খুঁজুন

তারেক রহমানের সবুজ সংকেতে বিএনপির তিন নেতা

দেশবাণী ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের সবুজ সংকেতে বিএনপির তিন নেতা

আগামী সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারেক রহমান। ২৬ জুলাই রাতে ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত হয় ওই বৈঠক। সভাতে উঠে আসে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে বিশ্লেষণ ও বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। সেখানে জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। রূপগঞ্জ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, আড়াইহাজার নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ ও সোনারগাঁও নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন বলে জানা যায়। এছাড়া একটি আসনে ব্যাপক রদবদলেরও বিষয়টি আলোচনা হয়।বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে থাকা, নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়াতে কাজ করা, মামলা ও হামলায় জর্জরিত নেতাদের দিয়েই আগামীতে সংসদ নির্বাচন করানো হবে ইঙ্গিত দেন তারেক রহমান।

তিনি জানান তার কাছে বিগত সবগুলো বছরের সকল নেতাদের কর্মকান্ডের ফিরিস্তি রয়েছে। কারা মাঠে ছিল, কারা কাজ করেছে, কারা সুবিধাভোগী, কোন কোন নেতার সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক আছে ইত্যাদি সকল তথ্য আছে। ৫ আগস্টের পরেও কে কি করেছে সেটাও তাঁর জানা। সুতরাং দলের প্রতি যাদের অগাধ ভালোবাসা, বিতর্কহীন কর্মকান্ড তারাই এবার প্রাধান্য পাবেন সংসদ সদস্য প্রার্থীতার ক্ষেত্রে।বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ-৪ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে উঠে এসেছিল ২০০৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে লড়াই করা জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি শাহ আলমকে নিয়ে। কিন্তু তারেক রহমান নিজেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন শাহ আলমের পদত্যাগের বিষয়টি। তিনি বলেন, ‘শাহআলম সাহেব তো দলের পদ ছেড়ে দিয়েছেন। তাকে নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নাই।’এ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গিয়াসউদ্দিনের নাম বলা হলেও তারেক রহমান বিষয়টি এড়িয়ে যান।ফলে জেলা বিএনপির বর্তমান আহবায়ক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আলোচনাতে।বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জ আসনে কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতা মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-২ তথা আড়াইহাজার আসনে কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ তথা সোনারগাঁও আসনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তারেক রহমানও এ তিন নেতার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিগত দিনে আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনে এসব নেতাদের সক্রিয়তা ও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে। ফলে বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জানিয়েছেন, তিন নেতার নাম উচ্চারণে পর তারেক রহমানে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখানোতে অনুমেয় তারাই পাচ্ছেন আপাতত সবুজ সংকেত।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের একটি বড় অংশ মহানগর বিএনপির আওতাধীন থাকায় সেটা নিয়ে বিস্তর কোন আলোচনা করেনি জেলা বিএনপির নেতারা। তবে আগামী দিনে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতেও আসবে চমক।দলের নেতারা জানান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে কার্যত সবুজ সংকেত পেয়ে গেছেন নজরুল ইসলাম আজাদ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব নেতারা সবচেয়ে বেশী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলেন তাদের একজন নজরুল ইসলাম আজাদ। আড়াইহাজারের আলোচিত একটি আন্দোলনের পর তাকে ধরতে প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতার খবর তখন ছিল বেশ আলোচিত। জুলাই ও আগস্ট আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ি স্পটকে জাগিয়ে রাখা আজাদকে ধরে তখন মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা এমন কথাও জানিয়েছেন অনুসারীরা। গত এক দশক ধরে তিনি নারায়ণগঞ্জে আলোচিত। বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের পদধারী অনেক নেতা তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বিগত দিনে বিএনপির আন্দোলনের অনেক ক্ষেত্রেই তিনি নেতৃত্ব দেন। কারাভোগও করেছেন কয়েকবার। অন্তত অর্ধশত মামলার আসামী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন আজাদ। দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে। কয়েকবার আজাদের বাড়িঘরেও হামলা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে রাজনীতি করা মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু এলাকায় তিনি পরিচিত দিপু ভূইয়া নামে। টানা ১৫ বছর ধরে সরকার বিরোধী আন্দোলন করে রূপগঞ্জ তো বটেই নারায়ণগঞ্জকে জাগিয়ে রেখেছিলেন তিনি। রাজধানীতেও বিএনপির বিভিন্ন কেন্দ্রীয় কর্মসূচীতে লোকজন নিয়ে শো ডাউন করে আলোচনায় ছিলেন। আন্দোলনগুলোতে ছিলেন সামনের সারিতে। বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে প্রতিটি অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে তিনি সরব করে তুলেছেন। আওয়ামী লীগ থাকতে গাজী বাহিনীর একের পর এক হামলায় আক্রান্ত হন দিপুর বিভিন্ন স্থাপনা। বাড়িতে ঢুকে গুলি করা হয়।নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আন্দোলনের আরেক নেতা আজহারুল ইসলাম মান্নান এর আগে সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের জনগণের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। কিন্তু চেয়ারম্যান হয়েও তিনি পরিষদে কাজ করতে পারেনি। মান্নান বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়ার কারণে তাকে মেনে নিতে পারেনি স্থানীয় সংসদ। পরে তাকে অপসারণ করা হয়। গত ১৫ বছরে সবগুলো আন্দোলনেই সামনের সারিতে ছিলেন মান্নান। একের পর এক মামলায় কাবু করা হয় তাকে ও তার ছেলে যুবদলের নেতা খায়রুল ইসলাম সজীবকে। সোনারগাঁও বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠনগুলোকে একত্র করে এক ছাতার নিচে ধরে রেখেছেন তিনি। বিগত সময় বিএনপির আন্দোলন সংগ্রাম ও গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে মামলা-হামলায় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন তিনি। নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বাড়ীতো খোঁজখবর নিয়েছেন। বিএনপির কোন দলীয় কর্মসূচী আসলে নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে নেমে পড়েন এবং আন্দোলন-সংগ্রাম সফল করেন আজহারুল ইসলাম মান্নান।

নগরীর মাঠে কার ছক কষছেন এমপি’র ভাই রাকিব?

শহর প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ।
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
নগরীর মাঠে কার ছক কষছেন এমপি’র ভাই রাকিব?

 

​সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব এতদিন মূলত আড়াইহাজার কেন্দ্রিক সামাজিক ও পারিবারিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকলেও, সম্প্রতি তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এলাকাকে ঘিরে নানা সামাজিক ও কল্যাণমূলক কাজে অংশ নিচ্ছেন। আড়াইহাজারের সীমানা ছাড়িয়ে তাঁর এই “নগরমুখী যাত্রা” এবং নগরবাসীর কল্যাণে পদচারণাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ রাজনীতিতে নতুন নানা নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জোর চর্চা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, আড়াইহাজার ছেড়ে তাঁর নগরমুখী হওয়ার নেপথ্যে নানাবিধ উদ্দেশ্য। নাসিক নির্বাচনকে ঘিরে নগর রাজনীতিতে একজন নতুন ও তরুণ মুখের চাহিদা তৈরি হয়েছে। রাকিবুল ইসলাম রাকিব সরাসরি আড়াইহাজার থেকে রাজনীতি শুরু করলেও দীর্ঘমেয়াদে নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র পদ বা নগর রাজনীতিতে বড় অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রচার-প্রচারণা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছেন। নগরবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে “সমাজসেবক” হিসেবে নিজের এক স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।

সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের রাজনৈতিক প্রভাব আড়াইহাজারে শক্তিশালী। তবে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলায় পারিবারিক ও রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করতে সিটির মতো কৌশলগত স্থানে পারিবারিক প্রতিনিধি হিসেবে রাকিবের এই ভূমিকা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “এক ভাই আড়াইহাজারের এমপি, অন্য ভাই সিটির অভিভাবক”—এমন এক দূরদর্শী রাজনৈতিক নকশাও এর পেছনে কাজ করতে পারে।

ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি হিসেবে রাকিবের একটি নিজস্ব পরিচিতি রয়েছে। আড়াইহাজারের বাইরে নারায়ণগঞ্জ মূল শহরের উদীয়মান ব্যবসায়ী সমাজ, যুবসমাজ এবং নতুন প্রজন্মের ভোটারদের আকর্ষণ করতে তিনি কল্যাণমূলক কাজের পথ বেছে নিয়েছেন। ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষকতা, অসহায় মানুষদের সহায়তা এবং সামাজিক উদ্যোগে যুক্ত হয়ে তিনি দ্রুত নগরের সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করছেন।

ভবিষ্যতে দলীয় মনোনয়ন কিংবা দলীয় সিদ্ধান্ত যে পথেই যাক না কেন, আগে থেকেই মাঠ গুছিয়ে রাখলে নির্বাচনে রাজনৈতিক দরকষাকষিতে কিংবা সমর্থন আদায়ে একধাপ এগিয়ে থাকা যায়। তাই আড়াইহাজারের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ নগরে নিজের শক্ত বলয় তৈরি রাখাই এই নগরমুখী সামাজিক ও কল্যাণমুখী কৌশলের মূল নেপথ্য কারণ।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, রাকিবের এই “আড়াইহাজার ছেড়ে নগরমুখী কল্যাণ” কোনো আকস্মিক পদক্ষেপ নয়; বরং এটিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের রাজনীতি ও সমাজনীতিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করার একটি কৌশলগত ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন স্থানীয় বোদ্ধারা।

 

জহির হত্যায় সেই ছাত্রদল নেতার ছায়া, মামলা না হওয়ায় বাড়ছে রহস্য!

বিশেষ প্রতিবেদক, আড়াইহাজার।
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
জহির হত্যায় সেই ছাত্রদল নেতার ছায়া, মামলা না হওয়ায় বাড়ছে রহস্য!

 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও আড়াইহাজারের সীমান্তবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জহির ফকির। গত বুধবার রাতে নিজ ফার্মেসি থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতি ও অপরাধজগতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘুরেফিরে আসছে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট কিছু নেতার নাম। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ, নেপথ্যের শেল্টারদাতা এবং অপরাধীদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও নিহত জহিরের পরিবার।চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পার হলেও দৃশ্যমান কোনো মামলা বা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা করা নিয়ে জহির ফকিরের সঙ্গে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসাইনের দীর্ঘদিনের বিরোধ ও দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর আগেও মোবারক ও তাঁর অনুসারীরা জহিরের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার রাতের ওই হত্যাকার্ডেও আড়াইহাজার থেকে লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, অতীতে অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নাম আসলেও এবং মোবারক হোসেনের বাসা বা সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও রহস্যজনক কারণে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বারবার আইনের আওতার বাইরে বা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, নেপথ্যে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও কিছু অসাধু মহলের শক্ত শেল্টার বা অভয়ারণ্য থাকায় তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। কার বা কাদের ইন্ধনে এই চক্রটি পার পেয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের মুখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—কীভাবে অল্প সময়ে বিপুল বিত্তবৈভব ও অর্থের মালিক হলেন এই বিতর্কিত ব্যক্তিরা? তাদের চলাফেরা, জীবনযাত্রা এবং সম্পদের পরিমাণ সাধারণ আয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না। প্রশ্ন উঠেছে, তাদের বৈধ আয়ের উৎস আসলে কী? তারা নিয়মিত বা সঠিক নিয়মে আয়কর (ইনকাম ট্যাক্স) দিয়ে আসছেন কি না এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কখনো তাদের সম্পদের উৎস বা অবৈধ অর্জিত সম্পত্তির বিষয়ে অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনা করেছে কি না, তা নিয়ে জোরালো দাবি উঠেছে।

কালাপাহাড়িয়া ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায়ই বিভিন্ন সহিংসতা, আধিপত্য বিস্তার ও খুনের ঘটনা ঘটে থাকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা অপরাধ সিন্ডিকেটের কারণে খুনি ও সন্ত্রাসীরা সহজেই পার পেয়ে যায় এবং প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলেও আইনের সঠিক প্রয়োগের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিচ্ছে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তবে জনমনে প্রশ্ন—দ্রুত আসামিরা গ্রেপ্তার হয়ে আইনের মুখোমুখি না হলে এ ধরনের নৃশংসতা ও ত্রাসের রাজত্ব কি থামবে না?

 

নারায়ণগঞ্জ আদালতে টাউট-দালালদের দাপট, নেই প্রতিকার

বিশেষ প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
নারায়ণগঞ্জ আদালতে টাউট-দালালদের দাপট, নেই প্রতিকার

 

 

নারায়ণগঞ্জ আদালত অঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম বিরাজ করছে। টাউট উচ্ছেদে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকা, দালালদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য, পোশাকবিধি লঙ্ঘন এবং আইন না মেনে শিক্ষানবিশদের স্বাধীনভাবে ওকালতি করার অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আদালত চত্বরে প্রতিদিন হাজারো বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ মামলা-সংক্রান্ত কাজের জন্য এসে টাউট ও দালালদের খপ্পরে পড়ছেন। দ্রুত কাজ পাইয়ে দেওয়া, কম খরচে জামিন করানো বা জজ-ম্যাজিস্ট্রেটের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসব প্রতারক চক্র। ফলে একদিকে চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা, অন্যদিকে বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্ধারিত নিয়মাবলির তোয়াক্কা না করা। বার কাউন্সিলের স্পষ্ট নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষানবিশদের পরিচয় নিশ্চিত করতে লাল টাই পরিধান করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ কোর্টে অনেক শিক্ষানবিশই লাল টাই পরছেন না। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষানবিশদের স্বাধীনভাবে চেম্বার চালানো বা আইনি প্র্যাকটিস করার কোনো এখতিয়ার না থাকলেও অনেকে আইনজীবী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে চেম্বার খুলে বসেছেন এবং নিয়মিত ওকালতি চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিযোগ করেন, আদালত অঙ্গনকে দালালমুক্ত করার জন্য বা টাউটদের ধরতে গেলে কিছু সুবিধাবাদী আইনজীবী তাদের পাশে এসে দাঁড়ান এবং তাদের রক্ষা করেন। এই সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর আশকারা পেয়েই টাউট-দালালরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

পেশাগত শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন রক্ষায় সচেতন আইনজীবীরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ জেলা বারের মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।

আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের দাবি, নারায়ণগঞ্জ জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন ও আদালত প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অবিলম্বে একটি শক্তিশালী “টাউট উচ্ছেদ কমিটি” গঠন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা উচিত।বার কাউন্সিলের ড্রেসকোড বাস্তবায়নে কঠোরতা আরোপ করতে হবে, যাতে শিক্ষানবিশদের চিহ্নিত করা সহজ হয়। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের তদারকি ছাড়া শিক্ষানবিশরা যেন কোনো অবস্থাতেই স্বাধীনভাবে চেম্বার পরিচালনা বা ওকালতি করতে না পারেন, সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। যেসব আইনজীবী টাউট ও দালালদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন, তাদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে বার কাউন্সিলের মাধ্যমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

 

নগরীর মাঠে কার ছক কষছেন এমপি'র ভাই রাকিব? জহির হত্যায় সেই ছাত্রদল নেতার ছায়া, মামলা না হওয়ায় বাড়ছে রহস্য! নারায়ণগঞ্জ আদালতে টাউট-দালালদের দাপট, নেই প্রতিকার হাইজাদীতে সুবিধাবাদী রাজনীতির মহোৎসব: "আ'লীগ নেতা লিটন এখন বিএনপি এমপির শেল্টারে" "ওসমানের পর জহির খুন, তারপর কে"?