আইভীর ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার কালামের দাপট: নাশকতার আশঙ্কায় স্থানীয়রা
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়রের ছত্রছায়ায় আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া বন্দর থানার বাগবাড়ি এলাকার বিতর্কিত ঠিকাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালামকে নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে থাকলেও কালাম এখনো বেপরোয়া। তার বিরুদ্ধে এলাকায় সহিংসতা উসকে দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নাসিকের সাবেক মেয়রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই আবুল কালাম গত ১৫ বছরে সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বন্দরের অসংখ্য উন্নয়নমূলক কাজের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মেয়রের বিশেষ আশীর্বাদ থাকায় এলাকায় তাকে কেউ চ্যালেঞ্জ করার সাহস পেত না।
অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও আবুল কালাম তার ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদী পোস্ট দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষের ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই ধরনের সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে তিনি এলাকায় আবারও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করতে চাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আবুল কালাম আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত গোপন বৈঠক করছেন। রাতের আঁধারে বিভিন্ন স্থানে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার মূল উদ্দেশ্য বন্দরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। গত ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের তৃণমূলের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কোনো বড় ধরনের সহিংসতা ঘটানোর নীল নকশা করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “সরকার বদল হলেও কালামের দাপট কমেনি। তিনি এখনো আগের মতোই প্রভাব খাটিয়ে চলছেন এবং সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করছেন। তাকে আইনের আওতায় না আনলে এলাকায় যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।”
এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বন্দর থানার সাধারণ মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন