পরে পড়ছেন। দ্রুত কাজ পাইয়ে দেওয়া, কম খরচে জামিন করানো বা জজ-ম্যাজিস্ট্রেটের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসব প্রতারক চক্র। ফলে একদিকে চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা, অন্যদিকে বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্ধারিত নিয়মাবলির তোয়াক্কা না করা। বার কাউন্সিলের স্পষ্ট নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষানবিশদের পরিচয় নিশ্চিত করতে লাল টাই পরিধান করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ কোর্টে অনেক শিক্ষানবিশই লাল টাই পরছেন না। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষানবিশদের স্বাধীনভাবে চেম্বার চালানো বা আইনি প্র্যাকটিস করার কোনো এখতিয়ার না থাকলেও অনেকে আইনজীবী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে চেম্বার খুলে বসেছেন এবং নিয়মিত ওকালতি চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিযোগ করেন, আদালত অঙ্গনকে দালালমুক্ত করার জন্য বা টাউটদের ধরতে গেলে কিছু সুবিধাবাদী আইনজীবী তাদের পাশে এসে দাঁড়ান এবং তাদের রক্ষা করেন। এই সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর আশকারা পেয়েই টাউট-দালালরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

পেশাগত শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন রক্ষায় সচেতন আইনজীবীরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ জেলা বারের মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।

আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের দাবি, নারায়ণগঞ্জ জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন ও আদালত প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অবিলম্বে একটি শক্তিশালী “টাউট উচ্ছেদ কমিটি” গঠন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা উচিত।বার কাউন্সিলের ড্রেসকোড বাস্তবায়নে কঠোরতা আরোপ করতে হবে, যাতে শিক্ষানবিশদের চিহ্নিত করা সহজ হয়। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের তদারকি ছাড়া শিক্ষানবিশরা যেন কোনো অবস্থাতেই স্বাধীনভাবে চেম্বার পরিচালনা বা ওকালতি করতে না পারেন, সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। যেসব আইনজীবী টাউট ও দালালদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন, তাদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে বার কাউন্সিলের মাধ্যমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

 

"ঘুরপাক খাচ্ছে কোর্টপাড়ার রাজনীতি" ​ নগরীর মাঠে কার ছক কষছেন এমপি'র ভাই রাকিব? জহির হত্যায় সেই ছাত্রদল নেতার ছায়া, মামলা না হওয়ায় বাড়ছে রহস্য! নারায়ণগঞ্জ আদালতে টাউট-দালালদের দাপট, নেই প্রতিকার হাইজাদীতে সুবিধাবাদী রাজনীতির মহোৎসব: "আ'লীগ নেতা লিটন এখন বিএনপি এমপির শেল্টারে"