খুঁজুন

বন্দর উপজেলা সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বন্দর।।
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
বন্দর উপজেলা সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

বন্দর উপজেলা সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৪২ সদস্য বিশিষ্ট এই নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আগামী দুই বছরের পথচলা শুরু হলো।

 

গতকাল ১৫ মে (শুক্রবার) বিকেলে মদনগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

 

নবগঠিত এই কমিটিতে সংগঠনের সবার প্রিয়ভাজন, সমাজকর্মী আলমগীর আজাদ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব পেয়েছেন বিগত কমিটির সফল সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ভূঁইয়া মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মোরশেদ রতন। এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন মো. জিয়াউদ্দিন ভুইয়া।

 

কমিটি ঘোষণার পর নবাগত নেতৃবৃন্দ সংগঠনের সকল সাধারণ সদস্যের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

এক যৌথ বিবৃতিতে নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, তারা অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সাথে পালন করবেন। একই সাথে আগামী দিনে সিনিয়র সিটিজেনদের অধিকার রক্ষা, সংগঠনের অগ্রগতি এবং সামগ্রিক সমাজ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

 

অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্যান্য সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানান।

সরকারি সফর আলী কলেজে এইচএসসিতে চরম ফলাফল বিপর্যয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, আড়াইহাজার।
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
সরকারি সফর আলী কলেজে এইচএসসিতে চরম ফলাফল বিপর্যয়।

​

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজ’-এ সদ্য প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় চরম ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। এবার কলেজটি থেকে পাসের হার মাত্র ৩১ শতাংশের কাছাকাছি। উপজেলার সেরা সরকারি ও ঐতিহ্যবাহী কলেজটিতে এমন আশঙ্কাজনক ফলাফলে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

​কলেজ সূত্রে জানা যায়, এবার আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই অকৃতকার্য হয়েছে। উপজেলার অন্যতম প্রধান ও সরকারি কলেজ হওয়া সত্ত্বেও এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করার বিষয়টিকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

​ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মতে, এ বিপর্যয়ের অন্তরালে কয়েকটি প্রধান কারণ থাকতে পারে, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং শ্রেণি কার্যক্রমে তদারকির শিথিলতা, শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া এবং পড়াশোনায় অবহেলা।বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পাঠদানের মান নিশ্চিতকরণে প্রশাসনিক তদারকির অভাব।তরুণ প্রজন্মের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল আসক্তি পড়াশোনা থেকে তাদের দূরে সরিয়ে নিচ্ছে।

​এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, সরকারি একটি কলেজের এমন ফলাফল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রতি বছরই ফলাফল খারাপের দিকে যাচ্ছে, কিন্তু এবার তা একেবারে সর্বনিম্নে গিয়ে ঠেকেছে। এর পেছনের প্রকৃত কারণ কী, তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিত।

​শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীদের দোষ না দিয়ে কেন এবং কী কারণে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলো—তা নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে একাডেমিক তদারকি বৃদ্ধি, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ না নিলে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি আরও চরম সংকটে পড়বে।

আড়াইহাজার “পায়রা চত্বর” সৌন্দর্য বর্ধন ও আধুনিকায়নের জোর দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক, আড়াইহাজার।
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
আড়াইহাজার “পায়রা চত্বর” সৌন্দর্য বর্ধন ও আধুনিকায়নের জোর দাবি।

 

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘পায়রা চত্বর’ উপজেলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ স্থান। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন এই চত্বর অতিক্রম করে। তবে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক নকশার অভাবে চত্বরটি তার কাঙ্ক্ষিত সৌন্দর্য হারাচ্ছে। বর্তমানে পায়রা চত্বরটির সৌন্দর্য বর্ধন ও আধুনিকায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।একই সঙ্গে এই জনগুরুত্বপূর্ণ কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপির) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় শান্তির প্রতীক পায়রাকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং উপজেলা সদরের সৌন্দর্য বাড়াতে এই চত্বরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে চত্বরসংলগ্ন অংশ, ফোয়ারা এবং চারপাশের অবকাঠামো সংস্কারের অভাবে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়া অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র হকারদের অবস্থান এবং বিজ্ঞাপনী ব্যানারের কারণে এটি তার আসল নান্দনিকতা হারাচ্ছে।

এলাকাবাসীর মতে, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে চত্বরটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলা সম্ভব। আধুনিক লাইটিং, নান্দনিক ফোয়ারা স্থাপন, পর্যাপ্ত সবুজায়ন (গাছপালা ও ফুলের বাগান) এবং চত্বরের চারপাশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনলে এটি একটি আকর্ষণীয় পয়েন্টে পরিণত হতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, আড়াইহাজার সদরের কেন্দ্রবিন্দু হলো এই পায়রা চত্বর। যেকোনো বহিরাগত মানুষ আড়াইহাজারে এলে প্রথমেই এটি চোখে পড়ে। তাই চত্বরটিকে নতুন রূপে সাজানো হলে উপজেলার সার্বিক সৌন্দর্য অনেক গুণে বেড়ে যাবে।

উপজেলার এই ঐতিহ্যবাহী চত্বরটির বেহাল দশা দূর করতে এবং এর আধুনিক সৌন্দর্য বর্ধন নিশ্চিত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সরাসরি দিকনির্দেশনা ও কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন আড়াইহাজারের সর্বস্তরের সচেতন জনগণ।

 

“তিন হেভিওয়েটের সমীকরণ, নাকি অন্য কেউ”?

নিজস্ব প্রতিবেদক,নারায়ণগঞ্জ।
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
“তিন হেভিওয়েটের সমীকরণ, নাকি অন্য কেউ”?

 

​নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে (নাসিক) ঘিরে রাজনীতিতে এখন নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। স্থানীয় সরকার কাঠামোর পরিবর্তনের হাওয়ায় নগরবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন—কে হচ্ছেন প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত এই নগরের আগামী দিনের অভিভাবক বা ‘নগর পিতা’? এই আলোচনায় ঘুরেফিরে আসছে তিন প্রভাবশালী মুখ। বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ (মডেল মাসুদ) এবং এমপি নজরুল ইসলাম আজাদের ভাই ব্যবসায়ী রাকিবুর রহমান রাকিব।তবে আপাতদৃষ্টিতে দৌড়ে থাকা এই তিন মুখের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় নানা জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ‘সাত খুন’ মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আইনি লড়াই চালিয়ে প্রথম সারা দেশে পরিচিতি পান। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃত্ব দেওয়া সাখাওয়াত মহানগর বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব লাভ করেন এবং ২০১৬ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদে তিনি নাসিক-এর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন। তবে চেয়ারে বসার পর থেকেই ফুটপাত উচ্ছেদ, হকারদের ক্ষোভ ও স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সামলাতে গিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি আদালত চত্বরের অনভিপ্রেত ঘটনা ও উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিতর্ক তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের ইমেজ সংকট তৈরি করেছে। দলীয় হাইকম্যান্ড শেষ পর্যন্ত এই বিতর্ক কাটিয়ে তার ওপর আস্থা রাখবে, নাকি নতুন বিকল্প খুঁজবে—তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে ‘ডিয়ার মোস্তফা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। ‘মেইড ইন নারায়ণগঞ্জ’ স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি নগর রাজনীতিতে স্থান করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিগত দিনে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠতা ও বিগত সরকারের অনুগ্রহ পাওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—তৃণমূল রাজনীতিতে বা বিএনপির দলীয় কোনো সাংগঠনিক পদ-পদবী তার নেই। ফলে জনসেবা ও ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে ভোটার ও কেন্দ্রের আস্থা কতটা অর্জন করতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও এমপি নজরুল ইসলাম আজাদের ছোট ভাই রাকিব এর মূল পরিচয় ব্যবসায়ী। তবে বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ‘মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়তামূলক কাজ করে তিনি এক ধরনের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। মডেল মাসুদের মতো রাকিবেরও বিএনপি দলীয় কোনো পদ- পদবী নেই। তার চেয়ে বড় বিষয়, তিনি আদৌ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকার নিবন্ধিত ভোটার কি না—তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ধোঁয়াশা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে নিজস্ব ভোটার পরিচয় এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে সরাসরি দলীয় সমর্থন ছাড়া মেয়রের মতো বড় পদে শক্ত অবস্থান নেওয়া সহজ নয়।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াতের আইনি ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকলেও সাময়িক ইমেজ সংকট তার বড় বাধা। অন্যদিকে মডেল মাসুদ ও রাকিবের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাব থাকলেও দলীয় পদবী এবং সরাসরি রাজনৈতিক কাঠামোর অভাব তাদের পিছিয়ে রাখছে।নারায়ণগঞ্জ সিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ময়দানে দলীয় প্রতীক, স্থানীয় ভোটারদের সরাসরি সমর্থন ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিই চূড়ান্ত নিয়ামক। এই তিন হেভিওয়েটের নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা কি শেষ মুহূর্তে কোনো ‘বিতর্কহীন ও সর্বজনগ্রাহ্য’ নতুন মুখ এনে চমক দেবেন, নাকি এই তিনের মধ্য থেকেই কাউকে বেছে নেবেন—তা দেখতে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে নগরবাসীকে।

 

সরকারি সফর আলী কলেজে এইচএসসিতে চরম ফলাফল বিপর্যয়। আড়াইহাজার "পায়রা চত্বর" সৌন্দর্য বর্ধন ও আধুনিকায়নের জোর দাবি। "তিন হেভিওয়েটের সমীকরণ, নাকি অন্য কেউ"? "শেখ হাসিনা পতনের পরও আড়াইহাজার সাব- রেজিষ্ট্রী অফিসে সিন্ডিকেট দৌরাত্ম " "মার্কেটিং ম্যানেজার থেকে কোটিপতি, নেপথ্যে কি"?