নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজ’-এ সদ্য প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় চরম ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। এবার কলেজটি থেকে পাসের হার মাত্র ৩১ শতাংশের কাছাকাছি। উপজেলার সেরা সরকারি ও ঐতিহ্যবাহী কলেজটিতে এমন আশঙ্কাজনক ফলাফলে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, এবার আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই অকৃতকার্য হয়েছে। উপজেলার অন্যতম প্রধান ও সরকারি কলেজ হওয়া সত্ত্বেও এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করার বিষয়টিকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মতে, এ বিপর্যয়ের অন্তরালে কয়েকটি প্রধান কারণ থাকতে পারে, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং শ্রেণি কার্যক্রমে তদারকির শিথিলতা, শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া এবং পড়াশোনায় অবহেলা।বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পাঠদানের মান নিশ্চিতকরণে প্রশাসনিক তদারকির অভাব।তরুণ প্রজন্মের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল আসক্তি পড়াশোনা থেকে তাদের দূরে সরিয়ে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, সরকারি একটি কলেজের এমন ফলাফল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রতি বছরই ফলাফল খারাপের দিকে যাচ্ছে, কিন্তু এবার তা একেবারে সর্বনিম্নে গিয়ে ঠেকেছে। এর পেছনের প্রকৃত কারণ কী, তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিত।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীদের দোষ না দিয়ে কেন এবং কী কারণে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলো—তা নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে একাডেমিক তদারকি বৃদ্ধি, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ না নিলে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি আরও চরম সংকটে পড়বে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, আড়াইহাজার।
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:১২ অপরাহ্ণ