“জনসেবার ছদ্মবেশে কোন পথে হাঁটছেন রাকিব”?
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ও চর্চিত নামগুলোর একটি—রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দলীয় পদে সরাসরি না থেকেও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এই তরুণ ব্যবসায়ী। রাজনীতির মাঠের সচেতন মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, “অবশেষ কোথায় গিয়ে থামবে রাকিবের এই রাজনৈতিক যাত্রা”?
রাকিবের রাজনৈতিক পরিচয়ের সবচেয়ে বড় ভিত্তি তিনি নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের ছোট ভাই। দলে পদ-পদবি না থাকলেও বড় ভাইয়ের রাজনৈতিক প্রভাব, নিজের অর্থায়ন এবং ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর রাজনীতিতে এক নিজস্ব বলয় তৈরির চেষ্টা করেছেন। দলীয় চেইন অব কমান্ড বা তৃণমূল নেতাকর্মীদের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিতে মুখ্য আকর্ষণ হয়ে ওঠার পেছনে তার আর্থিক শক্তি এবং তোষামোদকারীদের বড় ভূমিকা রয়েছে। সজল, রাজীব কিংবা টিপুর মতো অনুসারী ও নেতাদের প্রভাবে কর্মসূচির মূল চেয়ারে তিনি আসীন থাকেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে এক ধরনের অস্বস্তিকর আবহ তৈরি করেছে।
আড়াইহাজারের সন্তান হয়েও বেশ কিছুদিন ধরে রাকিবকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে। নিজ এলাকা ছেড়ে হঠাৎ সিটি করপোরেশন অধিবাসীদের সেবায় নিয়োজিত হওয়া এবং দান-অনুদান ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে দেওয়ার পেছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছেন বিশ্লেষকরা। যদিও রাকিব নিজে কখনোই সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি, তবে পর্দার অন্তরালে যে সিটি নির্বাচনকে ঘিরেই সব চাল চালছেন, তা এখন খোলা বইয়ের মতোই স্পষ্ট।
রাকিব আদৌ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হয়েছেন কিনা—তা এখনও রহস্যাবৃত। এছাড়া তার কোনো স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা বা জমি কেনা নিয়ে গুঞ্জন ডালপালা মেললেও নির্দিষ্ট কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। রাজনীতিতে যেখানে তৃণমূলের কর্মীদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা, সেখানে তোষামোদকারী কয়েকজন নেতার ওপর ভর করে ও অর্থায়নে শহর দখলের এমন কৌশল নারায়ণগঞ্জের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল কীভাবে নেবে, তাও দেখার বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাকিবের এই চতুর পদক্ষেপ মূলত মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে নিজেকে জাহির করার দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ। তৃণমূলের রাজনৈতিক ভিত্তি ছাড়া কেবল অর্থ এবং ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে বেশি দূর এগোনো কঠিন। বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলে ত্যাগী ও পদধারী নেতাদের ডিঙিয়ে কোনো অননুমোদিত ব্যক্তির এমন আধিপত্য দলীয় কোন্দল বাড়িয়ে তুলতে পারে।
নিঃসন্দেহে বলা যায়, রাকিব আপাতত জনসেবার মোড়কে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের দিকেই ধাবিত হচ্ছেন। তবে দলের সিনিয়র নেতৃত্ব, তৃণমূল কর্মী এবং সর্বোপরি নগরবাসী এই ‘রাজনীতির ব্যতিক্রমী ধারা’কে কীভাবে মূল্যায়ন করে, তার ওপরই নির্ভর করছে তার ভবিষ্যৎ।


আপনার মতামত লিখুন