আড়াইহাজারের আলামিন গাজীর বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরটেক গ্রামের বাসিন্দা মো. আলামিন গাজী (পিতা: হাজির আলী) অল্প সময়ে বিপুল অর্থ ও সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠে সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। সাধারণ কাজের ভিসা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য গমনকারী একজন ব্যক্তির এত দ্রুত অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে এলাকায় নানান গুঞ্জন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র বলছে, আলামিন গাজী সাধারণ শ্রমিক ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে মাসে আনুমানিক ১,৫০০ রিয়াল বেতনে কর্মরত ছিলেন। তবে বিগত ২ থেকে আড়াই বছরের মধ্যে তাঁর আর্থিক অবস্থার অস্বাভাবিক ও আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে।
জানাগেছে, বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অর্থ উপার্জনের নেপথ্যে মানবপাচার ও বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে লিখিত আবেদন দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে বিভিন্ন স্থানে একাধিক স্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন আলামিন গাজী। এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদি সুলতানের মোড় এলাকায় ৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ৬ তলা ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে জমি ও ফ্ল্যাটের তথ্য উঠে এসেছে।
সম্পদের ধারাবাহিক প্রসারের অংশ হিসেবে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘সীমান্ত টাওয়ার’-এ অত্যন্ত চোখধাঁধানো ও বড় পরিসরে একটি আধুনিক জুতার শো-রুম উদ্বোধন করেছেন তিনি। আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া থেকে এসে জেলা শহরের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্যিক ভবনে এতো বড় শো-রুম চালুর ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলেও বেশ আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।
কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ও পুরো আড়াইহাজারের সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দিকে। অভিযুক্ত আলামিন গাজীর আয়ের প্রকৃত উৎস এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা অনুসন্ধানে দুদক কী পদক্ষেপ নেয়—সেটাই এখন দেখার বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন