খুঁজুন

৭ নভেম্বরের চেতনায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।। মাসুদুজ্জামান

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
৭ নভেম্বরের চেতনায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।। মাসুদুজ্জামান

 

 

 

মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জবাসীসহ দেশবাসী সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর)আসনের দলের মনোনিত এমপি প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেছেন, আসুন ৭ই নভেম্বরের চেতনায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।

 

 

৭ই নভেম্বর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, আমি সবার সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি।বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়,এটি ছিল জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এদিন দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত হয়ে সিপাহী ও জনতা রাজপথে নেমেছিল জাতীয় স্বাধীনতা সুরক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের অঙ্গীকার নিয়ে। ৭ নভেম্বরের এই ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়েই দেশে আধিপত্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সূচনা হয়।

 

 

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী দেশকে আধিপত্যবাদের থাবার মধ্যে ঠেলে দেয় এবং একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। ১৯৭৫ সালের সেই অন্ধকার সময়ে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দী করা হয়। কিন্তু দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনতার অভ্যুত্থানে ৭ নভেম্বর তিনি মুক্ত হন, মুক্ত হয় জাতির স্বাধীনচেতা মনন ও জাতীয় চেতনা। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হয়, বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে আসে, মানুষ আশার আলো দেখতে পায়।২০০৭ সালের ১/১১-এর অঘোষিত সামরিক শাসনের সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র আবারও গভীর সংকটে পড়ে। সেই সময়ে জনমতকে অগ্রাহ্য করে রাজনীতিকে স্তব্ধ রাখা হয়, গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। কৃত্রিম নেতৃত্ব তৈরির অপচেষ্টা চলে, জনগণের কণ্ঠরোধ ও রাজনীতিকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা হয়। দেশের জনপ্রিয় নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার এক ষড়যন্ত্র শুরু হয়, যার ফল ছিল রাষ্ট্রীয় স্থবিরতা ও জনগণের রাজনৈতিক অধিকার হরণের এক ভয়াবহ পরিণতি।

 

 

তিনি বলেন. এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, গুম,খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার রাজত্ব কায়েম করেছে। গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বছরের পর বছর অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি, জননেতা তারেক রহমানের ওপর চালানো হয়েছে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, একের পর এক মিথ্যা মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করা হয়েছে তাঁকে। তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর চালানো হয়েছে ভয়াবহ নিপীড়ন, কারাবরণ, গুম ও খুনের মতো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে “আয়নাঘর” নামের এক গোপন নির্যাতন কেন্দ্র, যেখানে বিরোধী মতের মানুষদের ওপর অকথ্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তারা ভয় ও দমননীতির রাজনীতি চালিয়ে রাষ্ট্রকে পরিণত করেছে একদলীয় দমনযন্ত্রে। তবে ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ প্রমাণ করেছে, এই জাতি গণতন্ত্রপ্রিয়, এই জাতি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না। আজ সময় এসেছে জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধকরার। আমাদের লক্ষ্য একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।

 

 

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। এই শহর এক সময় ছিল শিল্প, শ্রম ও সংগ্রামের শহর। এখন সময় এসেছে সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের। দলমত নির্বিশেষে এক হয়ে আমরা নারায়ণগঞ্জকে গড়ে তুলব উন্নয়ন, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার শহর হিসেবে। আমি, মোঃ মাসুদুজ্জামান মাসুদ, বিশ্বাস করি,শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা আবারো গণতন্ত্র ওস্বাধীনতার বাংলাদেশ গড়ে তুলব। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সকল দেশপ্রেমিক, মুক্তিযোদ্ধা, তরুণ ও শ্রমজীবী মানুষকে আহ্ধসঢ়;বান জানাই আসুন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাই।

নগরীর মাঠে কার ছক কষছেন এমপি’র ভাই রাকিব?

শহর প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ।
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
নগরীর মাঠে কার ছক কষছেন এমপি’র ভাই রাকিব?

 

​সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব এতদিন মূলত আড়াইহাজার কেন্দ্রিক সামাজিক ও পারিবারিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকলেও, সম্প্রতি তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এলাকাকে ঘিরে নানা সামাজিক ও কল্যাণমূলক কাজে অংশ নিচ্ছেন। আড়াইহাজারের সীমানা ছাড়িয়ে তাঁর এই “নগরমুখী যাত্রা” এবং নগরবাসীর কল্যাণে পদচারণাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ রাজনীতিতে নতুন নানা নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জোর চর্চা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, আড়াইহাজার ছেড়ে তাঁর নগরমুখী হওয়ার নেপথ্যে নানাবিধ উদ্দেশ্য। নাসিক নির্বাচনকে ঘিরে নগর রাজনীতিতে একজন নতুন ও তরুণ মুখের চাহিদা তৈরি হয়েছে। রাকিবুল ইসলাম রাকিব সরাসরি আড়াইহাজার থেকে রাজনীতি শুরু করলেও দীর্ঘমেয়াদে নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র পদ বা নগর রাজনীতিতে বড় অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রচার-প্রচারণা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছেন। নগরবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে “সমাজসেবক” হিসেবে নিজের এক স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।

সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের রাজনৈতিক প্রভাব আড়াইহাজারে শক্তিশালী। তবে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলায় পারিবারিক ও রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করতে সিটির মতো কৌশলগত স্থানে পারিবারিক প্রতিনিধি হিসেবে রাকিবের এই ভূমিকা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “এক ভাই আড়াইহাজারের এমপি, অন্য ভাই সিটির অভিভাবক”—এমন এক দূরদর্শী রাজনৈতিক নকশাও এর পেছনে কাজ করতে পারে।

ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি হিসেবে রাকিবের একটি নিজস্ব পরিচিতি রয়েছে। আড়াইহাজারের বাইরে নারায়ণগঞ্জ মূল শহরের উদীয়মান ব্যবসায়ী সমাজ, যুবসমাজ এবং নতুন প্রজন্মের ভোটারদের আকর্ষণ করতে তিনি কল্যাণমূলক কাজের পথ বেছে নিয়েছেন। ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষকতা, অসহায় মানুষদের সহায়তা এবং সামাজিক উদ্যোগে যুক্ত হয়ে তিনি দ্রুত নগরের সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করছেন।

ভবিষ্যতে দলীয় মনোনয়ন কিংবা দলীয় সিদ্ধান্ত যে পথেই যাক না কেন, আগে থেকেই মাঠ গুছিয়ে রাখলে নির্বাচনে রাজনৈতিক দরকষাকষিতে কিংবা সমর্থন আদায়ে একধাপ এগিয়ে থাকা যায়। তাই আড়াইহাজারের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ নগরে নিজের শক্ত বলয় তৈরি রাখাই এই নগরমুখী সামাজিক ও কল্যাণমুখী কৌশলের মূল নেপথ্য কারণ।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, রাকিবের এই “আড়াইহাজার ছেড়ে নগরমুখী কল্যাণ” কোনো আকস্মিক পদক্ষেপ নয়; বরং এটিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের রাজনীতি ও সমাজনীতিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করার একটি কৌশলগত ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন স্থানীয় বোদ্ধারা।

 

জহির হত্যায় সেই ছাত্রদল নেতার ছায়া, মামলা না হওয়ায় বাড়ছে রহস্য!

বিশেষ প্রতিবেদক, আড়াইহাজার।
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
জহির হত্যায় সেই ছাত্রদল নেতার ছায়া, মামলা না হওয়ায় বাড়ছে রহস্য!

 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও আড়াইহাজারের সীমান্তবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহির ফকির। গত বুধবার রাতে নিজ ফার্মেসি থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতি ও অপরাধজগতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘুরেফিরে আসছে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট কিছু নেতার নাম। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ, নেপথ্যের শেল্টারদাতা এবং অপরাধীদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও নিহত জহিরের পরিবার।চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পার হলেও দৃশ্যমান কোনো মামলা বা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা করা নিয়ে জহির ফকিরের সঙ্গে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসাইনের দীর্ঘদিনের বিরোধ ও দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর আগেও মোবারক ও তাঁর অনুসারীরা জহিরের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার রাতের ওই হত্যাকার্ডেও আড়াইহাজার থেকে লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, অতীতে অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নাম আসলেও এবং মোবারক হোসেনের বাসা বা সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও রহস্যজনক কারণে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বারবার আইনের আওতার বাইরে বা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, নেপথ্যে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও কিছু অসাধু মহলের শক্ত শেল্টার বা অভয়ারণ্য থাকায় তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। কার বা কাদের ইন্ধনে এই চক্রটি পার পেয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের মুখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—কীভাবে অল্প সময়ে বিপুল বিত্তবৈভব ও অর্থের মালিক হলেন এই বিতর্কিত ব্যক্তিরা? তাদের চলাফেরা, জীবনযাত্রা এবং সম্পদের পরিমাণ সাধারণ আয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না। প্রশ্ন উঠেছে, তাদের বৈধ আয়ের উৎস আসলে কী? তারা নিয়মিত বা সঠিক নিয়মে আয়কর (ইনকাম ট্যাক্স) দিয়ে আসছেন কি না এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কখনো তাদের সম্পদের উৎস বা অবৈধ অর্জিত সম্পত্তির বিষয়ে অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনা করেছে কি না, তা নিয়ে জোরালো দাবি উঠেছে।

কালাপাহাড়িয়া ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায়ই বিভিন্ন সহিংসতা, আধিপত্য বিস্তার ও খুনের ঘটনা ঘটে থাকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা অপরাধ সিন্ডিকেটের কারণে খুনি ও সন্ত্রাসীরা সহজেই পার পেয়ে যায় এবং প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলেও আইনের সঠিক প্রয়োগের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিচ্ছে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তবে জনমনে প্রশ্ন—দ্রুত আসামিরা গ্রেপ্তার হয়ে আইনের মুখোমুখি না হলে এ ধরনের নৃশংসতা ও ত্রাসের রাজত্ব কি থামবে না?

 

নারায়ণগঞ্জ আদালতে টাউট-দালালদের দাপট, নেই প্রতিকার

বিশেষ প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
নারায়ণগঞ্জ আদালতে টাউট-দালালদের দাপট, নেই প্রতিকার

 

 

নারায়ণগঞ্জ আদালত অঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম বিরাজ করছে। টাউট উচ্ছেদে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকা, দালালদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য, পোশাকবিধি লঙ্ঘন এবং আইন না মেনে শিক্ষানবিশদের স্বাধীনভাবে ওকালতি করার অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আদালত চত্বরে প্রতিদিন হাজারো বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ মামলা-সংক্রান্ত কাজের জন্য এসে টাউট ও দালালদের খপ্পরে পড়ছেন। দ্রুত কাজ পাইয়ে দেওয়া, কম খরচে জামিন করানো বা জজ-ম্যাজিস্ট্রেটের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসব প্রতারক চক্র। ফলে একদিকে চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা, অন্যদিকে বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্ধারিত নিয়মাবলির তোয়াক্কা না করা। বার কাউন্সিলের স্পষ্ট নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষানবিশদের পরিচয় নিশ্চিত করতে লাল টাই পরিধান করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ কোর্টে অনেক শিক্ষানবিশই লাল টাই পরছেন না। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষানবিশদের স্বাধীনভাবে চেম্বার চালানো বা আইনি প্র্যাকটিস করার কোনো এখতিয়ার না থাকলেও অনেকে আইনজীবী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে চেম্বার খুলে বসেছেন এবং নিয়মিত ওকালতি চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিযোগ করেন, আদালত অঙ্গনকে দালালমুক্ত করার জন্য বা টাউটদের ধরতে গেলে কিছু সুবিধাবাদী আইনজীবী তাদের পাশে এসে দাঁড়ান এবং তাদের রক্ষা করেন। এই সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর আশকারা পেয়েই টাউট-দালালরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

পেশাগত শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন রক্ষায় সচেতন আইনজীবীরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ জেলা বারের মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।

আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের দাবি, নারায়ণগঞ্জ জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন ও আদালত প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অবিলম্বে একটি শক্তিশালী “টাউট উচ্ছেদ কমিটি” গঠন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা উচিত।বার কাউন্সিলের ড্রেসকোড বাস্তবায়নে কঠোরতা আরোপ করতে হবে, যাতে শিক্ষানবিশদের চিহ্নিত করা সহজ হয়। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের তদারকি ছাড়া শিক্ষানবিশরা যেন কোনো অবস্থাতেই স্বাধীনভাবে চেম্বার পরিচালনা বা ওকালতি করতে না পারেন, সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। যেসব আইনজীবী টাউট ও দালালদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন, তাদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে বার কাউন্সিলের মাধ্যমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

 

নগরীর মাঠে কার ছক কষছেন এমপি'র ভাই রাকিব? জহির হত্যায় সেই ছাত্রদল নেতার ছায়া, মামলা না হওয়ায় বাড়ছে রহস্য! নারায়ণগঞ্জ আদালতে টাউট-দালালদের দাপট, নেই প্রতিকার হাইজাদীতে সুবিধাবাদী রাজনীতির মহোৎসব: "আ'লীগ নেতা লিটন এখন বিএনপি এমপির শেল্টারে" "ওসমানের পর জহির খুন, তারপর কে"?