“রাজপথে একাই আজাদ ও রাকিব, হেভিওয়েটরা কই”?
শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ও শ্রমিকদের অসন্তোষ প্রশমনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশে রাজপথে সরব উপস্থিতি দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদকে। আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন তিনি।
এ সময় তাঁর সঙ্গে রাজপথে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে।
তবে এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের মনে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে—সব দায়িত্ব কি একা আজাদ, রাকিব ও টিপুর? জেলা ও মহানগরের অন্যান্য শীর্ষ পদধারী নেতা, সংসদ সদস্য, প্রশাসক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান এবং মেয়র পদে আলো ছড়ানো প্রার্থীরা তবে কোথায়?
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক প্রভাব ও অবস্থান জোরালো হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ ও জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদীয় মনোনয়ন কেন্দ্র করে শীর্ষ নেতাদের ব্যানার, পোস্টার, প্রচার-প্রচারণা এবং শো-ডাউন শহরজুড়ে লেগেই থাকে। কিন্তু শিল্পাঞ্চলের এই বড় সংকট ও সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির মুহূর্তে নারায়ণগঞ্জ সদর বা অন্যান্য সংসদীয় এলাকার বিএনপি সমর্থিত প্রভাবশালী নেতাদের রাজপথে দেখা যায়নি।
স্থানীয় রাজপথের একাধিক সক্রিয় কর্মী ও সাধারণ জনগণের মতে, কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে যেখানে জনদুর্ভোগ কমানো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, সেখানে হাতেগোনা কয়েজন নেতা ছাড়া বাকিদের এই নীরবতা অত্যন্ত হতাশাজনক।
আন্দোলনস্থলে চরম যানজট এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েনের মতো উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নজরুল ইসলাম আজাদ, সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের দাবি শোনেন এবং আশ্বাস দেন। নজরুল ইসলাম আজাদ জানান, শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি এবং তাঁদের ন্যায্য দাবি নিয়ে কাজ চলছে। অন্যদিকে, মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শ্রমিক ও জনদুর্ভোগ লাঘবে মাঠে নেমে সার্বিক সহযোগিতা করেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
তবে সাধারণ পথচারী, শ্রমিক নেতা ও তৃণমূল কর্মীদের প্রশ্ন—কেবল একটি নির্দিষ্ট বলয়ের নেতাদের যদি পুরো জেলার জনসংকট নিরসনে উদ্যোগ নিতে হয়, তবে নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের অন্যান্য আসনের শীর্ষ নেতারা কেন রাজপথে নামছেন না? দলীয় পদ-পদবি ও নির্বাচনের মনোনয়ন দৌড়ে সামনের সারিতে থাকা নেতাদের সংকটকালীন এই ‘মাঠবিমুখ’ আচরণ নিয়ে এখন নারায়ণগঞ্জের বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চরম চাপা ক্ষোভ ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন