স্টাফ রিপোর্টারঃ MTFE, ইউনিপে, যুবকের অতীতের বিতর্কের পর আবারও আলোচনায় X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটস)। অতিরিক্ত মুনাফার প্রলোভনে দেশের মানুষের নিকট থেকে হাতিয়ে নিয়েছে অন্তত
১, ২০০ (এক হাজার দুইশত) কোটি টাকা।
দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে অনলাইনভিত্তিক উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম। X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটস) ।ফরেক্স ট্রেডিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর ট্রেডিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্লক চেইনের ( Binance, USDT, Bitcoin) মাধ্যমে লাখে ১৫০০-২৫০০০ টাকা আয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহের তথ্য উঠছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এ কর্মকান্ডের মুল হোতা ইন্জিনিয়ার আতিকুর রহমান সহ অন্তত ৪৮ জন প্রতারক চক্র পরিচালনা করেছে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম কথিত ফরেক্স নামীয় X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটস)। সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এরশাদ (রাজশাহী ) , আজাহার (রাজশাহী, বাগমারা ,তাহেরপুর), ডলার জাইবুর (রাজশাহী, বাগমারা ,ভবানীগঞ্জ ইত:পূর্বে পিএলসি সহ একাধিক স্ক্যাম কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে রাজশাহীতে কিনেছেন একাধিক ফ্ল্যাট), হোসাইন আলী ( মানিকপুর বড়াইগ্রাম, নাটোর, মবিল ব্যবসায়ী হতে বর্তমানে কোটিপতি বনে গেছেন ), ফোরকান , খাইরুল, মোয়াজ্জেম, সাইফুল মামা (কুমিল্লা ইতোঃপূর্বে ডিজিটাল এএফসি কয়েন এর মাধ্যমে পাচার করেছেন প্রায় ৩০০ কোটি টাকা), সাখাওয়াত (ঢাকা) সোহেল রানা, (ঢাকা) মজিদ (নাটোর), জুয়েল (সিরাজগঞ্জ) মহিউদ্দিন জামিল (ঢাকা ইতঃপূর্বে হিলটন এপেক্স, MTFE, ক্রস মার্কেট সহ একাধিক স্ক্যাম কোম্পানিতে ছিলেন) মোয়াজ্জেম, সাদ্দাম, নাজমুল ( রাজশাহী ভবানীগঞ্জ), জাফর (পুঠিয়া ইতিপূর্বে ডিজিটাল ইনভেস্টমেন্ট ও এএফসি কয়েনের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা), সহ চট্টগ্রাম, ফেনী, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, পাবনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, আরো অন্তত ৩০ টি জেলার অঙ্গাতনামা বিভিন্ন লোকজন প্রতিনিধি হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি, দিনমজুর থেকে সাধারণ মানুষ অধিক মুনাফার লোভে ব্যাংক ডিপিএস, এফডিআর, পোষ্ট অফিসের সঞ্চয় পত্র, গরু ছাগল, জায়গা জমি বিক্রি করে বিনিয়োগ করে যাচ্ছেন X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটসে। কারণ, নভেম্বরে ৫০০০ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ৫০০০ মার্কিন ডলার বোনাস সহ আরো পুরস্কার ৫০০ মার্কিন ডলার। অর্ধেক বিনিয়োগে অর্ধেক বোনাস, সাথে রয়েছে অধিক মুনাফার প্রলোভন ও চোখ ধাঁধানো পুরস্কার। এমন ই অফার দিচ্ছে মানুষের কাছে থেকে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ব্লক চেইনের ( Binance, USDT, Bitcoin) মাধ্যমে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সব মিলিয়ে অনুসন্ধানে এ যাবৎ কালে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
ভয়ংকর মুনাফার প্রলোভনের
প্রচারণায় যদি ১ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে প্রতি মাসে ১৫০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলার আয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তাহলে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কারণ, এই হিসাবে মাসিক মুনাফার হার দাঁড়ায় ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ যা বাস্তবে অসম্ভব ।
একসময় MTFE, ইউনিপে ও যুবককে ঘিরে ওঠা বিতর্ক এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা এখনো অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি করে।
অনলাইন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে সংগৃহীত অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি, ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক মাধ্যম ব্যবহার করে দেশের বাইরে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এই অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম কথিত ফরেক্স কোম্পানি X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটস) বাংলাদেশে পুলিশ প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে প্রায় ১৩ মাস যাবৎ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রতারক চক্র।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জনাব মোঃ মোস্তাকুর রহমান গনমাধ্যমের এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন,
” আমরা নিষিদ্ধ ফরেক্স মার্কেট, অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সহ প্রতারণা করতে পারে এমন ওয়েবসাইটে ও কোম্পানির বিষয়ে সতর্ক করে যাচ্ছি তার মধ্যে অন্যতম X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটস) , ক্রস মার্কেট, ব্রটব্রো, আরবিক্সল্যাব, ট্রেড ল্যাব, অতিথি ডটকম সহ আরো অনেক কোম্পানি। সাধারণ জনগণের উচিৎ অধিক মুনাফার প্রলোভনে অন্ধকারে টাকা বিনিয়োগ না করা এবং প্রতারক চক্রদের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করা। এগুলোর কোন বৈধতা নেই। ”
অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্তে বিভাগ (CID) সিআইডি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ গনমাধ্যমের বিভিন্ন প্রেসব্রিফিংয়ে এই সকল স্ক্যাম কোম্পানি, নিষিদ্ধ ফরেক্স, অনলাইন জুয়া , ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ে তৎপর আছেন বলে জানিয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত যেকোন প্রতারনা মূলক ওয়েবসাইট বন্ধ করতে বিটিআরসিকে অবগত করে যাচ্ছেন।
অন্য দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (DB) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম গনমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ” অপরাধী যেই হোক ;এসকল অপরাধীদের আটক করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত। ইতঃপূর্বেও ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে । আপনারা দেখতে পাচ্ছেন প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান হতে অপরাধীদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করে সাইবার সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে মামলা দায়ের করে বিচারের জন্য আদালতে প্রেরণ করে যাচ্ছি। তবে গনমাধ্যমে এবং সাধারণ জনগণ যদি এগিয়ে আসে, প্রতারক চক্রকে আরো দ্রুত আটক করতে পারবো বলে আশা করি । এজন্য আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি। ”
বিভিন্ন নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মহোদয় গন গনমাধ্যমের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেন,
” মানুষ তাদের লোভের কারণে এবং অতিরিক্ত মুনাফার লোভে বিভিন্ন নিষিদ্ধ কোম্পানিতে ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। এটা যদি অতি দ্রুত লাগাম টেনে না ধরা হয় তবে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এগুলোর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সাধারণ জনগণ , পুলিশ- প্রশাসন সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ”
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, মূলত এসকল কোম্পানি এবং অপরাধীদের কোন নির্দিষ্ট অফিস নেই। তারা বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের হোটেলে বিজনেস সেমিনার দেখায় যেন পুলিশ প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে পারে। এমনকি অপরাধীরা একেক দিন একেক হোটেলে বসে, লোকেশন পরিবর্তন করে, ভার্চুয়াল মিটিংয়ের মাধ্যমে তাদের চক্র এবং গ্ৰাহকদের সাথে যোগাযোগ করেন। এর সাথে হোটেল কর্তৃপক্ষ জড়িত আছেন, কারণ তারা জেনে এই সকল স্ক্যাম কোম্পানির প্রোগ্রাম বা সেমিনার করার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। উল্লেখ্য গত ৬ নভেম্বর ২০২৬ X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটস) এর অন্যতম সোহেল রানা লিডার কুয়াকাটায় প্রায় ৪৫০ জন বিনিয়োগকারীদের নিয়ে একটি সেমিনার করেছেন যে যেখানে বলা হয়েছে ৫০০০ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ৫০০০ মার্কিন ডলার বোনাস এবং আরো থাকছে ৫০০ মার্কিন ডলার পুরস্কার!!
মতামত জানতে চাইলে উপরোক্ত প্রতারক চক্রদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেন নাই। কারণ তারা অপরিচিত লোকের নম্বর রিসিভ করেন না। তাই তাদের মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি কি তারা যে মোবাইল সিম নম্বর ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের নামে রেজিষ্ট্রেশন করা নেই বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।
সাধারণ জনগণের দাবী অতিদ্রুত X-FUSION TAG MARKETS (এক্স ফিউশন ট্যাগ মার্কেটস) এর কার্যক্রম বন্ধ সহ প্রতারক চক্রদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা আরো বাড়ানো দরকার। যদি পুলিশ-প্রশাসন ব্যার্থ হয়, তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ৪:২৮ অপরাহ্ণ