বন্দর ঘাটে পশুর হাট জনদুর্ভোগের আশঙ্কাঃ ইজারা না দেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর
একটি মহল চাইছে হাটটি বসাতে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বন্দর জোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা ২২ নং ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের বন্দর ঘাট এলাকা দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ জেলা সদরে যাতায়াত করেন। আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে এই জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে পশুর হাট বসানোর আশঙ্কায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর দাবি, এখানে হাট বসলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ হওয়াসহ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
বন্দর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় আমিন আবাসিক, রেলী আবাসিক ও লেজারাস আবাসিকের মতো বড় তিনটি আবাসিক এলাকা রয়েছে। প্রায় ১৫০০ প্লট নিয়ে গঠিত এই এলাকায় অন্তত ৩ থেকে ৪ হাজার পরিবার বসবাস করে। ২৬ হাজার ভোটারসহ প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস এই ২২ নং ওয়ার্ডে। সদর ও বন্দরের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই ঘাট ও সংযোগ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ চলাচল করেন। পশুর হাট বসলে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, বন্দর ঘাটে পশুর হাট বসানোর মতো পর্যাপ্ত খালি জায়গা নেই। নদীর পাড়ে যেটুকু জায়গা আছে, সেখানে সরকারি উদ্যোগে বনায়ন করা হয়েছে। এখানে হাট বসলে সেই বনায়ন ধ্বংস হবে। এছাড়া পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পশুর হাট আবাসিক এলাকার অলিগলিতে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন ও রাস্তার অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করবে।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমান গরমের মৌসুমে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হাজার হাজার পশু ও মানুষের সমাগমে দুর্গন্ধ ও ময়লা-আবর্জনা থেকে ভাইরাসজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া সংকীর্ণ রাস্তায় পশু আনা-নেওয়ার ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বিগত বছরগুলোতে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এই এলাকায় পশুর হাটের ইজারা দেয়নি। গত বছর সদর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ মিলিয়ে ২৬টি হাট বসলেও বন্দর ঘাট এলাকাটি মুক্ত ছিল। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান এবং এলাকাবাসী এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাছাড়া বন্দরের কম ঘনবসতিপূর্ন ওয়ার্ডগুলোতে পর্যাপ্ত খালি মাঠ আছ হাট করার মতো।
“আমরা পশুর হাটের বিরোধী নই, তবে বন্দর ঘাটের মতো একটি ব্যস্ততম পয়েন্টে হাট বসানো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। আমরা সিটি কর্পোরেশন প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি, যেন জনস্বার্থে এখানে কোনোভাবেই হাট ইজারা না দেওয়া হয়।”


আপনার মতামত লিখুন