“তীব্র কোণঠাসা ও বহুমুখী অভিযোগে বিদ্ধ সাখাওয়াত”।
স্থানীয় রাজনীতি এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে চারদিক থেকে তীব্র সমালোচনা ও কোণঠাসার মুখে পড়েছেন আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। হকার উচ্ছেদ কেন্দ্র করে ঘটা সংঘাত, স্থানীয় আদালত পাড়া ও মহানগর রাজনীতির অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং প্রশাসনিক খাতের নানা অনিয়মের অভিযোগে তার চারপাশের বৃত্ত সংকুচিত হয়ে আসছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন সূত্রে জানা যায়, হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র মহানগর রাজনীতিতে তৈরি হওয়া স্পষ্ট বিভাজন এবং বিভিন্ন স্তরে পদ-পদবি স্থগিত বা নিষ্ক্রিয় থাকার জেরে তাঁর সঙ্গে দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের কর্মীরা চরম অবমূল্যায়ন ও ক্ষোভের মধ্য দিয়ে দিন কাটালেও সাখাওয়াতের চারপাশে ভিড় জমিয়েছে গুটিকয়েক সুবিধাভোগী ও তোষামোদকারী চক্র। অভিযোগ রয়েছে, মাঠের ত্যাগী কর্মীদের দূরে সরিয়ে সিটির গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সেক্টরগুলোতে নিজের অনুগত ও তোষামোদকারী লোকজনকে বসানো হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশনের দৈনন্দিন সেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও উঠেছে পাহাড়সম অভিযোগ। নগরীর খাল পুনরুদ্ধার ও ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে নিয়মের তোয়াক্কা না করে নামেমাত্র নামমাত্র প্রকল্প দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা লোপাট করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এর পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগেও চলছে সিন্ডিকেট রাজ। অভিযোগ রয়েছে, ঝাড়ুদার থেকে শুরু the ময়লা সংগ্রহকারী প্রতিটি সেক্টর থেকে প্রতি মাসে নিয়মিত মাসোহারা বা চাঁদা আদায় করা হয়। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমতি এবং বরাদ্দের নামে লাখ লাখ টাকার আর্থিক বাণিজ্যের গুঞ্জনও রয়েছে জোরালোভাবে।
হকার উচ্ছেদ করতে গিয়ে হট্টগোল, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং আর্থিক অনিয়মের এসব বিষয় বিগত কিছুদিন ধরে সরকারের উচ্চপর্যায় ও কেন্দ্রীয় নজরদারিতে রয়েছে। স্থানীয় সরকার পরিচালনায় একের পর এক নেতিবাচক তথ্য ও অব্যবস্থাপনার জেরে যেকোনো মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আসার জোরালো গুঞ্জন চলছে সংশ্লিষ্ট মহলে।


আপনার মতামত লিখুন