মাকসুদ আশার গোপন বৈঠক, নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার পরিকল্পনা
নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার যড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে পড়েছে। মনোনয়ন বঞ্চিত অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে আশা ও ওসমান পরিবারের অন্যতম দোসর মাকসুদ চেয়ারম্যান নাশকতার পরিকল্পনা করেছেন বলে গোয়েন্দা সুত্র বলছে। ফলে সর্তকাবস্থায় গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাদা পোষাকে নেমে পড়েছেন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনকে কেন্দ্র করে। দলের কেন্দ্রীয় ঘোষণায় শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদের নাম ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ ও ষড়যন্ত্রের গোপন আগুন জ্বলে উঠেছে পরাজিত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়া আবুল কালামের ছেলে সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা গোপনে হাত মিলিয়েছেন পতিত স্বৈরাচারী দল আওয়ামী লীগের দোসর খ্যাত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির জেলা সহ-সভাপতি ও বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের সঙ্গে। দুজনের মধ্যে একাধিক গোপন বৈঠক হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে একটি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সংস্থা।
দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্র থেকে কঠোর নির্দেশ থাকায় আশার পক্ষের কেউ প্রকাশ্যে মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সাহস পাচ্ছে না। কিন্তু অন্তরালে তারা ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। গত কয়েক দিনে তাঁদের ঘনিষ্ঠ কর্মীরা মদনপুর, চিটাগাং রোড, বন্দর ও সদর এলাকায় গোপনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই বন্দর এলাকায় মাকসুদ হোসেনের সঙ্গে কিছু বিএনপি নেতার অদ্ভুত সম্পর্ক টিকে আছে। এখন সেটি আবার সক্রিয় হচ্ছে নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে। আশা ও মাকসুদ উভয়েই রাজনীতিতে প্রভাব হারিয়ে প্রান্তিক অবস্থানে চলে গেছেন। তাঁদের এই আতঙ্কই হয়তো মাসুদুজ্জামান মাসুদের উত্থান ঠেকাতে মরিয়া করে তুলেছে।
এদিকে মাসুদুজ্জামান মাসুদ নিজে বলেন, “আমি দলের প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর প্রার্থী হিসেবে জনগণের কাছে যাচ্ছি। বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। ষড়যন্ত্রের ভয় আমি করি না। বিএনপি নেতাকর্মীরা জানে কারা আন্দোলনের মাঠে ছিল আর কারা শুধু ক্ষমতার লোভে ষড়যন্ত্র করে।”


আপনার মতামত লিখুন