জহির হত্যায় সেই ছাত্রদল নেতার ছায়া, মামলা না হওয়ায় বাড়ছে রহস্য!
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও আড়াইহাজারের সীমান্তবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহির ফকির। গত বুধবার রাতে নিজ ফার্মেসি থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতি ও অপরাধজগতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘুরেফিরে আসছে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট কিছু নেতার নাম। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ, নেপথ্যের শেল্টারদাতা এবং অপরাধীদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও নিহত জহিরের পরিবার।চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পার হলেও দৃশ্যমান কোনো মামলা বা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা করা নিয়ে জহির ফকিরের সঙ্গে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসাইনের দীর্ঘদিনের বিরোধ ও দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর আগেও মোবারক ও তাঁর অনুসারীরা জহিরের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার রাতের ওই হত্যাকার্ডেও আড়াইহাজার থেকে লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।
এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, অতীতে অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নাম আসলেও এবং মোবারক হোসেনের বাসা বা সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও রহস্যজনক কারণে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বারবার আইনের আওতার বাইরে বা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, নেপথ্যে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও কিছু অসাধু মহলের শক্ত শেল্টার বা অভয়ারণ্য থাকায় তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। কার বা কাদের ইন্ধনে এই চক্রটি পার পেয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মুখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—কীভাবে অল্প সময়ে বিপুল বিত্তবৈভব ও অর্থের মালিক হলেন এই বিতর্কিত ব্যক্তিরা? তাদের চলাফেরা, জীবনযাত্রা এবং সম্পদের পরিমাণ সাধারণ আয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না। প্রশ্ন উঠেছে, তাদের বৈধ আয়ের উৎস আসলে কী? তারা নিয়মিত বা সঠিক নিয়মে আয়কর (ইনকাম ট্যাক্স) দিয়ে আসছেন কি না এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কখনো তাদের সম্পদের উৎস বা অবৈধ অর্জিত সম্পত্তির বিষয়ে অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনা করেছে কি না, তা নিয়ে জোরালো দাবি উঠেছে।
কালাপাহাড়িয়া ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায়ই বিভিন্ন সহিংসতা, আধিপত্য বিস্তার ও খুনের ঘটনা ঘটে থাকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা অপরাধ সিন্ডিকেটের কারণে খুনি ও সন্ত্রাসীরা সহজেই পার পেয়ে যায় এবং প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলেও আইনের সঠিক প্রয়োগের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিচ্ছে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তবে জনমনে প্রশ্ন—দ্রুত আসামিরা গ্রেপ্তার হয়ে আইনের মুখোমুখি না হলে এ ধরনের নৃশংসতা ও ত্রাসের রাজত্ব কি থামবে না?


আপনার মতামত লিখুন