“এমপিদের নিরবতায় ঝুট সম্রাটদের সাম্রাজ্য, অভুক্ত তৃণমূলকর্মীরা”
স্থানীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) রহস্যজনক নীরবতা ও ব্যর্থতাকে কাজে লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ঝুট সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রমরমা সিন্ডিকেট। নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার তৈরি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে শক্তিশালী কয়েকটি চক্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফতুল্লার ঝুট সেক্টর সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে রনি ও রাসেল সিন্ডিকেট। অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের গার্মেন্টস ঝুট ব্যবসা কুক্ষিগত করে রেখেছে মানিক, শাহেদ ও সাগর সিন্ডিকেট। কোনো বৈধ ব্যবসা না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাব ও টেন্ডারবাজিকে পেশা বানিয়ে এই চক্রগুলো প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অথচ এই বিশাল অঙ্কের অবৈধ উপার্জনের ভিড়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা রাজপথের ত্যাগী ও সাধারণ তৃণমূল কর্মীরা চরম অনাহার ও অবহেলায় দিন কাটাচ্ছেন।
কোনোরকম আইনি বাধা কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ ছাড়াই যেভাবে এই ঝুট সাম্রাজ্য পরিচালিত হচ্ছে, তাতে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ জনগণের মাঝে। তৃণমূল কর্মী ও স্থানীয়দের মুখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—ঝুট সন্ত্রাসীরা কি কোনো শক্তিশালী ‘অদৃশ্য ইশারা’য় চালিত হচ্ছে, নাকি সংসদ সদস্যরাও এই সিন্ডিকেট থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসোহারা নিচ্ছেন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রাজপথের কর্মী অভিযোগ করেন, “আমরা দলের জন্য জীবন বাজি রেখে রাজপথে থাকি, আর নেতারা ঝুট দখল ও টেন্ডারবাজি করে বাড়ি-গাড়ির মালিক হচ্ছেন। এমপিদের এই নীরবতা কার্যত ঝুট সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়ারই নামান্তর।”
কোনো বৈধ পেশা বা আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও ঝুট বাণিজ্যের মাধ্যমে রাতারাতি শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন এসব নেতারা। হাঁকাচ্ছেন বিলাসবহুল গাড়ি, গড়ে তুলেছেন অঢেল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ঝুট খাত থেকে অর্জিত এই অবৈধ কালো টাকা ব্যবহার করে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও স্থানীয় যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ হাতিয়ে নেওয়ার জোর চেষ্টা ও পাঁয়তারা চালাচ্ছেন এই ঝুট সম্রাটরা। অর্থ ও পেশিশক্তির জোরে পদ দখল করে ঝুট সাম্রাজ্যকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করার ছক কষছেন তারা।
শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও সাধারণ কর্মীদের ক্ষোভ থেকে রক্ষা পেতে হলে অবিলম্বে ঝুট সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত এসব চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও সাধারণ তৃণমূল কর্মীরা।


আপনার মতামত লিখুন