ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলে হামাসের হামলার নেপথ্যে

  • বংশাই আইটি
  • আপডেট : ০৩:১৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩
  • 16

হামাসের রাজনৈতিক শাখার ডেপুটি হেড সালেহ আল-আরোরি বলেছেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য হামাসের ইচ্ছা এবং দৃঢ় সংকল্প তার সুড়ঙ্গ ও ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী।

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির ‘ফেস টু ফেস’ অনুষ্ঠানের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।

এ সময় ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ৭ অক্টোবর হামাসের পরিচালিত অভিযানের পেছনে কী কী কারণ ছিল সেসব নিয়েও আলোচনা করেন আরোরি। এক প্রতিবেদনে গণমাধ্যমটি এ খবর জানিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে সালেহ আল-আরোরি বলেন, হামাস যোদ্ধাদের ধারণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো- তারা ন্যায্য অধিকার এবং ন্যায়সঙ্গত কারণে লড়ছে। আর এ ধারণায় বিশ্বাসীরা এই বোধের জন্য আত্মত্যাগ করতেও প্রস্তুত। আমাদের কাছে এটিই সবচেয়ে বড় বিষয় এবং তা সুড়ঙ্গ ও ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি নির্ভরযোগ্য। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মধ্য এই ইচ্ছাশক্তি এবং দৃঢ় সংকল্প থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনকিছুই আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।

আরোরি বলেন, ৭ অক্টোবরের ঘটনাটি বিরল কিছু নয়। এটি ছিল ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জনের এবং বিশ্বের অন্যান্য জাতিদের মতো নিজেদের রাষ্ট্র ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বাঁচার লড়াইয়ের অংশ। সুতরাং এটি ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামের আরেকটি পর্যায়, তবে এটি একটি বড় এবং শক্তিশালী পর্যায় যা ইসরাইলি শাসনকে একটি বড় ধরণের ধাক্কা দিয়েছে।

হামাসের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই অভিযান এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ‘একটি মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই নয়’।

আরোরি আরও বলেছেন, অপারেশন আল-আকসা স্টর্মের পেছনে যেসব কারণ রয়েছে তার মধ্যে ইসরাইলি শাসকদের চরমপন্থি নীতিগুলো অন্যতম। এ নীতিগুলোর মধ্যে বসতির সম্প্রসারণ এবং অধিকৃত আল-কুদস শহরে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণকে অস্থিতিশীল করাসহ গাজা উপত্যকায় বছরের পর বছর ধরে আরোপিত অবরোধ অন্যতম।

বর্তমান ইসরাইলি শাসন সীমা পার করে ফেলেছে। তিনি বলেছিলেন, ‘এর সামনে এখন আর চুপ থাকার কোনো উপায় নেই।’

ফিলিস্তিনের জণগণের ওপর ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবহেলার নিন্দা জানিয়ে আরোরি বলেছেন, বিশ্ববাসীর এমন নীরবতা সংঘাত সমাধানের সম্ভাব্য সুযোগ নষ্ট করছে।

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি শাসকের কয়েক দশক ধরে চলা সহিংসতার প্রতিক্রিয়ায় গত ৭ অক্টোবর দখলদারদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন আল-আকসা স্টর্ম’ নামে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। এর জবাবে ওই দিনই গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরাইল।

এ হামলা শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৫২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

এই ভূখণ্ডে ‘পূর্ণ অবরোধ’ আরোপ করেছে তেল আবিব। সেখানে বসবাসকারী ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিদের জন্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও পানি বন্ধ করে দিয়েছে।

ট্যাগস :

ইসরাইলে হামাসের হামলার নেপথ্যে

আপডেট : ০৩:১৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩

হামাসের রাজনৈতিক শাখার ডেপুটি হেড সালেহ আল-আরোরি বলেছেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য হামাসের ইচ্ছা এবং দৃঢ় সংকল্প তার সুড়ঙ্গ ও ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী।

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির ‘ফেস টু ফেস’ অনুষ্ঠানের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।

এ সময় ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ৭ অক্টোবর হামাসের পরিচালিত অভিযানের পেছনে কী কী কারণ ছিল সেসব নিয়েও আলোচনা করেন আরোরি। এক প্রতিবেদনে গণমাধ্যমটি এ খবর জানিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে সালেহ আল-আরোরি বলেন, হামাস যোদ্ধাদের ধারণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো- তারা ন্যায্য অধিকার এবং ন্যায়সঙ্গত কারণে লড়ছে। আর এ ধারণায় বিশ্বাসীরা এই বোধের জন্য আত্মত্যাগ করতেও প্রস্তুত। আমাদের কাছে এটিই সবচেয়ে বড় বিষয় এবং তা সুড়ঙ্গ ও ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি নির্ভরযোগ্য। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মধ্য এই ইচ্ছাশক্তি এবং দৃঢ় সংকল্প থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনকিছুই আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।

আরোরি বলেন, ৭ অক্টোবরের ঘটনাটি বিরল কিছু নয়। এটি ছিল ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জনের এবং বিশ্বের অন্যান্য জাতিদের মতো নিজেদের রাষ্ট্র ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বাঁচার লড়াইয়ের অংশ। সুতরাং এটি ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামের আরেকটি পর্যায়, তবে এটি একটি বড় এবং শক্তিশালী পর্যায় যা ইসরাইলি শাসনকে একটি বড় ধরণের ধাক্কা দিয়েছে।

হামাসের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই অভিযান এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ‘একটি মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই নয়’।

আরোরি আরও বলেছেন, অপারেশন আল-আকসা স্টর্মের পেছনে যেসব কারণ রয়েছে তার মধ্যে ইসরাইলি শাসকদের চরমপন্থি নীতিগুলো অন্যতম। এ নীতিগুলোর মধ্যে বসতির সম্প্রসারণ এবং অধিকৃত আল-কুদস শহরে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণকে অস্থিতিশীল করাসহ গাজা উপত্যকায় বছরের পর বছর ধরে আরোপিত অবরোধ অন্যতম।

বর্তমান ইসরাইলি শাসন সীমা পার করে ফেলেছে। তিনি বলেছিলেন, ‘এর সামনে এখন আর চুপ থাকার কোনো উপায় নেই।’

ফিলিস্তিনের জণগণের ওপর ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবহেলার নিন্দা জানিয়ে আরোরি বলেছেন, বিশ্ববাসীর এমন নীরবতা সংঘাত সমাধানের সম্ভাব্য সুযোগ নষ্ট করছে।

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি শাসকের কয়েক দশক ধরে চলা সহিংসতার প্রতিক্রিয়ায় গত ৭ অক্টোবর দখলদারদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন আল-আকসা স্টর্ম’ নামে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। এর জবাবে ওই দিনই গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরাইল।

এ হামলা শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৫২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

এই ভূখণ্ডে ‘পূর্ণ অবরোধ’ আরোপ করেছে তেল আবিব। সেখানে বসবাসকারী ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিদের জন্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও পানি বন্ধ করে দিয়েছে।