খুঁজুন

“ফতুল্লার ঝুট সসন্ত্রাসের নেপথ্যে কারা”?

ফতুল্লা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ।
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
“ফতুল্লার ঝুট সসন্ত্রাসের নেপথ্যে কারা”?

 

​শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক কারখানার কোটি কোটি টাকার ‘ঝুট ব্যবসা’ এখন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের শঙ্কা ও বাসিন্দাদের কাছে আতঙ্কের অপর নাম। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে একের পর এক আধিপত্য বিস্তার, অস্ত্রের মহড়া ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা গেলেও এই লাভজনক খাতের নৈরাজ্যের কোনো অবসান ঘটেনি; বরং বদলেছে শুধু নিয়ন্ত্রকদের নাম ও হাত। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফতুল্লার বিশাল এই ঝুট সেক্টর বর্তমানে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু, স্থানীয় প্রভাবশালী রিয়াদ চৌধুরী এবং রাসেল সিন্ডিকেটের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে বন্দি হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সরকার পরিবর্তনের পরপরই বিসিক শিল্পনগরী ও ফতুল্লার বিভিন্ন পোশাক কারখানার ঝুট নামানো কেন্দ্র করে তৈরি হয় নতুন বলয়। এর নেপথ্যে মূল কলকাঠি নাড়ছেন মশিউর রহমান রনি ও শহীদুল ইসলাম টিটুর মতো উচ্চপর্যায়ের স্থানীয় নেতারা। যদিও তারা প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন, বাস্তবে তাদের অনুসারী ও অনুগত ক্যাডার বাহিনী পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এই বলয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাঠপর্যায়ে স্পট ও গার্মেন্টস দখলের মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে রিয়াদ চৌধুরী ও রাসেল সিন্ডিকেট।

অনুসন্ধানে ফতুল্লার ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণে আরও বেশ কিছু নাম সামনে এসেছে। রনি ও টিটু বলয়ের সহযোগী হয়ে মাঠে সরাসরি সক্রিয় রয়েছে— এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব খাইরুল আলম জসিম ও যুবদল কর্মী অভি। মাসুদুর রহমান এবং তার নিয়ন্ত্রণাধীন অস্ত্রধারী গ্রুপ। স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য হিসেবে পরিচিত হিসাম, সুজন এবং অপু, যারা কারখানায় অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজ পরিচালনা করে।

জানাগেছে, ​৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন বিকেলেই ফতুল্লা বিসিক ও সংলগ্ন কারখানাগুলোর পূর্বের নিয়ন্ত্রণকারীদের তাড়িয়ে রাতারাতি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালায় নতুন রাজনৈতিক বলয় ও স্থানীয় ক্যাডাররা।

​২৮ আগস্ট ২০২৪ বিসিক শিল্পনগরীর একটি পোশাক কারখানার ঝুট নামানো কেন্দ্র করে রিয়াদ চৌধুরী ও রাসেল পক্ষের সঙ্গে অন্য একটি স্থানীয় গ্রুপের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ঝুটের কাজ না পেয়ে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় জসিম ও অভি গ্রুপের ক্যাডাররা।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ বিসিকের ১ নম্বর গলি ও চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ঝুটের স্পট দখল নিয়ে মশিউর রহমান রনি ও শহীদুল ইসলাম টিটুর অনুসারী গ্রুপের মধ্যে মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রকাশ্যে অন্তত ১০-১২ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় এবং একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে এক পথচারী ও এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।

৩ অক্টোবর ২০২৪ এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব খাইরুল আলম জসিম ও অভি গ্রুপের ক্যাডাররা একটি কারখানার সামনে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে অন্য ব্যবসায়ীদের তাড়িয়ে দেয় এবং ঝুট বোঝাই একটি ট্রাক আটকে বিপুল পরিমাণ চাঁদা দাবি করে।

১২ অক্টোবর ২০২৪ বারবার ককটেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনায় বিসিক এলাকায় যৌথবাহিনী ও পুলিশ চিরুনি অভিযান চালায়। এ সময় মাসুদুর রহমান, হিসাম ও সুজন গ্রুপের ৩ জন সক্রিয় ক্যাডারকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

২৪ অক্টোবর ২০২৪ যৌথবাহিনীর অভিযানের কিছুদিন যেতে না যেতেই ফতুল্লার কুতুবপুর ও বিসিক এলাকায় পুনরায় রনি ও টিটু সমর্থকদের একচ্ছত্র আধিপত্য জানান দিয়ে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে শো-ডাউন ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় সশস্ত্র ক্যাডাররা।

ফতুল্লার তৈরি পোশাক কারখানার মালিকেরা সরাসরি এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন। ন্যায্যমূল্যে কোনো নিরপেক্ষ ব্যবসায়ীর কাছে ঝুট বিক্রি করার সুযোগ নেই। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে জোরপূর্বক ঝুট নামিয়ে নেয় এই চক্রটি। বাধা দিলে কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া বা পণ্যবাহী গাড়ি ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে।

ধারাবাহিক সংঘর্ষ ও মহড়ার পর যৌথবাহিনী ও পুলিশ একাধিক অভিযান চালিয়ে সাময়িক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এবং কিছু নিম্নস্তরের ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের স্পষ্ট দাবি, শুধু মাঠপর্যায়ের দু-একজনকে গ্রেপ্তার না করে মূল মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে ফতুল্লার এই নৈরাজ্য ও ঝুট সন্ত্রাস স্থায়ীভাবে থামবে না।

 

নিষিদ্ধ ফরেক্স X-FUSION TAG MARKETS দ্বারা ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পাচারের আশঙ্কা! ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
নিষিদ্ধ ফরেক্স X-FUSION TAG MARKETS দ্বারা ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পাচারের আশঙ্কা! ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

স্টাফ রিপোর্টারঃ MTFE, ইউনিপে, যুবকের অতীতের বিতর্কের পর আবারও আলোচনায় X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটস)। অতিরিক্ত মুনাফার প্রলোভনে দেশের মানুষের নিকট থেকে হাতিয়ে নিয়েছে অন্তত
১, ২০০ (এক হাজার দুইশত) কোটি টাকা।

দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে অনলাইনভিত্তিক উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম। X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটস) ।ফরেক্স ট্রেডিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর ট্রেডিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্লক চেইনের ( Binance, USDT, Bitcoin) মাধ্যমে লাখে ১৫০০-২৫০০০ টাকা আয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহের তথ্য উঠছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

এ কর্মকান্ডের মুল হোতা ইন্জিনিয়ার আতিকুর রহমান সহ অন্তত ৪৮ জন প্রতারক চক্র পরিচালনা করেছে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম কথিত ফরেক্স নামীয় X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটস)। সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এরশাদ (রাজশাহী ) , আজাহার (রাজশাহী, বাগমারা ,তাহেরপুর), ডলার জাইবুর (রাজশাহী, বাগমারা ,ভবানীগঞ্জ ইত:পূর্বে পিএলসি সহ একাধিক স্ক্যাম কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে রাজশাহীতে কিনেছেন একাধিক ফ্ল্যাট), হোসাইন আলী ( মানিকপুর বড়াইগ্রাম, নাটোর, মবিল ব্যবসায়ী হতে বর্তমানে কোটিপতি বনে গেছেন ), ফোরকান , খাইরুল, মোয়াজ্জেম, সাইফুল মামা (কুমিল্লা ইতোঃপূর্বে ডিজিটাল এএফসি কয়েন এর মাধ্যমে পাচার করেছেন প্রায় ৩০০ কোটি টাকা), সাখাওয়াত (ঢাকা) সোহেল রানা, (ঢাকা) মজিদ (নাটোর), জুয়েল (সিরাজগঞ্জ) মহিউদ্দিন জামিল (ঢাকা ইতঃপূর্বে হিলটন এপেক্স, MTFE, ক্রস মার্কেট সহ একাধিক স্ক্যাম কোম্পানিতে ছিলেন) মোয়াজ্জেম, সাদ্দাম, নাজমুল ( রাজশাহী ভবানীগঞ্জ), জাফর (পুঠিয়া ইতিপূর্বে ডিজিটাল ইনভেস্টমেন্ট ও এএফসি কয়েনের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা), সহ চট্টগ্রাম, ফেনী, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, পাবনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, আরো অন্তত ৩০ টি জেলার অঙ্গাতনামা বিভিন্ন লোকজন প্রতিনিধি হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি, দিনমজুর থেকে সাধারণ মানুষ অধিক মুনাফার লোভে ব্যাংক ডিপিএস, এফডিআর, পোষ্ট অফিসের সঞ্চয় পত্র, গরু ছাগল, জায়গা জমি বিক্রি করে বিনিয়োগ করে যাচ্ছেন X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটসে। কারণ, নভেম্বরে ৫০০০ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ৫০০০ মার্কিন ডলার বোনাস সহ আরো পুরস্কার ৫০০ মার্কিন ডলার। অর্ধেক বিনিয়োগে অর্ধেক বোনাস, সাথে রয়েছে অধিক মুনাফার প্রলোভন ও চোখ ধাঁধানো পুরস্কার। এমন ই অফার দিচ্ছে মানুষের কাছে থেকে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ব্লক চেইনের ( Binance, USDT, Bitcoin) মাধ্যমে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সব মিলিয়ে অনুসন্ধানে এ যাবৎ কালে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

ভয়ংকর মুনাফার প্রলোভনের
প্রচারণায় যদি ১ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে প্রতি মাসে ১৫০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলার আয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তাহলে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কারণ, এই হিসাবে মাসিক মুনাফার হার দাঁড়ায় ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ যা বাস্তবে অসম্ভব ।

একসময় MTFE, ইউনিপে ও যুবককে ঘিরে ওঠা বিতর্ক এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা এখনো অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি করে।

অনলাইন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে সংগৃহীত অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি, ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক মাধ্যম ব্যবহার করে দেশের বাইরে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এই অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম কথিত ফরেক্স কোম্পানি X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটস) বাংলাদেশে পুলিশ প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে প্রায় ১৩ মাস যাবৎ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রতারক চক্র।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জনাব মোঃ মোস্তাকুর রহমান গনমাধ্যমের এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন,
” আমরা নিষিদ্ধ ফরেক্স মার্কেট, অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সহ প্রতারণা করতে পারে এমন ওয়েবসাইটে ও কোম্পানির বিষয়ে সতর্ক করে যাচ্ছি তার মধ্যে অন্যতম X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটস) , ক্রস মার্কেট, ব্রটব্রো, আরবিক্সল্যাব, ট্রেড ল্যাব, অতিথি ডটকম সহ আরো অনেক কোম্পানি। সাধারণ জনগণের উচিৎ অধিক মুনাফার প্রলোভনে অন্ধকারে টাকা বিনিয়োগ না করা এবং প্রতারক চক্রদের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করা। এগুলোর কোন বৈধতা নেই। ”

অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্তে বিভাগ (CID) সিআইডি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ গনমাধ্যমের বিভিন্ন প্রেসব্রিফিংয়ে এই সকল স্ক্যাম কোম্পানি, নিষিদ্ধ ফরেক্স, অনলাইন জুয়া , ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে তৎপর আছেন বলে জানিয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত যেকোন প্রতারনা মূলক ওয়েবসাইট বন্ধ করতে বিটিআরসিকে অবগত করে যাচ্ছেন।

অন্য দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (DB) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম গনমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ” অপরাধী যেই হোক ;এসকল অপরাধীদের আটক করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত। ইতঃপূর্বেও ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে । আপনারা দেখতে পাচ্ছেন প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান হতে অপরাধীদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করে সাইবার সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে মামলা দায়ের করে বিচারের জন্য আদালতে প্রেরণ করে যাচ্ছি। তবে গনমাধ্যমে এবং সাধারণ জনগণ যদি এগিয়ে আসে, প্রতারক চক্রকে আরো দ্রুত আটক করতে পারবো বলে আশা করি । এজন্য আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি। ”

বিভিন্ন নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মহোদয় গন গনমাধ্যমের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেন,
” মানুষ তাদের লোভের কারণে এবং অতিরিক্ত মুনাফার লোভে বিভিন্ন নিষিদ্ধ কোম্পানিতে ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। এটা যদি অতি দ্রুত লাগাম টেনে না ধরা হয় তবে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এগুলোর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সাধারণ জনগণ , পুলিশ- প্রশাসন সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ”

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, মূলত এসকল কোম্পানি এবং অপরাধীদের কোন নির্দিষ্ট অফিস নেই। তারা বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের হোটেলে বিজনেস সেমিনার দেখায় যেন পুলিশ প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে পারে। এমনকি অপরাধীরা একেক দিন একেক হোটেলে বসে, লোকেশন পরিবর্তন করে, ভার্চুয়াল মিটিংয়ের মাধ্যমে তাদের চক্র এবং গ্ৰাহকদের সাথে যোগাযোগ করেন। এর সাথে হোটেল কর্তৃপক্ষ জড়িত আছেন, কারণ তারা জেনে এই সকল স্ক্যাম কোম্পানির প্রোগ্রাম বা সেমিনার করার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। উল্লেখ্য গত ৬ নভেম্বর ২০২৬ X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটস) এর অন্যতম সোহেল রানা লিডার কুয়াকাটায় প্রায় ৪৫০ জন বিনিয়োগকারীদের নিয়ে একটি সেমিনার করেছেন যে যেখানে বলা হয়েছে ৫০০০ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ৫০০০ মার্কিন ডলার বোনাস এবং আরো থাকছে ৫০০ মার্কিন ডলার পুরস্কার!!

মতামত জানতে চাইলে উপরোক্ত প্রতারক চক্রদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেন নাই। কারণ তারা অপরিচিত লোকের নম্বর রিসিভ করেন না। তাই তাদের মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি কি তারা যে মোবাইল সিম নম্বর ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের নামে রেজিষ্ট্রেশন করা নেই বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।

সাধারণ জনগণের দাবী অতিদ্রুত X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটস) এর কার্যক্রম বন্ধ সহ প্রতারক চক্রদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা আরো বাড়ানো দরকার। যদি পুলিশ-প্রশাসন ব্যার্থ হয়, তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

“ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেন শ্রমিকদের বেতন ৩০-৪০ হাজার দেওয়া সম্ভব”।। মাসুদুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ।
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
“ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেন শ্রমিকদের বেতন ৩০-৪০ হাজার দেওয়া সম্ভব”।। মাসুদুজ্জামান

​

​বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রমরমা ব্যবসার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার বাস্তবতার মুখোশ উন্মোচন করেছেন নারায়ণগঞ্জের এক শীর্ষস্থানীয় গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের ব্যর্থতা, পদে পদে ঘুষ ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার নামে চলা হরিলুটের কড়া সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এসব দুর্নীতি বন্ধ হলে দেশের পোশাক শ্রমিকদের বেতন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় উন্নীত করলেও কোনো মালিকের লোকসান হবে না।

সম্প্রতি দেশের এই তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের ভেতরের চিত্র তুলে ধরে এক চাঞ্চল্যকর ও সাহসী বক্তব্য দেন। যা নিয়ে ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষের মাঝেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

যেখানে খরচ হয় উপার্জনের বড় অংশ
​ব্যবসায়ী নেতার দাবি অনুযায়ী, দেশের পোশাক কারখানাগুলো পদে পদে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির শিকার। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের লাইসেন্স, কাগজপত্রের নবায়ন ও ছাড়পত্র নিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের ঘাম ঝরাতে হয়। কিন্তু সবচেয়ে লজ্জাজনক হলো— দাপ্তরিক ফি বা সরকারের নির্ধারিত রাজস্বের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, বিশেষ দিন, জন্মবার্ষিকী কিংবা মৃত্যুবার্ষিকীর চাঁদা হিসেবে প্রভাবশালী মহলের পকেটে চলে যায় মোটা অঙ্কের টাকা।

তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, কারখানা সচল রাখতে গিয়ে মালিকপক্ষকে যে অনুৎপাদনশীল ও অবৈধ খরচ বহন করতে হয়, তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সাধারণ শ্রমিকদের বেতনের ওপর।

সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ মনে করেন, পোশাক খাতের শ্রমিকরা কম বেতন পাওয়ার পেছনে বোধহয় কেবল মালিকপক্ষের লোভ বা নিষ্ঠুরতা দায়ী। কিন্তু এই ব্যবসায়ী ভিন্ন এক সত্য সামনে এনেছেন। তিনি বলেছেন, যারা পোশাক শ্রমিকদের কম বেতনে কাজ করতে দেখে বা তাদের পেশাকে অবমূল্যায়ন করে ঘৃণা প্রকাশ করেন, তারা হয়তো জানেন না যে— এই ঘুষ ও চাঁদাবাজির অবৈধ টাকা শেষ পর্যন্ত সেই সুবিধাবাদী ও দুর্নীতিবাজদের পকেটেই যায়, যারা পরোক্ষভাবে এই শোষণ টিকিয়ে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে পোশাক শিল্পকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতাসক্ষম করতে এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ (এক ছাদের নিচে সব সেবা) চালুর কথা বলে আসছে সরকারগুলো। কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি সরকারের আমলেই এই সেবা দিতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। ঘুষ, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হওয়ায় দেশের রপ্তানি খাত আজ এক ধরনের জিম্মি দশায় পড়েছে।

বিদেশের মাটিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, উন্নত বা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোতে ব্যবসায়ীদের অযথা ঘুষ বা চাঁদা দিতে হয় না। ফলে তারা উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য ও ন্যায্য মুনাফা যেমন পায়, তেমনি শ্রমিকদেরও আকর্ষণীয় ও জীবনোপযোগী মজুরি দিতে সক্ষম হয়।

প্রতিবেদনে সবচেয়ে মর্মান্তিক যে দিকটি উঠে এসেছে, তা হলো ন্যায্য বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের রাজপথে নেমে আসার করুণ পরিণতি। একদিকে সিন্ডিকেটের কারণে কলকারখানার উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ব্যয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত বেতন বাড়াতে পারে না। আর এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা যখন রাস্তায় নামেন, তখন তাদের বুলেট ও লাঠিপেটার মুখোমুখি হতে হয়। বহু শ্রমিককে রাজপথে রক্ত দিতে হয়, এমনকি লাশ হয়ে ফিরতে হয় নিজ ঘরে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জের এই ব্যবসায়ীর বক্তব্য কেবল কোনো একক কারখানার চিত্র নয়; এটি গোটা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের এক নির্মম দর্পণ। সরকারের নীতিনির্ধারকরা যদি এখনই কঠোর হাতে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন করে সত্যিকার অর্থে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে এই খাতের মূল চালিকাশক্তি শ্রমিকদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে।

 

“রাজপথে একাই আজাদ ও রাকিব, হেভিওয়েটরা কই”?

বিশেষ প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ।
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
“রাজপথে একাই আজাদ ও রাকিব, হেভিওয়েটরা কই”?

 

​

​শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ও শ্রমিকদের অসন্তোষ প্রশমনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশে রাজপথে সরব উপস্থিতি দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদকে। আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন তিনি।

এ সময় তাঁর সঙ্গে রাজপথে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে।

তবে এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের মনে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে—সব দায়িত্ব কি একা আজাদ, রাকিব ও টিপুর? জেলা ও মহানগরের অন্যান্য শীর্ষ পদধারী নেতা, সংসদ সদস্য, প্রশাসক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান  এবং মেয়র পদে আলো ছড়ানো প্রার্থীরা তবে কোথায়?

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক প্রভাব ও অবস্থান জোরালো হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ ও জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদীয় মনোনয়ন কেন্দ্র করে শীর্ষ নেতাদের ব্যানার, পোস্টার, প্রচার-প্রচারণা এবং শো-ডাউন শহরজুড়ে লেগেই থাকে। কিন্তু শিল্পাঞ্চলের এই বড় সংকট ও সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির মুহূর্তে নারায়ণগঞ্জ সদর বা অন্যান্য সংসদীয় এলাকার বিএনপি সমর্থিত প্রভাবশালী নেতাদের রাজপথে দেখা যায়নি।

স্থানীয় রাজপথের একাধিক সক্রিয় কর্মী ও সাধারণ জনগণের মতে, কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে যেখানে জনদুর্ভোগ কমানো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, সেখানে হাতেগোনা কয়েজন নেতা ছাড়া বাকিদের এই নীরবতা অত্যন্ত হতাশাজনক।

আন্দোলনস্থলে চরম যানজট এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েনের মতো উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নজরুল ইসলাম আজাদ, সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের দাবি শোনেন এবং আশ্বাস দেন। নজরুল ইসলাম আজাদ জানান, শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি এবং তাঁদের ন্যায্য দাবি নিয়ে কাজ চলছে। অন্যদিকে, মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শ্রমিক ও জনদুর্ভোগ লাঘবে মাঠে নেমে সার্বিক সহযোগিতা করেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

তবে সাধারণ পথচারী, শ্রমিক নেতা ও তৃণমূল কর্মীদের প্রশ্ন—কেবল একটি নির্দিষ্ট বলয়ের নেতাদের যদি পুরো জেলার জনসংকট নিরসনে উদ্যোগ নিতে হয়, তবে নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের অন্যান্য আসনের শীর্ষ নেতারা কেন রাজপথে নামছেন না? দলীয় পদ-পদবি ও নির্বাচনের মনোনয়ন দৌড়ে সামনের সারিতে থাকা নেতাদের সংকটকালীন এই ‘মাঠবিমুখ’ আচরণ নিয়ে এখন নারায়ণগঞ্জের বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চরম চাপা ক্ষোভ ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

 

নিষিদ্ধ ফরেক্স X-FUSION TAG MARKETS দ্বারা ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পাচারের আশঙ্কা! ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে লাখো মানুষ "ফতুল্লার ঝুট সসন্ত্রাসের নেপথ্যে কারা"? "ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেন শ্রমিকদের বেতন ৩০-৪০ হাজার দেওয়া সম্ভব"।। মাসুদুজ্জামান "রাজপথে একাই আজাদ ও রাকিব, হেভিওয়েটরা কই"? কারো ইন্ধনে পড়বেন না।।এমপি আজাদ