বন্দর শ্রী শ্রী লালজী মন্দির, সিরাজউদ্দৌলা মাঠ পূজা মন্ডপ এবং বন্দর বাজার মন্দিরসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২২ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন দুর্গোৎসব মন্ডপে শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ করা হয়েছে।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ২২ নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সমাজকর্মী অ্যাডভোকেট মোঃ শরীফুল ইসলাম শিপলু পূজা উদযাপন কমিটির আয়োজক প্রতিনিধিদের হাতে এসব শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন।
উপহার প্রদানকালে অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের শারদীয় দুর্গোৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির গণ্যমান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা যেন সাংগঠনিকভাবে বঞ্চনার শিকার না হন, সে বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. এইচ এম আনোয়ার প্রধান। তিনি তাঁর পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তকে অন্যায় ও অনৈতিক উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ নতুন কোর্ট এলাকার জেলা পরিষদের সামনে থেকে তাঁর এবং মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি এড. শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাতের পদ স্থগিতের প্রতিবাদে দলীয় নেতাকর্মী ও অনুসারীরা একটি বিশাল মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে আনোয়ার প্রধান এসব কথা বলেন।
মিছিলটি নতুন কোর্ট এলাকা থেকে শুরু হয়ে চানমারি রেললাইন অতিক্রম করে চাষাড়ায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান অংশগ্রহণকারীরা।
বক্তব্যে আনোয়ার প্রধান বলেন, গত ৬ অক্টোবরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির একটি বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মহানগর বিএনপির সদস্যপদও স্থগিত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি দলের নেতাকর্মীদের কাছে বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্তটিতে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়ে তাঁর সঙ্গে রাজপথে নেমেছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এসব নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। এ সময় তাঁরা নানা প্রতিকূলতা, জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। দলের দুঃসময়ে যাঁরা পাশে ছিলেন, তাঁদের অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা জরুরি।
আনোয়ার প্রধান আরও বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। তাঁদের উপেক্ষা করা কিংবা দল থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তাঁর মতো তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যেন দলের অভ্যন্তরে অন্যায়ভাবে বঞ্চনার শিকার না হন, সে বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ নুরী তাসমিন উর্মি। সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোখছেদুর রহমান,উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হাজী বিল্লাল হোসেন,বিআরডিবির চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশীদ,পৌর বিএনপি সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু,উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অধীর চন্দ্র সহা,সম্পাদক শ্রী অমুল্য চন্দ্র,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ তরিকুল ইসলাম,
উপজেলা জামায়াত ইসলামের আমীর মোঃ রাসেল মিয়া,পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জিবুতি উপকূলের কাছে একটি নৌকাডুবিতে ১৫ শিশুসহ অন্তত ১৩৯ জন নিহত এবং ৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
রোববার (১১ অক্টোবর) জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের বরাতে আইওএম জানায়, জিবুতির পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের কাছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি সংলগ্ন অ্যাডেন উপসাগরের কাছে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে নৌকাটি জিবুতি থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিল। দুর্ঘটনাকবলিতদের মধ্যে অন্তত ৮০ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তাদের সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক। জিবুতির উদ্ধারকারী দল এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
আইওএম-এর জিবুতি মিশনের প্রধান আলেকজান্ডার কোয়াক এই ‘মর্মান্তিক প্রাণহানির’ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের দল দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি সহায়তা প্রদান করছে।’
বার্তা সংস্থা এপিকে আলেকজান্ডার কোয়াক জানান, শুধু যাদের জিবুতি কর্তৃপক্ষ দাফন করেছে, সে সংখ্যাটাই এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর বাইরে অনেককে অভিবাসীরা নিজেরাই দাফন করেছেন। কর্তৃপক্ষ সেসব লাশের বিষয়ে তথ্য যাচাই না করা পর্যন্ত তাদের মূল হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।
জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী বাব আল-মান্দেব প্রণালি সংকীর্ণতম স্থানে মাত্র ২০ কিলোমিটার (১২.৪ মাইল) প্রশস্ত। এই পথ দিয়েই হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের হাজার হাজার অভিবাসী নিয়মিত যাতায়াত করেন।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার আশায় বহু মানুষ এই বিপজ্জনক যাত্রা বেছে নেন। ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং গত মাসে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত সত্ত্বেও এ রুটে অভিবাসীদের প্রবাহ থেমে নেই।
আইওএম জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বরের পর ইথিওপিয়া থেকে জিবুতিতে ‘২০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রবেশ করেছেন’ বলে নথিভুক্ত করেছে তারা। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ৫ লাখের বেশি মানুষ এই পথ ব্যবহার করে ইয়েমেনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন