“প্রবাসীর ছদ্মবেশে আলামিনের হুন্ডি ব্যবসার গোপন নেটওয়ার্ক”
বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলকে পাশ কাটিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লেনদেন এবং এর মাধ্যমে গড়ে ওঠা অঢেল সম্পত্তির বিষয়টি এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। সাধারণ প্রবাসীর ছদ্মবেশে কিংবা প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের আড়ালে যারা অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। বিশেষ করে আলোচিত ব্যক্তি আড়াইহাজার উপজেলার নদীবেষ্টিত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন এর অজোপাড়া গায়ের দূরন্ত ছেলে গাজী আলামিনের হুন্ডি সাম্রাজ্য ও এর নেপথ্য সহযোগীদের অবিলম্বে গভীরে গিয়ে তদন্ত করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হুন্ডি একটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন পদ্ধতি, যার মাধ্যমে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে যায়। আলামিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি প্রবাস জীবন বা স্থানীয় ব্যবসার আড়ালে মূলত একটি শক্তিশালী হুন্ডি সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছেন। এই চক্রের মাধ্যমে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধ পন্থায় হাতবদল করে দেশীয় মুদ্রায় রূপান্তর করা হতো এবং এর একটি বড় অংশ দিয়ে নিজের ও পরিবারের নামে বেনামে কেনা হয়েছে শত শত বিঘা জমি, রাজকীয় বাড়ি ও বাণিজ্যিক স্থাপনা।
গোয়েন্দা সূত্র ও অর্থনীতির বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমান সময়ের হুন্ডি ব্যবসায়ীরা আগের মতো সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস), মানি এক্সচেঞ্জ এবং বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপ (যেমন— হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো বা টেলিগ্রাম) ব্যবহার করে অত্যন্ত সুকৌশলে লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে। আলামিনের চক্রটিও ঠিক একই কায়দায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং ও হুন্ডির ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার এই রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার পেছনে এই হুন্ডি নেটওয়ার্কই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।
অর্থনীতিবিদ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হুন্ডি ব্যবসা কেবল ব্যক্তিবিশেষকে ধনীই করে না, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের ধস নামায়। এছাড়া এই অবৈধ অর্থের বড় অংশ মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। আলামিনের মতো ব্যক্তিরা যদি আইনের আওতার বাইরে থেকে যান, তবে তা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করবে।
আলামিনের হুন্ডি ব্যবসা এবং এর সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রের শিকড় কোথায় তা উদঘাটন করতে এখনই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) যৌথ ও জোরালো তদন্ত শুরু করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনা না হলে দেশের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো কঠিন হবে।


আপনার মতামত লিখুন