আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব গায়েবি, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হবে।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
এ সময় আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত ২৫ জেলায় আড়াই হাজার এমন মামলা শনাক্ত করা হয়েছে। এসব মামলা প্রত্যাহার করা হবে আগামী ৭ দিনের মধ্যে। এ ধরনের বাকি মামলা ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রত্যাহার করা হবে।
এছাড়া, আইন উপদেষ্টা জানান, সাইবার সিকিউরিটি আইনে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে দায়েরকৃত সব মামলা ২ সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যাহার করা হবে।
আসিফ নজরুল বলেন, ৫ আগস্টের পরে যেসব হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে, এর একটাও করেনি সরকার। এই মামলাগুলোর বস্তনিষ্ঠতা না থাকলে পুলিশ যেন কাউকে গ্রেফতার না করে সেজন্য সরকার নির্দেশনা দিয়েছে। বিচার বিভাগ এখন স্বাধীন, ন্যায় বিচার পাবে ভুক্তভোগীরা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে আইনজীবী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রধান আস্থা ছিলেন অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা। তবে গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আইন ও বিচার বিভাগের এক আদেশে তাঁর নিয়োগ বাতিল করে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে এই পদে নতুন পিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
খোরশেদ আলম মোল্লাকে আকস্মিকভাবে সরিয়ে নতুন পিপি নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় তীব্র অসন্তোষ ও আইনজীবীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। তার কারণও আছে বেশ।কারণ হিসেবে সাধারণ আইনজীবীরা বলছেন, অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা একজন অত্যন্ত ত্যাগী ও প্রবীণ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী। তিনি বিগত দিনে সমস্ত বির্তকের বাহিরে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে। তিনি দায়িত্ব পালনকালে আদালতপাড়া ও আইনজীবীদের ভাবমূর্তি অত্যন্ত সুন্দরভাবে রক্ষা করেছিলেন, যার কারণে সাধারণ আইনজীবী ও দলের সকলের কাছে তিনি অত্যন্ত আস্থাশীল ও গ্রহণযোগ্য ছিলেন।
খোরশেদ আলম মোল্লার নিয়োগ বাতিল করে নতুন পিপি হিসেবে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে দায়িত্ব দেওয়ার পর সাধারণ আইনজীবীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। নতুন পিপির বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাঁর নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এই নিয়োগের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের প্রতিবাদের মুখে নতুন পিপি সুমন মিয়া ট্রাইব্যুনালে এখনো তাঁর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না। পিপির কার্যালয় বা চেম্বারে এখনোও ঝুলছে তালা। তালা ঝুলার বিষয়ে অনেকের ধারণা ভিন্ন হলেও খোদ সাবেক স্পেশাল পিপি অ্যাড. খোরশেদ মোল্লা তার চেয়ার চলে যাওয়ার সঙ্গেই সঙ্গেই কার্যালয়ের চাবি বুঝিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিকট।
অতি সম্প্রতি আদালতপাড়ার গুটিকয়েক সুবিধাবাদী আইনজীবী নেতা সুমনকে পিপির আসনে বসানোর মিশন নিলেও এ নিয়ে ধাক্কাধাক্কি ও হেনস্তার ঘটনাও ঘটে। অথচ এই নেতাদের মুখেই কিছুদিন আগে ছিল সুমন বিরোধী শ্লোগান। যাদের অবস্থান নিয়ে বর্তমান সময়ে সাধারণ আইনজীবীদের মনে তৈরি হয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া ও চরম ক্ষোভ। আদালতপাড়ার এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যখনই কেউ ঘি ঢালার চেষ্টা করছেন তখন নিজেই দগ্ধ হচ্ছেন সাধারণ আইনজীবীদের প্রতিবাদের মুখে।
সামগ্রিকভাবে এতেই বুঝা যাচ্ছে যে, নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার আইনজীবীদের একটি বড় অংশের অবস্থান ও চলমান আন্দোলন এটাই প্রমাণ করে যে, নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের পিপি হিসেবে খোরশেদ আলম মোল্লাতেই সাধারণ আইনজীবীদের মূল আস্থা ছিল এবং ভবিষ্যতেও রাখতে চান আস্থা।
দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা যেন সাংগঠনিকভাবে বঞ্চনার শিকার না হন, সে বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. এইচ এম আনোয়ার প্রধান। তিনি তাঁর পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তকে অন্যায় ও অনৈতিক উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ নতুন কোর্ট এলাকার জেলা পরিষদের সামনে থেকে তাঁর এবং মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি এড. শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাতের পদ স্থগিতের প্রতিবাদে দলীয় নেতাকর্মী ও অনুসারীরা একটি বিশাল মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে আনোয়ার প্রধান এসব কথা বলেন।
মিছিলটি নতুন কোর্ট এলাকা থেকে শুরু হয়ে চানমারি রেললাইন অতিক্রম করে চাষাড়ায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান অংশগ্রহণকারীরা।
বক্তব্যে আনোয়ার প্রধান বলেন, গত ৬ অক্টোবরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির একটি বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মহানগর বিএনপির সদস্যপদও স্থগিত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি দলের নেতাকর্মীদের কাছে বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্তটিতে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়ে তাঁর সঙ্গে রাজপথে নেমেছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এসব নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। এ সময় তাঁরা নানা প্রতিকূলতা, জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। দলের দুঃসময়ে যাঁরা পাশে ছিলেন, তাঁদের অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা জরুরি।
আনোয়ার প্রধান আরও বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। তাঁদের উপেক্ষা করা কিংবা দল থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তাঁর মতো তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যেন দলের অভ্যন্তরে অন্যায়ভাবে বঞ্চনার শিকার না হন, সে বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বন্দর শ্রী শ্রী লালজী মন্দির, সিরাজউদ্দৌলা মাঠ পূজা মন্ডপ এবং বন্দর বাজার মন্দিরসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২২ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন দুর্গোৎসব মন্ডপে শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ করা হয়েছে।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ২২ নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সমাজকর্মী অ্যাডভোকেট মোঃ শরীফুল ইসলাম শিপলু পূজা উদযাপন কমিটির আয়োজক প্রতিনিধিদের হাতে এসব শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন।
উপহার প্রদানকালে অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের শারদীয় দুর্গোৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির গণ্যমান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন