শাখাওয়াতের সফলতায় আশাবাদী বন্দরবাসীঃ নজর কালামের দিকে
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক হিসেবে অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান দায়িত্ব নেওয়ার পর শহরের চিরচেনা যানজট ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে রীতিমতো ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘ দুই দশকে যা অসম্ভব মনে হয়েছিল, সেই বিবি রোড ও কালীরবাজারসহ শহরের প্রধান সড়কগুলো এখন হকারমুক্ত। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে শুরু করেছে নগরবাসী। আর এই সাফল্যের পর এখন বন্দরের সাধারণ মানুষের নজর আটকে আছে বন্দর ঘাট ও বাজার এলাকার ওপর।
বিগত সময়ে সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বারবার হকার উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলেও রাজনৈতিক জটিলতায় তা সফল হতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অসহযোগিতা ও নানা নেপথ্য কৌশলের কারণে বারবার ভেস্তে গেছে উচ্ছেদ অভিযান। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। প্রশাসক শাখাওয়াত হোসেন খানের পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। মূলত এই দুই নেতার দৃঢ় সমন্বয় ও সদিচ্ছার কারণেই শহরের প্রধান সড়কগুলো এখন দখলমুক্ত।
শহর এলাকা অনেকটা পরিচ্ছন্ন হলেও বন্দর ঘাটের চিত্র এখনো ভয়াবহ ‘নরক’। সরেজমিনে দেখা যায়; দখলকৃত বন্দর ঘাটের যাত্রীছাউনি হকার, মুরগির দোকান ও মনিহারি পণ্যের দখলে চলে গেছে।বন্দর ঘাট থেকে বাজার পর্যন্ত মূল সড়কের ওপর কয়েক স্তরে নিয়মিত সকাল বিকাল বসছে অবৈধ দোকানপাট। ফলে লাখো মানুষের চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
যেনো চাঁদাবাজির মহোৎসব। অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ ফুটপাত ও দোকান থেকে মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ আমলে এই চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ছিল যুবলীগ নেতা খান মাসুদের হাতে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এখন এর নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বিএনপি নামধারী কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসীর হাতে।
অপরাধের সূতিকাগার ‘ঘাট এলাকা’ স্থানীয়দের মতে, গত দুই দশকের অভিজ্ঞতা বলে—বন্দরের অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ থাকে তাদের হাতেই, যাদের দখলে থাকে বন্দর ঘাটের এই চাঁদাবাজি। এই অবৈধ আয়ের ওপর ভিত্তি করেই এলাকায় একাধিক কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী চক্র গড়ে উঠেছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকার সফল উচ্ছেদ অভিযানের পর এখন বন্দরবাসীর একটি চাওয়া—ঘাট এলাকা দখলমুক্ত করা। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন ও এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম যদি সমন্বিত উদ্যোগ নেন, তবে মাত্র এক ঘণ্টার অভিযানেই বন্দর ঘাট ও বাজারের রাস্তা উন্মুক্ত করা সম্ভব।
ফুটপাত ও রাস্তা সন্ত্রাসমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বন্দরের সচেতন নাগরিক সমাজ।


আপনার মতামত লিখুন