খুঁজুন

যাত্রী ছাউনি ও সড়ক দখল

বন্দর ঘাটে অর্ধকোটির ‘চাঁদাবাজি’ নেপথ্যে প্রভাবশালী!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
বন্দর ঘাটে অর্ধকোটির ‘চাঁদাবাজি’ নেপথ্যে প্রভাবশালী!

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ বন্দর ১নং সেন্ট্রাল খেয়াঘাট স্ট্যান্ডে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তনের আশা করলেও, বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্বের তুলনায় বর্তমানে চাঁদাবাজির মাত্রা দ্বিগুণ হয়েছে। বিগত সরকারের দোসররা পালিয়ে যাওয়ার পর পুরো ঘাটের নিয়ন্ত্রণ এখন চলে গেছে বিএনপি পরিচয়ধারী একটি প্রভাবশালী চক্রের হাতে। সিটি কর্পোরেশনের টোল আদায় বন্ধ থাকলেও এই চক্রটি দৈনিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার অবৈধ চাঁদাবাজি মেলাচ্ছে বলে তথ্য মিলেছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর খেয়াঘাটের যাত্রী ছাউনি অবৈধভাবে দখল করে বসানো হয়েছে দোকানপাট। বেবিস্ট্যান্ডের একপাশে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাজার। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই দোকানগুলো থেকে দৈনিক ভিত্তিতে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা হচ্ছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাধারণ যাত্রীরা বলেন, “বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ছাত্রসমাজ রক্ত দিল, প্রাণ দিল। অথচ বন্দর খেয়াঘাটের যাত্রী ছাউনিতে যাত্রীরা বসার জায়গা পায় না। সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ে দোকান বসিয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাহলে দিনশেষে কী পরিবর্তন হলো? আমরা এই চাঁদাবাজদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পরপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বন্দর বেবিস্ট্যান্ড ও সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি এবং ছাত্রলীগ নেতা খান মাসুদ। এরপরই স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

স্থানীয়রা জানান, চলতি বছর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) থেকে সিএনজি স্ট্যান্ডের টেন্ডার দেওয়া হলেও পরবর্তীতে নাসিক প্রশাসক তা বন্ধ করে দেন। কিন্তু প্রশাসনের সেই নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে যুবদলের কতিপয় নেতা ও এত পাভাবশালি ভাইজানের নাম ভাঙিয়ে তাদের নিযুক্ত লোক দিয়ে প্রতিদিন প্রতিটি ইজিবাইক, মিশুক ও অটো রিকশা থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

ঘাটে চলাচলকারী একজন ইজিবাইক চালক আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের এখানে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি অটো চলে। ঘাটের সামনে আসলেই ২০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। তারা এখানকার স্থায়ী লোক, টাকা না দিলে গাড়ি রাখতে দেয় না এবং মারধর করে।”

অনুরূপ অভিযোগ করেন এক মিশুক চালকও। তিনি জানান, “বন্দর বাজারের সামনে টোকেনের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০ টাকা করে নেওয়া হয়। সড়কে গাড়ি চালাতে হলে এই টাকা দেওয়া বাধ্যতামূলক। টাকা দিতে দেরি হলে বা না দিলে মারধর করা হয়, এমনকি গাড়ির চাকাও ফুটো করে দেওয়া হয়।”

অনুসন্ধানে বন্দর খেয়াঘাট এলাকার চাঁদাবাজির যে হিসাব মিলেছে তা রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো। ব্যাটারিচালিত অটো প্রায় ৩০০টি অটো থেকে দৈনিক ২০ টাকা হারে প্রতিদিন ৬,০০০ টাকা তোলা হয়। বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২০ লাখ টাকা।

মিশুক স্ট্যান্ড প্রতিদিন মিশুক গাড়ি থেকে প্রায় ৮,০০০ টাকা চাঁদা ওঠে। বছর শেষে যার পরিমাণ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। অবৈধ দোকানপাট যাত্রী ছাউনি ও ঘাটের সড়ক দখল করে থাকা প্রায় দেড় শতাধিক দোকান থেকে ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ দৈনিক প্রায় ২৫,০০০ টাকা তোলা হয়। সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে বছরে আরও প্রায় ২০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি হয়।

সব মিলিয়ে বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা যাচ্ছে বিএনপি পরিচয়দানকারী এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের পকেটে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন জনমনে। সম্প্রতি বন্দর ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজি করার সময় ‘সোহাগ’ নামে এক চাঁদাবাজকে হাতেনাতে আটক করে বন্দর থানা পুলিশ। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হলেও মূল হোতারা এখনো অধরাই রয়ে গেছে। মূল সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। এই বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থ বাণিজ্য ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

মাঠে না, ভোটেও টিপু সেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ।
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
মাঠে না, ভোটেও টিপু সেরা

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু আন্তর্জাতিক মানবসেবা সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জেলার প্রগতিশীল ও সচেতন ভোটাররা তাকে এই দায়িত্ব প্রদান করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের নানা প্রতিকূলতা, দমন-পীড়ন ও মামলার শিকার হয়েও রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অবিচল থাকার পুরস্কারস্বরূপ এই জয় পেয়েছেন তিনি। কঠিন সময়েও দলের হাল ধরে রাখা এই নেতার প্রগতিশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলেও যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এই বিজয় তারই এক অনন্য প্রমাণ।

ফ্যাসিবাদী শাসনকালে যখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বহুমুখী জুলুম, নির্যাতন এবং অসংখ্য মামলার মুখে বিরোধী মতের অনেকেই কোণঠাসা ছিলেন, তখন রাজপথের লড়াইয়ে অগ্রভাগে ছিলেন অ্যাডভোকেট টিপু। সেই সংকটময় সময়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কথা ভেবে অনেকে যখন স্থানীয় প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সঙ্গে আঁসাত করে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা এবং আয়েসী জীবনযাপনে ব্যস্ত ছিলেন, তখনো রাজপথের আন্দোলন ও দলীয় নেতাকর্মীদের ছাতা ধরে রেখেছিলেন তিনি। রাজপথে তার ধারাবাহিক সরব উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিল।

রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। এই সংগঠনের নির্বাচনে সাধারণ ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণ করেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রগতিশীল ও চিন্তাশীল নাগরিকরা। এই নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে অ্যাডভোকেট টিপুর বিপুল ভোরে দাপটি বিজয়ী হওয়া প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল একজন রাজপথের লড়াকু রাজনৈতিক নেতাই নন, বরং সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রগতিশীল মহলেও তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত।

রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক এই সংগঠনে তার এই বিজয় নারায়ণগঞ্জের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন বার্তার জন্ম দিয়েছে।

 

“সিটি মেয়র হিসেবে নগরীর হাওয়ায় কার নাম”? ​

বিশেষ প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ।
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
“সিটি মেয়র হিসেবে নগরীর হাওয়ায় কার নাম”?  ​

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে বইতে শুরু করেছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে আড্ডার টেবিলে এখন একটাই আলোচনা—কে হচ্ছেন নগরীর আগামী কাণ্ডারি? সাধারণ মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে একাধিক সম্ভাবনাময় নেতার নাম, যার মধ্যে সবচেয়ে জোরালো আলোচনা চলছে জনবান্ধব ও তরুণ সমাজসেবক রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে ঘিরে। তবে সেই সাথে স্থানীয় রাজনীতির মাঠে অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত প্রার্থীদের সমীকরণ নিয়েও চলছে নানা বিশ্লেষণ।

 

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম আজাদের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নগরবাসীর হৃদয় জয় করে নিয়েছেন।

​দীর্ঘদিন ধরে ‘মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশন’-এর ব্যানার নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি ওয়ার্ড ও মহল্লায় ধারাবাহিক মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, কোনো প্রচার-প্রচারণার মোহে নয়, বরং খাঁটি মানবসেবার তাগিদ থেকেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

​তার সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ ও প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন তিনি। একইভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় দুস্থ ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মাঝে ঈদ সামগ্রী ও সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন।

​শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, তীব্র খরতাপের মধ্যে শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষায় অংশ নেয়, তখন পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সামনে বিনামূল্যে ঠাণ্ডা সুপেয় পানি, স্যালাইন এবং শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে সর্বস্তরের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি এখন এক মানবিক ও নির্ভরযোগ্য নাম। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করছেন, শহরকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও সবুজ হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণ এই নেতৃত্বের ভূমিকা বেশ কার্যকর হতে পারে।

​

একদিকে তরুণ সমাজসেবক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের ইতিবাচক ভাবমূর্তি যেমন আলোচনার কেন্দ্রে, অন্যদিকে নগরীর অন্যান্য পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অবস্থান নিয়েও শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠে বর্ষীয়ান মুখ হলেও সাম্প্রতিক সময়ের কিছু সমালোচনামূলক কর্মকাণ্ড ও বিতর্কের কারণে তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভোটারদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও নেতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মডেল মাসুদ কোনো এক সময় মাঠে সরব উপস্থিতি থাকলেও বর্তমানে রাজনীতি ও মাঠের কর্মসূচিতে তাকে আর আগের মতো দেখা যায় না। মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষণে তিনি বর্তমানে রাজনীতির মাঠ থেকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় বা অনুপস্থিত বললেই চলে।

মাকসুদুল আলম খোরশেদ দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের একটি পরিচ্ছন্ন বা ‘ক্লিন’ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে পেরেছেন তিনি। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সততা ও জনসেবামুখী কাজের কারণে আগামী সিটি নির্বাচনে একজন শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে আবারও নতুন করে উঠে আসতে পারে তার নাম।

​সব মিলিয়ে, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ নগরীর রাজনৈতিক হাওয়া প্রতিনিয়ত রূপ পাল্টাচ্ছে। এখন দেখার বিষয় আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নতুন ও তরুণ নেতৃত্বের প্রতি তৈরি হওয়া প্রত্যাশা থাকছে নাকি অভিজ্ঞ নেতাদের পুনর্মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে আগামীর নারায়ণগঞ্জ নগরীর চূড়ান্ত রূপরেখা।

 

সরকারি সফর আলী কলেজে এইচএসসিতে চরম ফলাফল বিপর্যয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, আড়াইহাজার।
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
সরকারি সফর আলী কলেজে এইচএসসিতে চরম ফলাফল বিপর্যয়।

​

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজ’-এ সদ্য প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় চরম ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। এবার কলেজটি থেকে পাসের হার মাত্র ৩১ শতাংশের কাছাকাছি। উপজেলার সেরা সরকারি ও ঐতিহ্যবাহী কলেজটিতে এমন আশঙ্কাজনক ফলাফলে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

​কলেজ সূত্রে জানা যায়, এবার আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই অকৃতকার্য হয়েছে। উপজেলার অন্যতম প্রধান ও সরকারি কলেজ হওয়া সত্ত্বেও এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করার বিষয়টিকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

​ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মতে, এ বিপর্যয়ের অন্তরালে কয়েকটি প্রধান কারণ থাকতে পারে, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং শ্রেণি কার্যক্রমে তদারকির শিথিলতা, শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া এবং পড়াশোনায় অবহেলা।বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পাঠদানের মান নিশ্চিতকরণে প্রশাসনিক তদারকির অভাব।তরুণ প্রজন্মের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল আসক্তি পড়াশোনা থেকে তাদের দূরে সরিয়ে নিচ্ছে।

​এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, সরকারি একটি কলেজের এমন ফলাফল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রতি বছরই ফলাফল খারাপের দিকে যাচ্ছে, কিন্তু এবার তা একেবারে সর্বনিম্নে গিয়ে ঠেকেছে। এর পেছনের প্রকৃত কারণ কী, তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিত।

​শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীদের দোষ না দিয়ে কেন এবং কী কারণে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলো—তা নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে একাডেমিক তদারকি বৃদ্ধি, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ না নিলে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি আরও চরম সংকটে পড়বে।

মাঠে না, ভোটেও টিপু সেরা "সিটি মেয়র হিসেবে নগরীর হাওয়ায় কার নাম"? ​ সরকারি সফর আলী কলেজে এইচএসসিতে চরম ফলাফল বিপর্যয়। আড়াইহাজার "পায়রা চত্বর" সৌন্দর্য বর্ধন ও আধুনিকায়নের জোর দাবি। "তিন হেভিওয়েটের সমীকরণ, নাকি অন্য কেউ"?