খুঁজুন
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

বন্দর ঘাটে পশুর হাট জনদুর্ভোগের আশঙ্কাঃ ইজারা না দেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
বন্দর ঘাটে পশুর হাট জনদুর্ভোগের আশঙ্কাঃ ইজারা না দেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর

একটি মহল চাইছে হাটটি বসাতে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বন্দর জোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা ২২ নং ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের বন্দর ঘাট এলাকা দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ জেলা সদরে যাতায়াত করেন। আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে এই জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে পশুর হাট বসানোর আশঙ্কায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর দাবি, এখানে হাট বসলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ হওয়াসহ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

 

বন্দর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় আমিন আবাসিক, রেলী আবাসিক ও লেজারাস আবাসিকের মতো বড় তিনটি আবাসিক এলাকা রয়েছে। প্রায় ১৫০০ প্লট নিয়ে গঠিত এই এলাকায় অন্তত ৩ থেকে ৪ হাজার পরিবার বসবাস করে। ২৬ হাজার ভোটারসহ প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস এই ২২ নং ওয়ার্ডে। সদর ও বন্দরের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই ঘাট ও সংযোগ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ চলাচল করেন। পশুর হাট বসলে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

স্থানীয়দের মতে, বন্দর ঘাটে পশুর হাট বসানোর মতো পর্যাপ্ত খালি জায়গা নেই। নদীর পাড়ে যেটুকু জায়গা আছে, সেখানে সরকারি উদ্যোগে বনায়ন করা হয়েছে। এখানে হাট বসলে সেই বনায়ন ধ্বংস হবে। এছাড়া পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পশুর হাট আবাসিক এলাকার অলিগলিতে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন ও রাস্তার অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করবে।

 

এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমান গরমের মৌসুমে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হাজার হাজার পশু ও মানুষের সমাগমে দুর্গন্ধ ও ময়লা-আবর্জনা থেকে ভাইরাসজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া সংকীর্ণ রাস্তায় পশু আনা-নেওয়ার ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

 

বিগত বছরগুলোতে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এই এলাকায় পশুর হাটের ইজারা দেয়নি। গত বছর সদর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ মিলিয়ে ২৬টি হাট বসলেও বন্দর ঘাট এলাকাটি মুক্ত ছিল। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান এবং এলাকাবাসী এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাছাড়া বন্দরের কম ঘনবসতিপূর্ন ওয়ার্ডগুলোতে পর্যাপ্ত খালি মাঠ আছ হাট করার মতো।

 

“আমরা পশুর হাটের বিরোধী নই, তবে বন্দর ঘাটের মতো একটি ব্যস্ততম পয়েন্টে হাট বসানো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। আমরা সিটি কর্পোরেশন প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি, যেন জনস্বার্থে এখানে কোনোভাবেই হাট ইজারা না দেওয়া হয়।”

বন্দরে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে বিপাকে ব্যবসায়ী- উল্টো মামলার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বন্দর
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
বন্দরে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে বিপাকে ব্যবসায়ী- উল্টো মামলার হুমকি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ডকইয়ার্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে উল্টো বিপাকে পড়েছেন মহিউদ্দিন সাউদ নামে এক ব্যবসায়ী। থানা ও বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে অভিযুক্তদের হুমকি এবং পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বন্দর ঘাট সংলগ্ন শেফা ডকইয়ার্ডের মালিক মহিউদ্দিন সাউদের কাছে লোহা ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা পরিচয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে স্থানীয় একটি চক্র। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত কয়েকদিন আগে অভিযুক্তরা ডকইয়ার্ডে প্রবেশ করে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, শত শত মানুষের সামনে ডকইয়ার্ড থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের লোহা লুট করে নিয়ে যায় তারা।

 

এই ঘটনায় মহিউদ্দিন সাউদ স্থানীয় মৃত শামছুলের ছেলে সৈকতকে (৪০) প্রধান আসামি করে সজিব, হুমায়ুন, রাসেল, রাব্বি, আফজাল ও বিপ্লবসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও র‍্যাব কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, “অভিযুক্তরা নিজেদের যুবদল ও বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। তারা আমার কাছে চাঁদা না পেয়ে লোহা লুট করেছে। এখন আমি জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি।”

 

এদিকে, চাঁদাবাজির অভিযোগ ধামাচাপা দিতে প্রধান অভিযুক্ত সৈকত হাসান বাদী হয়ে মহিউদ্দিন সাউদের বিরুদ্ধে থানায় একটি পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ডকইয়ার্ডের স্ক্র্যাপ লোহা কেনার জন্য তিনি মহিউদ্দিনকে ৫ লাখ টাকা বায়না দিয়েছিলেন এবং মহিউদ্দিন সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে ৫ লাখ টাকা লেনদেনের স্বপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বন্দরের শীর্ষ সন্ত্রাসী খান মাসুদ পালিয়ে গেলে বন্দর ঘাট এলাকার স্ট্যান্ড বাজার ও ফুটপাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নেন এই সৈকত। তিনি নিজেকে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যের (এমপি) ভাতিজা পরিচয় দিয়ে থানা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনার মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

চাঁদাবাজির শিকার হয়েও প্রতিকার না পেয়ে মহিউদ্দিন সাউদ এখন আতঙ্কিত। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ এখনো তার অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি। উল্টো সন্ত্রাসীদের ভয়ে এবং পুলিশের অসহযোগিতায় তিনি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

 

এ বিষয়ে বন্দর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বন্দরে চাঁদা না পেয়ে ‘বিএনপি পরিচয়ে ডকইয়ার্ডে লুটপাট’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
বন্দরে চাঁদা না পেয়ে ‘বিএনপি পরিচয়ে ডকইয়ার্ডে লুটপাট’

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের একটি ডকইয়ার্ডে চাঁদা না পেয়ে লোহা লুটপাটের অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক মহিউদ্দিন সাউদ। তিনি এ ঘটনায় বন্দর থানা, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, র‌্যাব বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন।

 

অভিযোগে ডকইয়ার্ড মালিক স্থানীয় মৃত শামছুল এর পুত্র সৈকত (৪০) কে প্রধান করে, সজিব, হুমায়ুন, রাসেল, রাব্বি, আফজাল ও বিপ্লবসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করেছেন।

 

অভিযোগে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এরা নিজেদের বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, স্কুল কলেজের ছাত্রীদের রাস্তায় উত্যক্ত ও অসালীন আচরণ করা সহ বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত করে আসছে।

 

গত সোমবার (৪ মে) চাঁদা না পেয়ে ডকইয়ার্ডে লুটপাট চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী। পরে তিনি জেলা পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দেন।

 

“অভিযোগকারী মহিউদ্দিন দাবি করেন ওরা আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে হইব। কিন্তু আমি এতে রাজি না হওয়ায় ওরা আমারে বিভিন্ন ভাবে গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করসে। পরবর্তীতে আমার ডকইয়ার্ড থেকে শত শত মানুষের সামনে প্রায় ৭০ হাজার টাকার লোহা নিয়া চলে গেছে। ওরা সবাই যুবদল করে। আমি এখন আমার জীবন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছি।”

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আমি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি সেখানে। রিপোর্ট পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবো। অভিযোগকারীর সাথে যদি ঘটনা মিলে যায় তাহলে অপরাধী যে দলেরই হোক আমি ব্যবস্থা নেবো। আইন সবার জন্যই সমান।”

বিএনপিতে ‘অল-আউট রিসেট’: ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
বিএনপিতে ‘অল-আউট রিসেট’: ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল

দীর্ঘ এক দশকের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে বড় ধরনের পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় গত ১০ বছর তা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘ দেড় দশক পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে, আগামী ডিসেম্বরে বড় ধামাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

 

দলীয় বিভিন্ন সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ‘অল-আউট রিসেট’ পরিকল্পনার আওতায় ঢেলে সাজানো হচ্ছে বিএনপিকে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো নেতৃত্বে প্রজন্মগত পরিবর্তন আনা। দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয় নেতাদের সরিয়ে সেখানে রাজপথের লড়াকু, তরুণ এবং মাঠমুখী নেতাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে নিয়ে আসার আভাস পাওয়া গেছে।

 

অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতার গুরুত্ব দিয়ে তাদের উপদেষ্টা হিসেবে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে অভিজ্ঞতার প্রজ্ঞা ও তরুণের কর্মস্পৃহার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি হবে।

 

মূল দলের কাউন্সিলের আগেই ধাপে ধাপে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

 

আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সরাসরি মাঠে ছিলেন, তৃণমূলের সেই ত্যাগী নেতাদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

 

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে স্থানীয় ইউনিটগুলোর সমন্বয়হীনতা দূর করে সাংগঠনিক চেইন অফ কমান্ড শক্তিশালী করা হবে।

 

গত এক দশকে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত এক ধরনের নেতৃত্বের শূন্যতা ও সাংগঠনিক শিথিলতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় দলীয় কার্যক্রমে গতি আনা এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী ও আধুনিক নেতৃত্ব কাঠামো তৈরি করাকেই এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিএনপি।

 

দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী ডিসেম্বরের জাতীয় কাউন্সিল কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি হবে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি এবং নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা।

বন্দরে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে বিপাকে ব্যবসায়ী- উল্টো মামলার হুমকি বন্দরে চাঁদা না পেয়ে ‘বিএনপি পরিচয়ে ডকইয়ার্ডে লুটপাট’ বিএনপিতে ‘অল-আউট রিসেট’: ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল বগুড়া হচ্ছে সিটি করপোরেশন, দেশে নতুন পাঁচ উপজেলা বন্দরে অ্যাডভোকেট শিপলুর উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে পানি বিতরণ