খুঁজুন

“তিন হেভিওয়েটের সমীকরণ, নাকি অন্য কেউ”?

নিজস্ব প্রতিবেদক,নারায়ণগঞ্জ।
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
“তিন হেভিওয়েটের সমীকরণ, নাকি অন্য কেউ”?

 

​নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে (নাসিক) ঘিরে রাজনীতিতে এখন নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। স্থানীয় সরকার কাঠামোর পরিবর্তনের হাওয়ায় নগরবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন—কে হচ্ছেন প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত এই নগরের আগামী দিনের অভিভাবক বা ‘নগর পিতা’? এই আলোচনায় ঘুরেফিরে আসছে তিন প্রভাবশালী মুখ। বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ (মডেল মাসুদ) এবং এমপি নজরুল ইসলাম আজাদের ভাই ব্যবসায়ী রাকিবুর রহমান রাকিব।তবে আপাতদৃষ্টিতে দৌড়ে থাকা এই তিন মুখের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় নানা জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ‘সাত খুন’ মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আইনি লড়াই চালিয়ে প্রথম সারা দেশে পরিচিতি পান। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃত্ব দেওয়া সাখাওয়াত মহানগর বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব লাভ করেন এবং ২০১৬ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদে তিনি নাসিক-এর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন। তবে চেয়ারে বসার পর থেকেই ফুটপাত উচ্ছেদ, হকারদের ক্ষোভ ও স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সামলাতে গিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি আদালত চত্বরের অনভিপ্রেত ঘটনা ও উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিতর্ক তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের ইমেজ সংকট তৈরি করেছে। দলীয় হাইকম্যান্ড শেষ পর্যন্ত এই বিতর্ক কাটিয়ে তার ওপর আস্থা রাখবে, নাকি নতুন বিকল্প খুঁজবে—তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে ‘ডিয়ার মোস্তফা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। ‘মেইড ইন নারায়ণগঞ্জ’ স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি নগর রাজনীতিতে স্থান করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিগত দিনে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠতা ও বিগত সরকারের অনুগ্রহ পাওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—তৃণমূল রাজনীতিতে বা বিএনপির দলীয় কোনো সাংগঠনিক পদ-পদবী তার নেই। ফলে জনসেবা ও ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে ভোটার ও কেন্দ্রের আস্থা কতটা অর্জন করতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও এমপি নজরুল ইসলাম আজাদের ছোট ভাই রাকিব এর মূল পরিচয় ব্যবসায়ী। তবে বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ‘মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়তামূলক কাজ করে তিনি এক ধরনের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। মডেল মাসুদের মতো রাকিবেরও বিএনপি দলীয় কোনো পদ- পদবী নেই। তার চেয়ে বড় বিষয়, তিনি আদৌ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকার নিবন্ধিত ভোটার কি না—তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ধোঁয়াশা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে নিজস্ব ভোটার পরিচয় এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে সরাসরি দলীয় সমর্থন ছাড়া মেয়রের মতো বড় পদে শক্ত অবস্থান নেওয়া সহজ নয়।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াতের আইনি ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকলেও সাময়িক ইমেজ সংকট তার বড় বাধা। অন্যদিকে মডেল মাসুদ ও রাকিবের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাব থাকলেও দলীয় পদবী এবং সরাসরি রাজনৈতিক কাঠামোর অভাব তাদের পিছিয়ে রাখছে।নারায়ণগঞ্জ সিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ময়দানে দলীয় প্রতীক, স্থানীয় ভোটারদের সরাসরি সমর্থন ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিই চূড়ান্ত নিয়ামক। এই তিন হেভিওয়েটের নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা কি শেষ মুহূর্তে কোনো ‘বিতর্কহীন ও সর্বজনগ্রাহ্য’ নতুন মুখ এনে চমক দেবেন, নাকি এই তিনের মধ্য থেকেই কাউকে বেছে নেবেন—তা দেখতে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে নগরবাসীকে।

 

আড়াইহাজার “পায়রা চত্বর” সৌন্দর্য বর্ধন ও আধুনিকায়নের জোর দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক, আড়াইহাজার।
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
আড়াইহাজার “পায়রা চত্বর” সৌন্দর্য বর্ধন ও আধুনিকায়নের জোর দাবি।

 

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘পায়রা চত্বর’ উপজেলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ স্থান। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন এই চত্বর অতিক্রম করে। তবে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক নকশার অভাবে চত্বরটি তার কাঙ্ক্ষিত সৌন্দর্য হারাচ্ছে। বর্তমানে পায়রা চত্বরটির সৌন্দর্য বর্ধন ও আধুনিকায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।একই সঙ্গে এই জনগুরুত্বপূর্ণ কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপির) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় শান্তির প্রতীক পায়রাকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং উপজেলা সদরের সৌন্দর্য বাড়াতে এই চত্বরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে চত্বরসংলগ্ন অংশ, ফোয়ারা এবং চারপাশের অবকাঠামো সংস্কারের অভাবে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়া অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র হকারদের অবস্থান এবং বিজ্ঞাপনী ব্যানারের কারণে এটি তার আসল নান্দনিকতা হারাচ্ছে।

এলাকাবাসীর মতে, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে চত্বরটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলা সম্ভব। আধুনিক লাইটিং, নান্দনিক ফোয়ারা স্থাপন, পর্যাপ্ত সবুজায়ন (গাছপালা ও ফুলের বাগান) এবং চত্বরের চারপাশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনলে এটি একটি আকর্ষণীয় পয়েন্টে পরিণত হতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, আড়াইহাজার সদরের কেন্দ্রবিন্দু হলো এই পায়রা চত্বর। যেকোনো বহিরাগত মানুষ আড়াইহাজারে এলে প্রথমেই এটি চোখে পড়ে। তাই চত্বরটিকে নতুন রূপে সাজানো হলে উপজেলার সার্বিক সৌন্দর্য অনেক গুণে বেড়ে যাবে।

উপজেলার এই ঐতিহ্যবাহী চত্বরটির বেহাল দশা দূর করতে এবং এর আধুনিক সৌন্দর্য বর্ধন নিশ্চিত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সরাসরি দিকনির্দেশনা ও কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন আড়াইহাজারের সর্বস্তরের সচেতন জনগণ।

 

“শেখ হাসিনা পতনের পরও আড়াইহাজার সাব- রেজিষ্ট্রী অফিসে সিন্ডিকেট দৌরাত্ম “

নিজস্ব প্রতিবেদক, আড়াইহাজার।
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
“শেখ হাসিনা পতনের পরও আড়াইহাজার সাব- রেজিষ্ট্রী অফিসে সিন্ডিকেট দৌরাত্ম “

 

 

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলেও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার সাব-রেজিস্ট্রি ও ভূমি অফিসের চিত্র বদলায়নি। সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ঘুষমুক্ত সেবার আশা করলেও, আড়াইহাজারে বহাল রয়েছে পুরোনো দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট। কার্যালয়ের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মদদে অসাধু কর্মচারী ও স্থানীয় দালাল চক্র কৃত্রিম ভোগান্তি সৃষ্টি করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

১২ মার্চ ২০২৫ উপজেলার গোপালদী এলাকার সেবাগ্রহীতা সফিকুল ইসলাম তার পৈতৃক জমির নামজারির (মিউটেশন) আবেদন নিয়ে অফিসে যান। নথিপত্র সম্পূর্ণ বৈধ থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিস সহকারী ও কপিরক্ষক তার ফাইলে খাস জমির ভুয়া অজুহাত তুলে ফাইল আটকে দেন। পরবর্তীতে স্থানীয় এক প্রভাবশালী মহুরির মাধ্যমে ২৫,০০০ টাকা ঘুষ হস্তান্তরের পর দিনই ফাইল স্বাক্ষর হয়ে যায়।
​১৮ আগস্ট ২০২৫ কাউন্দিয়া এলাকার একটি প্রবাসীদের জমিতে ভুয়া আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) তৈরির চেষ্টার সময় ভুক্তভোগী পরিবার সরাসরি বাধা দিতে গেলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারীদের সহায়তায় উল্টো হয়রানির শিকার হয়। সরকারি রেজিস্টার খাতায় তথ্য গোপনের উদ্দেশ্যে ফাইল প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার বিনিময়ে জালিয়াতি চক্রকে সহায়তা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে অফিসের পেছনের সারির কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

১০ জানুয়ারি ২০২৬ পৌরসভা এলাকার বাণিজ্যিক শ্রেণির জমিকে ‘ডোবা’ বা ‘কৃষি’ জমি দেখিয়ে দলিল সম্পাদনের অভিযোগ ওঠে। এতে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়, যার একটি বড় অংশ কার্যালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও দালাল সিন্ডিকেটের পকেটে যায়। প্রতিবাদ জানাতে গেলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ফাইল ঝুলিয়ে রাখা বা রেজিস্ট্রি না করার হুমকি দেওয়া হয়।
​২২ এপ্রিল ২০২৬ সাদিপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আতাউর রহমান তার কেনা জমির দলিল রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে শিকার হন চরম ভোগান্তির। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তৎকালীন অফিস সহকারী ও দলিল লেখক সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য কাজল ঢালী এবং মহিতুল ইসলাম হিরুর মাধ্যমে অতিরিক্ত ১২,০০০ টাকা না দেওয়ায় তার রেজিস্টির ফাইলটি টানা এক মাস ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে বাধ্য হয়ে স্থানীয় মহুরির মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করার পর তার দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়।

অতীতে সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার ইছহাক আলী মণ্ডলের টেবিলে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল হওয়া, কিংবা ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভুক্তভোগী রমজান আলীর দায়ের করা চিঠির ভিত্তিতে সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখক কাজল ঢালী ও মহিতুল ইসলাম হিরুর বিরুদ্ধে দুদকে আর্থিক দুর্নীতির যে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল—তার কোনো দৃশ্যমান সমাধান আজও হয়নি। বর্তমানে কার্যালয়ের টিসি বা উমেদারদের মাধ্যমে পর্দার আড়ালে টাকা লেনদেনের একই পুরাতন মডেল চালু রাখা হয়েছে।

দলিল নিবন্ধনের (রেজিস্ট্রি) ক্ষেত্রে সরকারি ফি জমা দেওয়ার পরও ফাইলপ্রতি ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত “সিরিয়াল ফি” ও উমেদার খরচ হিসেবে দিতে হয়। সরকারি রেট চার্ট টাঙানো থাকলেও তা কেবল খাতাপত্রেই সীমাবদ্ধ। কার্যালয়টিতে স্থানীয় প্রভাবশালী দলিল লেখক (মহুরি) ও উমেদারদের সমন্বয়ে শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সাধারণ সেবাগ্রহীতা সরাসরি কোনো সেবা নিতে গেলে বা প্রশ্নের মুখোমুখি হলে তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়। সিন্ডিকেটের হাত না ধরে সরাসরি ফাইল জমা দিলে নানা অজুহাতে তা বাতিল বা আটকে দেওয়া হয়।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সরকারি খাস জমি ও অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানাধীন দেখিয়ে অবৈধভাবে রেজিস্ট্রি ও খতিয়ান প্রস্তুতের পাঁয়তারা চালাচ্ছে চক্রটি। বিগত সরকারের আমল থেকে চলে আসা এই চর্চা ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও বন্ধ হয়নি।

উপজেলার স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমরা ভেবেছিলাম দেশ স্বাধীন হয়েছে, ৫ আগস্টের পর ভূমি অফিসে ঘুষ দেওয়া লাগবে না। কিন্তু অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখগুলো পাল্টালেও সিন্ডিকেটের নিয়ম একই রয়ে গেছে। ফাইল প্রতি নির্ধারিত চাঁদা না দিলে কাজই এগোয় না।”

এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল ভাবনাই ছিল দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়া। অথচ আড়াইহাজার ভূমি ও রেজিস্ট্রি অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এখনো কর্মকর্তাদের ছত্রচ্ছায়ায় দুর্নীতি চালু থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

“মার্কেটিং ম্যানেজার থেকে কোটিপতি, নেপথ্যে কি”?

নিজস্ব প্রতিবেদক, আড়াইহাজার।
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ
“মার্কেটিং ম্যানেজার থেকে কোটিপতি, নেপথ্যে কি”?

 

​

সোনালী পেপার গ্রুপের মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে লিটন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্বল্প সময়ে তাঁর এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠা নিয়ে সর্বমহলে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও ধোঁয়াশা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন এই লিটন। তাঁর এই অবৈধ সম্পদ অর্জনের মূল নেপথ্য নায়ক ছিলেন সাবেক এমপি বাবু। সাবেক এই সংসদ সদস্যের সরাসরি শেল্টার ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকেই লিটন প্রতিষ্ঠানে জালিয়াতি ও অবৈধ উপায়ে অর্থ আদায়ের পথ সুগম করেন। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল পারভেজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ জন হিসেবেও পরিচিত।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, কেবল রাজনৈতিক যোগাযোগই নয়, পারিবারিক ও আত্মীয়তার সুগভীর সম্পর্ক রয়েছে তাঁদের মাঝে। আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল পারভেজের আপন ভাইয়ের ‘উকিল বাপ’ হলেন এই লিটন। অন্যদিকে, ‘রুট ডাকাত’ নামে পরিচিত তাঁর প্রধান সহযোগী রুবেল হলেন ইকবাল পারভেজের সম্পর্কে বিয়াই। এই রুবেল ও লিটনের সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই সমস্ত অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়।

রাজনৈতিক চাটুকারিতা ও দুর্নীতির ওপর ভর করে গড়ে ওঠা এই বলয়ের নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করছেন লিটন নিজেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, লিটনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও প্রভাব বিদ্যমান, যা তিনি নিজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আড়াল করতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।

সোনালী পেপার গ্রুপে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত এই অবৈধ সম্পদের প্রকৃত উৎস উদঘাটনে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আশু হস্তক্ষেপ দাবি করছেন সচেতন মহল।

 

আড়াইহাজার "পায়রা চত্বর" সৌন্দর্য বর্ধন ও আধুনিকায়নের জোর দাবি। "তিন হেভিওয়েটের সমীকরণ, নাকি অন্য কেউ"? "শেখ হাসিনা পতনের পরও আড়াইহাজার সাব- রেজিষ্ট্রী অফিসে সিন্ডিকেট দৌরাত্ম " "মার্কেটিং ম্যানেজার থেকে কোটিপতি, নেপথ্যে কি"? "তীব্র কোণঠাসা ও বহুমুখী অভিযোগে বিদ্ধ সাখাওয়াত"।