উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। যদিও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ৩১ অক্টোবর, তবে বিশেষ কারণে পরদিন অর্থাৎ ১ নভেম্বর জাকজমকপূর্ণভাবে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আলোচনা সভা এবং প্রীতি সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দঘন মুহূর্তে কেক কাটা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের আইনি অধিকার সুনিশ্চিত করতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সবসময় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে। আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা ও ঐক্য বজায় রেখে আগামী দিনেও সকল ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার দৃপ্ত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের সিনিয়র ও জুনিয়র আইনজীবীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সংগঠনের উত্তরোত্তর সফলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু আন্তর্জাতিক মানবসেবা সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জেলার প্রগতিশীল ও সচেতন ভোটাররা তাকে এই দায়িত্ব প্রদান করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের নানা প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন ও মামলার শিকার হয়েও রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অবিচল থাকার পুরস্কারস্বরূপ এই জয় পেয়েছেন তিনি। কঠিন সময়েও দলের হাল ধরে রাখা এই নেতার প্রগতিশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলেও যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এই বিজয় তারই এক অনন্য প্রমাণ।
ফ্যাসিবাদী শাসনকালে যখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বহুমুখী জুলুম, নির্যাতন এবং অসংখ্য মামলার মুখে বিরোধী মতের অনেকেই কোণঠাসা ছিলেন, তখন রাজপথের লড়াইয়ে অগ্রভাগে ছিলেন অ্যাডভোকেট টিপু। সেই সংকটময় সময়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কথা ভেবে অনেকে যখন স্থানীয় প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সঙ্গে আঁসাত করে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা এবং আয়েসী জীবনযাপনে ব্যস্ত ছিলেন, তখনো রাজপথের আন্দোলন ও দলীয় নেতাকর্মীদের ছাতা ধরে রেখেছিলেন তিনি। রাজপথে তার ধারাবাহিক সরব উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিল।
রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। এই সংগঠনের নির্বাচনে সাধারণ ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণ করেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রগতিশীল ও চিন্তাশীল নাগরিকরা। এই নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে অ্যাডভোকেট টিপুর বিপুল ভোরে দাপটি বিজয়ী হওয়া প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল একজন রাজপথের লড়াকু রাজনৈতিক নেতাই নন, বরং সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রগতিশীল মহলেও তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত।
রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক এই সংগঠনে তার এই বিজয় নারায়ণগঞ্জের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন বার্তার জন্ম দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে বইতে শুরু করেছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে আড্ডার টেবিলে এখন একটাই আলোচনা—কে হচ্ছেন নগরীর আগামী কাণ্ডারি? সাধারণ মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে একাধিক সম্ভাবনাময় নেতার নাম, যার মধ্যে সবচেয়ে জোরালো আলোচনা চলছে জনবান্ধব ও তরুণ সমাজসেবক রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে ঘিরে। তবে সেই সাথে স্থানীয় রাজনীতির মাঠে অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত প্রার্থীদের সমীকরণ নিয়েও চলছে নানা বিশ্লেষণ।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম আজাদের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নগরবাসীর হৃদয় জয় করে নিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ‘মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশন’-এর ব্যানার নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি ওয়ার্ড ও মহল্লায় ধারাবাহিক মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, কোনো প্রচার-প্রচারণার মোহে নয়, বরং খাঁটি মানবসেবার তাগিদ থেকেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
তার সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ ও প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন তিনি। একইভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় দুস্থ ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মাঝে ঈদ সামগ্রী ও সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন।
শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, তীব্র খরতাপের মধ্যে শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষায় অংশ নেয়, তখন পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সামনে বিনামূল্যে ঠাণ্ডা সুপেয় পানি, স্যালাইন এবং শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে সর্বস্তরের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি এখন এক মানবিক ও নির্ভরযোগ্য নাম। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন, শহরকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও সবুজ হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণ এই নেতৃত্বের ভূমিকা বেশ কার্যকর হতে পারে।
একদিকে তরুণ সমাজসেবক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের ইতিবাচক ভাবমূর্তি যেমন আলোচনার কেন্দ্রে, অন্যদিকে নগরীর অন্যান্য পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অবস্থান নিয়েও শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠে বর্ষীয়ান মুখ হলেও সাম্প্রতিক সময়ের কিছু সমালোচনামূলক কর্মকাণ্ড ও বিতর্কের কারণে তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভোটারদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও নেতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মডেল মাসুদ কোনো এক সময় মাঠে সরব উপস্থিতি থাকলেও বর্তমানে রাজনীতি ও মাঠের কর্মসূচিতে তাকে আর আগের মতো দেখা যায় না। মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষণে তিনি বর্তমানে রাজনীতির মাঠ থেকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় বা অনুপস্থিত বললেই চলে।
মাকসুদুল আলম খোরশেদ দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের একটি পরিচ্ছন্ন বা ‘ক্লিন’ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে পেরেছেন তিনি। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সততা ও জনসেবামুখী কাজের কারণে আগামী সিটি নির্বাচনে একজন শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে আবারও নতুন করে উঠে আসতে পারে তার নাম।
সব মিলিয়ে, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ নগরীর রাজনৈতিক হাওয়া প্রতিনিয়ত রূপ পাল্টাচ্ছে। এখন দেখার বিষয় আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নতুন ও তরুণ নেতৃত্বের প্রতি তৈরি হওয়া প্রত্যাশা থাকছে নাকি অভিজ্ঞ নেতাদের পুনর্মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে আগামীর নারায়ণগঞ্জ নগরীর চূড়ান্ত রূপরেখা।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজ’-এ সদ্য প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় চরম ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। এবার কলেজটি থেকে পাসের হার মাত্র ৩১ শতাংশের কাছাকাছি। উপজেলার সেরা সরকারি ও ঐতিহ্যবাহী কলেজটিতে এমন আশঙ্কাজনক ফলাফলে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, এবার আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই অকৃতকার্য হয়েছে। উপজেলার অন্যতম প্রধান ও সরকারি কলেজ হওয়া সত্ত্বেও এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করার বিষয়টিকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মতে, এ বিপর্যয়ের অন্তরালে কয়েকটি প্রধান কারণ থাকতে পারে, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং শ্রেণি কার্যক্রমে তদারকির শিথিলতা, শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া এবং পড়াশোনায় অবহেলা।বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পাঠদানের মান নিশ্চিতকরণে প্রশাসনিক তদারকির অভাব।তরুণ প্রজন্মের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল আসক্তি পড়াশোনা থেকে তাদের দূরে সরিয়ে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, সরকারি একটি কলেজের এমন ফলাফল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রতি বছরই ফলাফল খারাপের দিকে যাচ্ছে, কিন্তু এবার তা একেবারে সর্বনিম্নে গিয়ে ঠেকেছে। এর পেছনের প্রকৃত কারণ কী, তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিত।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীদের দোষ না দিয়ে কেন এবং কী কারণে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলো—তা নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে একাডেমিক তদারকি বৃদ্ধি, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ না নিলে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি আরও চরম সংকটে পড়বে।
আপনার মতামত লিখুন