হলিউডের মডেল-অভিনেত্রী কিম কার্দাশিয়ান সম্প্রতি এক দুঃসংবাদ জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, একটি বিরল ও বিপজ্জনক রোগে ভুগছেন, যার নাম ‘ব্রেন অ্যানিউরিজম’। এই অসুখটি তার মস্তিষ্কে ছোট একটি অ্যানিউরিজমের কারণে হয়ে থাকতে পারে, যা তার শরীরে অনেকদিন ধরে গড়ে উঠেছিল।
কিম কার্দাশিয়ান তার জনপ্রিয় টিভি শো ‘দ্য কার্দাশিয়ানস’-এর নতুন মৌসুমের প্রথম পর্বে বিষয়টি শেয়ার করেন। ওই পর্বে, তিনি মস্তিষ্কের স্ক্যান করানোর সময় বলেন, এটা শুধু মানসিক চাপের কারণেই হতে পারে। স্ক্যানের সময় তার বোন কোর্টনি কার্দাশিয়ান বার্কারও চমকে ওঠেন এই সংবাদ শুনে।
কিম আরও জানান, এই সপ্তাহটা আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সপ্তাহ। যদিও তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বা উপসর্গ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে এই সংবাদ নিশ্চিত করে যে তিনি একটি গুরুতর পরিস্থিতির মুখোমুখি।
জিবুতি উপকূলের কাছে একটি নৌকাডুবিতে ১৫ শিশুসহ অন্তত ১৩৯ জন নিহত এবং ৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
রোববার (১১ অক্টোবর) জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের বরাতে আইওএম জানায়, জিবুতির পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের কাছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি সংলগ্ন অ্যাডেন উপসাগরের কাছে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকাটি জিবুতি থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিল। দুর্ঘটনাকবলিতদের মধ্যে অন্তত ৮০ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তাদের সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক। জিবুতির উদ্ধারকারী দল এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
আইওএম-এর জিবুতি মিশনের প্রধান আলেকজান্ডার কোয়াক এই ‘মর্মান্তিক প্রাণহানির’ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের দল দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি সহায়তা প্রদান করছে।’
বার্তা সংস্থা এপিকে আলেকজান্ডার কোয়াক জানান, শুধু যাদের জিবুতি কর্তৃপক্ষ দাফন করেছে, সে সংখ্যাটাই এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর বাইরে অনেককে অভিবাসীরা নিজেরাই দাফন করেছেন। কর্তৃপক্ষ সেসব লাশের বিষয়ে তথ্য যাচাই না করা পর্যন্ত তাদের মূল হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।
জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী বাব আল-মান্দেব প্রণালি সংকীর্ণতম স্থানে মাত্র ২০ কিলোমিটার (১২.৪ মাইল) প্রশস্ত। এই পথ দিয়েই হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের হাজার হাজার অভিবাসী নিয়মিত যাতায়াত করেন।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার আশায় বহু মানুষ এই বিপজ্জনক যাত্রা বেছে নেন। ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং গত মাসে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত সত্ত্বেও এ রুটে অভিবাসীদের প্রবাহ থেমে নেই।
আইওএম জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বরের পর ইথিওপিয়া থেকে জিবুতিতে ‘২০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রবেশ করেছেন’ বলে নথিভুক্ত করেছে তারা। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ৫ লাখের বেশি মানুষ এই পথ ব্যবহার করে ইয়েমেনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় দিনদুপুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে দুই নারীকে আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন। ঘটনাস্থল থেকে গরু চুরির কাজে ব্যবহৃত অটোরিকশাটিও জব্দ করেছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় অটোরিকশার চালকসহ আরও দুজন পালিয়ে যান।
আটক দুই নারী হলেন পারভিন আক্তার (৪৫) ও শাহানা আক্তার (৪০)। পারভিনের বাড়ি কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় এবং শাহানার বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়।
গরুর মালিক বিজয় মল্লিক জানান, প্রতিবেশীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার গরুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে ধাওয়া করে উপজেলার দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নের খানমোহনা বেলতল এলাকায় গরুসহ দুজনকে আটক করা হয়।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আবু বক্কর বলেন, চুরির অভিযোগে দুই নারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ সময় অটোরিকশার চালকসহ আরও দুজন পালিয়ে যান।
এদিকে ধলঘাট ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা কুমকুম দে জানান, তিন দিন আগে তার তিনটি গরু চুরি হয়েছে। আটক দুই নারী সম্পর্কে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। ওই নারীরা তার গরু চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। চুরি হওয়া গরুগুলো ফেরত পাওয়ার দাবি জানান তিনি।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন বলেন, স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। চুরির কাজে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা গরুটি মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা তদন্ত করে বের করা হবে।
ষাটের দশকের অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান।
নাসিমা খান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের একজন। ষাটের দশকে রুপালি পর্দায় নিজের যাত্রা শুরু করা এই অভিনেত্রী বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই অভিনয় করেছেন। ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরাণ ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
তার পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামের উকিলবাড়ি। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান। দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল ব্রিটিশ ভারতের ঢাকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে লালবাগে বাড়ি করে সেখানেই বসবাস শুরু করে তাদের পরিবার।
নাসিমা খানের চলচ্চিত্রে আসার পেছনে অভিনেতা আনিসের ভূমিকা ছিল। তখন ঢাকার চলচ্চিত্রে সুলতানা জামান, রওশন আরা, সুমিতা দেবী ও চিত্রা সিনহার মতো অভিনেত্রীরা পরিচিত মুখ।
১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় নাসিমা খানের। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত এই সিনেমায় সহনায়িকাদের একজন ছিলেন তিনি। সিনেমাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরস্কার অর্জন করে। একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও লাহোরের অভিনেত্রী শামীম আরা।
১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নাসিমা খান। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আনিস। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের পরিচিতি বাড়ান তিনি।
নাসিমা খানের উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।
আপনার মতামত লিখুন