“নৌকার মাঝিও কুড়াতে চায় ধান”

নিজস্ব প্রতিবেদক, আড়াইহাজার।
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:৩১ অপরাহ্ণ

“রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই”—এই বহু পুরোনো চর্বিতচর্বণ উক্তিটির বাস্তব মহড়া যেন দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ৯ নং হাইজাদী ইউনিয়ন পরিষদের আগাম নির্বাচনি হাওয়ায়। ক্ষমতার পালাবদলের পর পুরো দেশের মতো হাইজাদী ইউনিয়নের রাজনৈতিক সমীকরণ ও সমপ্রকৃতির প্রার্থীরাও বদলেছেন নিজেদের খোলস। তবে সব আলোচনা ও কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া (লিটন)। অতীতে যিনি ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ বলয়ের অন্যতম চালিকাশক্তি, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনিই এখন বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের মন জয় করতে এবং সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পেতে বেশ মরিয়া। স্থানীয় রাজনীতি সচেতন নাগরিকরা তাই রসিকতা করে পুরো ঘটনাকে এক লাইনে নাম দিয়েছেন—”নৌকার মাঝি কুড়াতে চায় ধান”।

বিগত বছরগুলোতে আড়াইহাজারের স্থানীয় রাজনীতিতে তৎকালীন সংসদ সদস্যের ক্ষমতার প্রভাব ছিল সর্বব্যাপী। সেই বলয়ের অন্যতম বিশ্বস্ত ও প্রভাবশালী অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এখলাস উদ্দিন লিটন। ইউনিয়ন লেভেলের দলীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ, বড় বড় জনসভা আয়োজন, প্রশাসনিক নানান তদবির থেকে শুরু করে এমপির প্রতিটি পদক্ষেপে ছায়ার মতো পাশে থাকা—সবখানেই দেখা গেছে তাঁর দাপুটে উপস্থিতি। নৌকার প্রভাবে বলীয়ান হয়ে সেসময় এলাকায় তিনি তৈরি করেছিলেন নিজ প্রভাববলয়।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ক্ষমতার পটবদলের পর রাতারাতি উল্টে যায় স্থানীয় রাজনীতির চিত্রপট। আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে গেলেও বা কোণঠাসা হয়ে পড়লেও, কৌশল বদলে মাঠে রয়ে গেছেন লিটন। হাইজাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ের হিসাব মেলাতে তিনি এখন অতীত পরিচয়ের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে ‘জনগণের প্রার্থী’ ও বিএনপি ঘরানার ভোটারদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছেন। জনসেবার নানা আশ্বাস, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কৌশলী কুশলবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি নিজের এক নতুন ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এখলাস উদ্দিন লিটনের এই হঠাৎ পরিবর্তন ও ‘ধান কুড়ানোর’ দৌড়ঝাঁপকে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেকে কোণঠাসা হওয়া থেকে বাঁচাতে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের সঙ্গে একপ্রকার সমঝোতা তৈরি করা এবং জনসমর্থনের দোহাই দিয়ে নিজেকে নিরাপদ রাখাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে মনে করছেন।

স্থানীয় ভোটারদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
​লিটনের এই গতিপথ পরিবর্তন নিয়ে হাইজাদী ইউনিয়নের চায়ের কাপ থেকে শুরু করে হাটে-বাজারে চলছে জোর-সমালোচনা। তবে সচেতন ভোটার ও স্থানীয় বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় অনেকের মুখে কড়া সমালোচনা—”যারা গত এক দশক নৌকার পালে হাওয়া লাগিয়ে সুবিধা গুটিয়েছেন, তারা আজ ভোটের স্বার্থে ধান কুড়াতে আসছেন। এটা স্রেফ এক সুবিধাবাদী রাজনীতির চাতুর্য।

আড়াইহাজারের রাজনৈতিক আকাশে ক্ষমতার হাওয়ার সাথে রূপ বদলানো নেতার অভাব নেই। তবে “নৌকার মাঝি” থেকে “ধান কুড়ানি” হওয়ার এই নাটকীয় কৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে হাইজাদী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের বিচার-বুদ্ধির ওপর। ভোটাররা কি নতুন সাজের এই পুরনো প্রজাতিকে সাদরে গ্রহণ করবেন, নাকি ব্যালটের মাধ্যমে সঠিক জবাব দেবেন—তা দেখার জন্য সময়ের অপেক্ষায় পুরো হাইজাদীবাসী।

 

প্রকাশক ও সম্পাদক : আবদুল্লাহ আল মামুন । বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃশিমুলতলীর বাজার,হাইজাদী, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ। মোবাইলঃ 01923708085, ইমেইল : alm97384@gmail.com, ওয়েব সাইট : www.deshbani24.com

প্রিন্ট করুন