আজ শুক্রবার আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়াচর গ্রামে পারিবারিক কোন্দলে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে বলে জানাগেছে।এবিষয়ে জানতে চেয়ে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ফকির জহির রহমানকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমাকে জড়িয়ে যে খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুয়া, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
একটি মহল আমার জনপ্রিয়তায় ঈশ্বান্বিত হয়ে আমাকে জড়িয়ে কুৎসা রটাচ্ছে।আমি বা আমার কোন কর্মী এ ঘটনার সাথে জড়িত নন।আমার নামে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কে বা কারা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এহেন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ইদানীং অপরাধ দমনে ব্যবহৃত ‘সামারি ট্রায়াল’ (সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়া) ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জটিল ও গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তরাও এই সংক্ষিপ্ত বিচার ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে স্বল্প শাস্তিতে সহজেই রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। ফলে নারায়ণগঞ্জ সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁসহ জেলার প্রায় প্রতিটি থানাতেই অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
স্থানীয় অধিবাসী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সামারি ট্রায়াল মূলত ছোটখাটো ও লঘু অপরাধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ইদানীং ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার এবং মারামারির মতো ঘটনাগুলোতেও নিয়মিত সামারি ট্রায়ালের প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। এর ফলে অপরাধীরা গুরুতর মামলার বিচার ও দীর্ঘমেয়াদি সাজা এড়িয়ে নামমাত্র জরিমানা বা স্বল্প সময়ের সাজার বিনিময়ে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে।থানাগুলোতে সামারি ট্রায়ালের আধিক্যের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
আইনজীবীরা সতর্ক করে বলছেন, অপরাধের ধরণ না দেখে ঢালাওভাবে সামারি ট্রায়াল ব্যবহার করা হলে বিচার ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা না হলে ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।
নারায়ণগঞ্জের সুশীল সমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা জেলা পুলিশ প্রশাসন এবং আদালত কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ছোটখাটো অপরাধ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই যেন চিহ্নিত বা পেশাদার অপরাধীদের সামারি ট্রায়ালের সুযোগ না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে থানাগুলোতে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ৯ নম্বর হাইজাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে আবারও এক জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে চণ্ডিবরদী গ্রামের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইতিহাস যেন আবার নতুন রূপে ফিরে আসছে। এক গ্রাম থেকেই অতীতে রাজনীতির দাবাখেলায় বলি হতে হয়েছিল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রিন্সকে, আর এবার সেই একই পথ ধরে রাজনৈতিক ‘বলির পাঠা’ হওয়ার দিকে এগোচ্ছেন আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা মো. এখলাস উদ্দিন লিটন ভূঁইয়া—এমনটাই চর্চা হচ্ছে স্থানীয় রাজনীতিতে।
এলাকার প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত নির্বাচনে সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর সমর্থন ও আশ্বাসে বিপুল অর্থ ও শ্রম ঢেলে মাঠে নেমেছিলেন প্রিন্স। কিন্তু নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে পর্দার অন্তরালে চড়া দামে সমঝোতা করে দলীয় প্রার্থিতা অন্য একজনের (আলী) ঝুলিতে তুলে দেন বাবু। মাঠ কাঁপানো প্রিন্স শেষ পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়ে ক্ষমতার রাজনীতির শিকার হন। প্রিন্সের এই করুণ পরিণতি হাইজাদী ইউনিয়নের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘রাজনৈতিক ব্যবহার ও বর্জনের’ এক বড় উদাহরণ হয়ে আছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাইজাদী ইউনিয়নে খেলাটির ধরন বদলালেও কৌশল একই রয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বর্তমানে বিএনপি সমর্থিত প্রভাবশালী মহল এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ মহলের সাথে যোগাযোগ রেখে ইউপি চেয়ারম্যান পদে লিটনকে কেন্দ্র করে নতুন করে ঘুঁটি চালনা শুরু হয়েছে।
তবে এই খেলার সবচেয়ে চমকপ্রদ ও বিতর্কিত দিক হলো দলের রাজনৈতিক পরিচয়। প্রিন্স ও বাবু দুজনেই ছিলেন একই রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ)। অন্যদিকে বর্তমান স্থানীয় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রক দল হলো বিএনপি, আর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হতে যাওয়া লিটন প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং দলীয় পদ থাকা সত্ত্বেও লিটন কীভাবে পার পাচ্ছেন—তা নিয়ে তৃণমূলের বিএনপির প্রবীণ নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, লিটন নিজের আওয়ামী লীগের পরিচয় আড়াল করে ‘নব্য বিএনপি নেতা’ হিসেবে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করছেন। এমনকি স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার-পোস্টার ছাপানো, তাদের পাশে বসে সভা-সমাবেশ করা এবং দলীয় প্রোগ্রামে খোলামেলা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিমত, আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও সুবিধাভোগী রাজনীতির কারণে হাইজাদীর সাধারণ ভোটাররা লিটনকে কোনোভাবেই সহজভাবে গ্রহণ করছেন না। তৃণমূল থেকে তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে যেমন সাবেক এমপি বাবু টাকার রাজনীতি ও ক্ষমতার হিসাব-নিকাশে প্রিন্সকে মাঠে নামিয়ে রাজনৈতিক বলির পাঠা বানিয়েছিলেন, ঠিক তেমনি বর্তমান প্রভাবশালী মহলও লিটনের আওয়ামী পরিচয় ও অর্থকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে কিংবা রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হলে লিটনকেও প্রিন্সের মতোই পথ ছেড়ে দিতে হতে পারে।
আওয়ামী লীগের খোলস ছেড়ে বিএনপির নতুন আশ্রয় খোঁজা লিটন শেষ পর্যন্ত রাজনীতির এই জটিল চাল থেকে লাভবান হবেন, নাকি প্রিন্সের মতোই রাজনৈতিক বলির পাঠা হয়ে মাঠ থেকে ছিটকে পড়বেন—হাইজাদীর বাতাসে এখন সেই উত্তরই খুঁজছেন সাধারণ মানুষ।
নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী অঙ্গন ও স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ এবং সমীকরণ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নতুন নেতৃত্বের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আইনি ও রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন চলছে, অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী মুখ অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা এবং জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক ও পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকিরের নেতৃত্বে আসছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ফোরামের নতুন কমিটি।
সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন এবং বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অভ্যন্তরীণ নানা মতবিরোধ ও দূরত্বের জেরে ফোরামের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আইনজীবীদের একটি বড় অংশের মতে, আদালতের দীর্ঘদিনের পেশাদার পরিবেশ রক্ষা এবং দলের ভেতরে সব পক্ষের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে অ্যাডভোকেট খোরশেদ মোল্লা ও অ্যাডভোকেট জাকিরের মতো পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ নেতাদের বিকল্প নেই। আন্দোলন-সংগ্রাম ও পেশাগত ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বসুলভ ভূমিকা আইনজীবীদের মাঝে বেশ গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে।
গত কিছুদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ বারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রার্থিতা ও নেতৃত্ব নিয়ে নানা আলোচনা ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের হিসাব-নিকাশ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কাটাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও নড়েচড়ে বসেছে। এই পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে আস্থায় নিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী প্যানেল বা কমিটি উপহার দিতে শীর্ষ এই দুই নেতার কাঁধে দায়িত্ব অর্পিত হতে পারে বলে গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি নারায়ণগঞ্জের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বারের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং আসন্ন নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয় ছিনিয়ে আনতে শেষ পর্যন্ত অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা ও অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকিরের নেতৃত্বে কোনো নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার সাধারণ আইনজীবীরা।
আপনার মতামত লিখুন