সামারি ট্রায়ালে ছাড় পাচ্ছে অপরাধীরা: নারায়ণগঞ্জ জুড়ে উদ্বেগ
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ইদানীং অপরাধ দমনে ব্যবহৃত ‘সামারি ট্রায়াল’ (সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়া) ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জটিল ও গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তরাও এই সংক্ষিপ্ত বিচার ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে স্বল্প শাস্তিতে সহজেই রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। ফলে নারায়ণগঞ্জ সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁসহ জেলার প্রায় প্রতিটি থানাতেই অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
স্থানীয় অধিবাসী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সামারি ট্রায়াল মূলত ছোটখাটো ও লঘু অপরাধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ইদানীং ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার এবং মারামারির মতো ঘটনাগুলোতেও নিয়মিত সামারি ট্রায়ালের প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। এর ফলে অপরাধীরা গুরুতর মামলার বিচার ও দীর্ঘমেয়াদি সাজা এড়িয়ে নামমাত্র জরিমানা বা স্বল্প সময়ের সাজার বিনিময়ে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে।থানাগুলোতে সামারি ট্রায়ালের আধিক্যের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
আইনজীবীরা সতর্ক করে বলছেন, অপরাধের ধরণ না দেখে ঢালাওভাবে সামারি ট্রায়াল ব্যবহার করা হলে বিচার ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা না হলে ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।
নারায়ণগঞ্জের সুশীল সমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা জেলা পুলিশ প্রশাসন এবং আদালত কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ছোটখাটো অপরাধ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই যেন চিহ্নিত বা পেশাদার অপরাধীদের সামারি ট্রায়ালের সুযোগ না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে থানাগুলোতে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন