“প্রিন্সের পথেই হাটছেন লিটন”

নিজস্ব প্রতিবেদক, আড়াইহাজার।
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

 

 

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ৯ নম্বর হাইজাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে আবারও এক জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে চণ্ডিবরদী গ্রামের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইতিহাস যেন আবার নতুন রূপে ফিরে আসছে। এক গ্রাম থেকেই অতীতে রাজনীতির দাবাখেলায় বলি হতে হয়েছিল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রিন্সকে, আর এবার সেই একই পথ ধরে রাজনৈতিক ‘বলির পাঠা’ হওয়ার দিকে এগোচ্ছেন আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা মো. এখলাস উদ্দিন লিটন ভূঁইয়া—এমনটাই চর্চা হচ্ছে স্থানীয় রাজনীতিতে।

এলাকার প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত নির্বাচনে সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর সমর্থন ও আশ্বাসে বিপুল অর্থ ও শ্রম ঢেলে মাঠে নেমেছিলেন প্রিন্স। কিন্তু নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে পর্দার অন্তরালে চড়া দামে সমঝোতা করে দলীয় প্রার্থিতা অন্য একজনের (আলী) ঝুলিতে তুলে দেন বাবু। মাঠ কাঁপানো প্রিন্স শেষ পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়ে ক্ষমতার রাজনীতির শিকার হন। প্রিন্সের এই করুণ পরিণতি হাইজাদী ইউনিয়নের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘রাজনৈতিক ব্যবহার ও বর্জনের’ এক বড় উদাহরণ হয়ে আছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাইজাদী ইউনিয়নে খেলাটির ধরন বদলালেও কৌশল একই রয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বর্তমানে বিএনপি সমর্থিত প্রভাবশালী মহল এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ মহলের সাথে যোগাযোগ রেখে ইউপি চেয়ারম্যান পদে লিটনকে কেন্দ্র করে নতুন করে ঘুঁটি চালনা শুরু হয়েছে।

তবে এই খেলার সবচেয়ে চমকপ্রদ ও বিতর্কিত দিক হলো দলের রাজনৈতিক পরিচয়। প্রিন্স ও বাবু দুজনেই ছিলেন একই রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ)। অন্যদিকে বর্তমান স্থানীয় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রক দল হলো বিএনপি, আর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হতে যাওয়া লিটন প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং দলীয় পদ থাকা সত্ত্বেও লিটন কীভাবে পার পাচ্ছেন—তা নিয়ে তৃণমূলের বিএনপির প্রবীণ নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, লিটন নিজের আওয়ামী লীগের পরিচয় আড়াল করে ‘নব্য বিএনপি নেতা’ হিসেবে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করছেন। এমনকি স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার-পোস্টার ছাপানো, তাদের পাশে বসে সভা-সমাবেশ করা এবং দলীয় প্রোগ্রামে খোলামেলা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিমত, আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও সুবিধাভোগী রাজনীতির কারণে হাইজাদীর সাধারণ ভোটাররা লিটনকে কোনোভাবেই সহজভাবে গ্রহণ করছেন না। তৃণমূল থেকে তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে যেমন সাবেক এমপি বাবু টাকার রাজনীতি ও ক্ষমতার হিসাব-নিকাশে প্রিন্সকে মাঠে নামিয়ে রাজনৈতিক বলির পাঠা বানিয়েছিলেন, ঠিক তেমনি বর্তমান প্রভাবশালী মহলও লিটনের আওয়ামী পরিচয় ও অর্থকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে কিংবা রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হলে লিটনকেও প্রিন্সের মতোই পথ ছেড়ে দিতে হতে পারে।

আওয়ামী লীগের খোলস ছেড়ে বিএনপির নতুন আশ্রয় খোঁজা লিটন শেষ পর্যন্ত রাজনীতির এই জটিল চাল থেকে লাভবান হবেন, নাকি প্রিন্সের মতোই রাজনৈতিক বলির পাঠা হয়ে মাঠ থেকে ছিটকে পড়বেন—হাইজাদীর বাতাসে এখন সেই উত্তরই খুঁজছেন সাধারণ মানুষ।

 

প্রকাশক ও সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল মামুন । বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃশিমুলতলীর বাজার,হাইজাদী, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ। মোবাইলঃ 01923708085, ইমেইল : alm97384@gmail.com, ওয়েব সাইট : www.deshbani24.com

প্রিন্ট করুন