খুঁজুন

“এগিয়ে মাকসুদ, পিছিয়ে নেই মামুন, চাপে কালাম”

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
“এগিয়ে মাকসুদ, পিছিয়ে নেই মামুন, চাপে কালাম”

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর মাত্র ৫দিন বাকি। ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের রাজনৈতিক মাঠ। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর এখন দুই হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বীর চাপে পড়েছেন এ্যাডভোকেট আবুল কালাম।এক সময় যাকে এই আসনের ক্লিন ইমেজের এমপি হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। সময়ের ব্যবধানে ও বয়সের ভারে তিনি নূজ্য। এখন প্রতিদিন ঘাম ঝরাতে হচ্ছে ভোটের হিসাব মেলাতে। ভোটার ও বিএনপি নেতাদের সমীকরনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষ বিজয় মানেই এমপি আবুল কালাম থাকবে নামমাত্র। নিয়ন্ত্রন থাকবে আবুল কাউছার আশার কাছে।

দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই সদর ও বন্দরের প্রত্যন্ত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন এ্যাডভোকেট আবুল কালাম। মুলত তাকে সাপোর্ট দিচ্ছেন তার পুত্র মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউছার আশা। উঠান বৈঠক, কর্মী সভা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সবকিছুতেই সক্রিয় থাকলেও মাঠের বাস্তবতা তার জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এর বেশ কারনও রয়েছে। বর্তমানে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সাথে আবুল কালামের পুত্র আবুল কাউছার আশার রয়েছে বৈরী সম্পর্ক। তৃনমুল কর্মীরাও আদর্শের কারনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রতিকের জন্য প্রচারনা করলেও ভিতরে ভিতরে রয়েছে চরম ক্ষোভের আগুন। এছাড়াও আবুল কাউছার আশা যেন কাউকে তোয়াক্কাও করছেন না। এমনকি নিজ বংশের আপন চাচা মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলও নিরব ভূমিকায় রয়েছেন। আপন চাচাকেও যেন পাত্তা দিচ্ছেন না কাউছার। অথচ বন্দর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলের বন্দর উপজেলায় রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাংক। বিএনপির সিনিয়র নেতারাও পাত্তা পাচ্ছেন না আবল কাউছার আশার কাছে। প্রতিক পেয়ে যেন নিশ্চিৎ বিজয় ভেবে কাউকে গনায় ধরছেন না আবুল কাউছার আশা।
ফলে ভোটারদের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি বিএনপির মধ্যেও স্পষ্ট অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আবুল কাউছার আশার কিছু বক্তব্য এবং তার অনুসারীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। যার প্রভাব পড়েছে জনপ্রিয়তার গ্রাফে। ফলে বিএনপির তৃনমুল কর্মীরা ভাবছেন এই আসনটি আবুল কালামের পুত্রের অহমিকার জন্য হারাতে হতে পারে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন সদর বন্দরের ফুটবল প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনকে ঘিরে চলছে নানা সমিকরন। মাকসুদ হোসেনের প্রার্থীতা বৈধ হওয়ায় ধানের শীষ প্রতিকের আবুল কালামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামায় সেই চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিগত সরকার আমলে ৩ বার বন্দর উপজেলা মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও একবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় মাকসুদ হোসেন এবার আটসাট বেধে মরন কামড় দিবেন এমনই টার্গেট নিয়ে মাঠ পর্যায়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি বন্দরের বিভিন্ন উপজেলা জুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন ও বিভিন্ন মসজিদ মন্দিরে উন্নয়নমুলক কাজও করেছেন নজিরবিহীন। জাতীয় নির্বাচনে আ’লীগ না থাকায় ও জাতীয় পার্টি শূন্য আসনে সদর ও বন্দরে একটি বড় ভোট ব্যাংক মাকসুদ হোসেনকে সমর্থন দিয়ে গোপনে কাজ করছে। অনেকে প্রকাশ্যেই ফুটবল প্রতিকের জন্য মাঠে তৎপর রয়েছে। এমনকি বিএনপির একটি অংশ গোপনে ফুটবলের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সকল হিসেব নিকেশে এগিয়ে রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন।

এর মধ্যেই নতুন করে নির্বাচনী সমীকরণ বদলে খেলাফত মজলিশের দেয়াল ঘড়ি প্রতিকের প্রার্থী সিরাজুল মামুন। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সাথে ১০ দলীয় জোট হওয়ায় জামায়াত ইসলাম এই আসনে খেলাফত মসলিশকে আসনটি ছেড়ে দেয়। দেয়াল ঘড়ি প্রতিকের সিরাজুল মামুনও জোরেশোরে প্রচার শুরু করায় পুরো আসনজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় ওঠে। একটি সুসংগঠিত ভোটব্যাংক ও মাঠপর্যায়ের কর্মী কাঠামো থাকায় জামায়াতকে আবারও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এখন এক জটিল সমীকরণ চলছে। একদিকে বিএনপির ভেতরে ভেতরে অবমূল্যায়নের কারনে ক্ষোভ, অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতিকের মাকসুদ ও জামায়াত প্রার্থীর শক্ত অবস্থান এই দুইয়ের চাপে আবুল কালামের পথটা খুব মশ্রিণ নয় তা একদম স্পষ্ট । শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কার কৌশল কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

নারায়ণগঞ্জ বিচার অঙ্গনে টাউট-দালালদের দাপট: অতিষ্ঠ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা, নেই কোন পদক্ষেপ ।

বিশেষ প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
নারায়ণগঞ্জ বিচার অঙ্গনে টাউট-দালালদের দাপট: অতিষ্ঠ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা, নেই কোন পদক্ষেপ ।

 

 

নারায়ণগঞ্জ আদালত অঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম বিরাজ করছে। টাউট উচ্ছেদে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকা, দালালদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্য, পোশাকবিধি লঙ্ঘন এবং আইন না মেনে শিক্ষানবিশদের স্বাধীনভাবে ওকালতি করার অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আদালত চত্বরে প্রতিদিন হাজারো বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ মামলা-সংক্রান্ত কাজের জন্য এসে টাউট ও দালালদের খপ্পরে পড়ছেন। দ্রুত কাজ পাইয়ে দেওয়া, কম খরচে জামিন করানো বা জজ-ম্যাজিস্ট্রেটের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসব প্রতারক চক্র। ফলে একদিকে চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা, অন্যদিকে বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্ধারিত নিয়মাবলির তোয়াক্কা না করা। বার কাউন্সিলের স্পষ্ট নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষানবিশদের পরিচয় নিশ্চিত করতে লাল টাই পরিধান করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ কোর্টে অনেক শিক্ষানবিশই লাল টাই পরছেন না। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষানবিশদের স্বাধীনভাবে চেম্বার চালানো বা আইনি প্র্যাকটিস করার কোনো এখতিয়ার না থাকলেও অনেকে আইনজীবী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে চেম্বার খুলে বসেছেন এবং নিয়মিত ওকালতি চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিযোগ করেন, আদালত অঙ্গনকে দালালমুক্ত করার জন্য বা টাউটদের ধরতে গেলে কিছু সুবিধাবাদী আইনজীবী তাদের পাশে এসে দাঁড়ান এবং তাদের রক্ষা করেন। এই সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর আশকারা পেয়েই টাউট-দালালরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

পেশাগত শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন রক্ষায় সচেতন আইনজীবীরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ জেলা বারের মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।

আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের দাবি, নারায়ণগঞ্জ জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন ও আদালত প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অবিলম্বে একটি শক্তিশালী “টাউট উচ্ছেদ কমিটি” গঠন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা উচিত।বার কাউন্সিলের ড্রেসকোড বাস্তবায়নে কঠোরতা আরোপ করতে হবে, যাতে শিক্ষানবিশদের চিহ্নিত করা সহজ হয়। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের তদারকি ছাড়া শিক্ষানবিশরা যেন কোনো অবস্থাতেই স্বাধীনভাবে চেম্বার পরিচালনা বা ওকালতি করতে না পারেন, সে বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। যেসব আইনজীবী টাউট ও দালালদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন, তাদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে বার কাউন্সিলের মাধ্যমে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

 

হাইজাদীতে সুবিধাবাদী রাজনীতির মহোৎসব: “আ’লীগ নেতা লিটন এখন বিএনপি এমপির শেল্টারে”

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
হাইজাদীতে সুবিধাবাদী রাজনীতির মহোৎসব: “আ’লীগ নেতা লিটন এখন বিএনপি এমপির শেল্টারে”

 

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ৯ নম্বর হাইজাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ ও চরম বিতর্ক। ক্ষমতা ও আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে বহুরূপী রাজনীতির পশরা সাজিয়েছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কমিটির সদস্য লিটন। অতীতে আওয়ামী লীগের এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ বলয়ে থেকে সুবিধা বাগিয়ে নেওয়া এই নেতা এখন রাতারাতি খোলস পাল্টে বর্তমান বিএনপি এমপির ‘শেল্টারে’ চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্নে বিভোর।

স্থানীয় ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাইজাদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন লিটন। সে সময় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যের সাথে তার ছিল গভীর সখ্যতা ও প্রকাশ্য ওঠাবসা। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের অবস্থান নিরাপদ রাখতে ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থিতা বাগাতে তিনি এখন ভীড় জমিয়েছেন বিএনপির প্রভাবশালী এমপির বলয়ে।

বর্তমানে বিএনপির এমপির ছবি ব্যবহার করে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে পুরো হাইজাদী ইউনিয়ন সয়লাব করে দিয়েছেন লিটন। শুধু তা-ই নয়, এমপির ডান পাশে বসে বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক প্রোগামে তাকে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে নিয়মিত। ক্ষমতার এই নগ্ন রূপান্তর দেখে খোদ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।

হাইব্রিড এই নেতার আগমনে ক্ষুব্ধ ত্যাগী ও কারানির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা জানান, বিগত দিনে যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তাদেরকে একপাশে ঠেলে দিয়ে লিটনের মতো একজন চিহ্নিত আওয়ামী লীগ নেতাকে নিয়ে মাতামাতি করছেন গুটিকয়েক ‘সুমনপন্থী’ বিএনপি নেতাকর্মী। অভিযোগ রয়েছে, বিপুল অঙ্কের টাকা ছিটিয়ে এবং বিএনপির ভেতরের একশ্রেণির সুবিধাভোগী চক্রকে ম্যানেজ করে মাঠে নিজের পাল্লা ভারী করার চেষ্টা করছেন লিটন।

এদিকে সচেতন রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—হঠাৎ করে একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে নিজ ছায়াতলে টেনে নিয়ে মাঠে নামানোর পেছনে বিএনপির স্থানীয় এমপির ভূমিকা ঠিক কী?

অভিজ্ঞ মহল মনে করছে, এমপি হয়তো লিটনকে মাঠে নামিয়ে নির্বাচনকে উত্তপ্ত করছেন এবং তার মাধ্যমে রাজনৈতিক দরকষাকষির শক্তি বাড়িয়ে নিচ্ছেন। টাকা এবং প্রভাবকে পুঁজি করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করার এই পাঁয়তারা হাইজাদী ইউনিয়নের সাধারণ ভোটাররা ভালোভাবে নিচ্ছেন না।

হাইজাদী ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ ও তৃণমূলের বিএনপি সমর্থকেরা জানান, বিগত সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কোনো নেতার পুনর্বাসন তারা বরদাশত করবেন না। বহুরূপী লিটনের এই রাজনৈতিক ভেল্কিবাজি এবং টাকার জোরে চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টাকে ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবেন বলে প্রহর গুনছেন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত লিটন ও স্থানীয় বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হাইজাদীর রাজনীতিতে এখন মূল আলোচনার বিষয়—আওয়ামী লীগের লিটন কি বিএনপির এমপির শেল্টারে শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদ হাতিয়ে নিতে পারবেন, নাকি রাজপথের ত্যাগী নেতারাই শেষ হাসি হাসবেন?

 

“ওসমানের পর জহির খুন, তারপর কে”?

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ পূর্বাহ্ণ
“ওসমানের পর জহির খুন, তারপর কে”?

 

​নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যেন থামছেই না অপরাধ ও রক্তপাতের খেলা। একের পর এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে পুরো উপজেলায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মনে। সম্প্রতি ওসমান হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খুন হলেন জহির নামে আরেক ব্যক্তি। স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন—”ওসমানের পর জহির খুন, তারপর কে?” একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে এখন চরম ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। কে কার পরে টার্গেটে পরিণত হবেন—এই ভয়ে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতির কারণেই অপরাধীরা বারবার এমন নৃশংস ঘটনা ঘটাতে সাহস পাচ্ছে। কিছুদিন আগে ওসমান নামের এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের শোক কাটতে না কাটতেই জহিরের প্রাণহানি পুরো জনপদকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। একের পর এক এমন খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, অপরাধচক্রগুলোর শেকড় কতদূর গভীরে?

ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শোকারিত ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, দ্রুত এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জোরদার অভিযান চলছে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু দায়সারা অভিযান নয়, বরং এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি এবং অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।

একের পর এক তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার এই মিছিলে ইতি টানতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে প্রশাসন কতোটা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

 

নারায়ণগঞ্জ বিচার অঙ্গনে টাউট-দালালদের দাপট: অতিষ্ঠ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা, নেই কোন পদক্ষেপ । হাইজাদীতে সুবিধাবাদী রাজনীতির মহোৎসব: "আ'লীগ নেতা লিটন এখন বিএনপি এমপির শেল্টারে" "ওসমানের পর জহির খুন, তারপর কে"? যুবদল নেতা জহির হত্যা: অভিযোগের তীর কেন মোবারক এর দিকে? সাংবাদিক সমাজকে অবমাননাকর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)