নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যেন থামছেই না অপরাধ ও রক্তপাতের খেলা। একের পর এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে পুরো উপজেলায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মনে। সম্প্রতি ওসমান হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খুন হলেন জহির নামে আরেক ব্যক্তি। স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন—”ওসমানের পর জহির খুন, তারপর কে?” একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে এখন চরম ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। কে কার পরে টার্গেটে পরিণত হবেন—এই ভয়ে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতির কারণেই অপরাধীরা বারবার এমন নৃশংস ঘটনা ঘটাতে সাহস পাচ্ছে। কিছুদিন আগে ওসমান নামের এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের শোক কাটতে না কাটতেই জহিরের প্রাণহানি পুরো জনপদকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। একের পর এক এমন খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, অপরাধচক্রগুলোর শেকড় কতদূর গভীরে?
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শোকারিত ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, দ্রুত এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জোরদার অভিযান চলছে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু দায়সারা অভিযান নয়, বরং এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি এবং অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।
একের পর এক তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার এই মিছিলে ইতি টানতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে প্রশাসন কতোটা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:২০ পূর্বাহ্ণ