খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮ মাঘ, ১৪৩২

সাখাওয়াতের বিতর্কিত কার্মকান্ডে বিব্রত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।

সূত্র: জনমত
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
সাখাওয়াতের বিতর্কিত কার্মকান্ডে বিব্রত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।

 

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রভাব বাড়ে কয়েকজন বিএনপি নেতার। তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান অন্যতম।

হঠাৎ করে বড় নেতা বনে যাওয়া সাখাওয়াত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে বিতর্কে জড়িয়েছেন। আদালতপাড়ায় তার নেতৃত্বে ভাঙচুর, আসামিকে মারধর ও বায়তুল আমান গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ঘটেছে।

বন্দরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদ ও বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রশিদ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে তাদের পক্ষে মামলা লড়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেই সাখাওয়াত আবার আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির হয়ে নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু করেছেন। নিজেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দাবি করে তৃনমূলে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ পাঁচ আসনে এরিমধ্যে মাসুদুজ্জামান মাসুদকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে মাসুদ নারায়ণগঞ্জ পাঁচ আসনের প্রতিটি ভোটারে কাছে ছুটে যাচ্ছেন।

সাখাওয়াত হোসেন খান প্রথম আলোচনায় আসেন সাত খুন হত্যাকাণ্ডের সময়। তিনি বাদীপক্ষের আইনজীবী হওয়ার সুবাদে সারাদেশে আলাদা পরিচিতি পান। এ পরিচিতির সূত্রেই মুন্সিগঞ্জের সন্তান সাখাওয়াত ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হন। যদিও ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে পরাজিত হন।

ওই নির্বাচনে আওয়ামীলের তৎকালিন এমপি শামীম ওসমানের কাছ থেকে ২ কোটি টাকা নিয়ে নির্বাচন করার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগটি করেছিলেন বর্তমান মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। এছাড়া বিএনপি নির্বাচন করতে সাখাওয়াতকে যে টাকা দিয়েছিল সেটা টাকাও আত্মসাৎ করার অভিযোগ করেছিলেন বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সদস্য সচিবের দায়িত্বে থাকা এই নেতা। সাবেক এমপি আবুল কালামের ছেলে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কায়সার আশাও বিভিন্ন গনমাধ্যমে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে বার বার এই অভিযোগ করেছেন।

সবশেষ বারের নির্বাচনের আগে শামীম ওসমানের দুই কোটি টাকার বিষটি সামনে নিয়ে আসেন অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ গোলাম মোর্শেদ গালিব। অভিযোগ আছে সাখাওয়াত হোসেন খানের স্ত্রী অ্যাডভোকেট শামীমা সাবেক পতিত সরকারের এমপি সেলিম ওসমানের পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই ফ্রন্টলাইনে চলে আসা বিএনপির এ নেতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের লোকজনকে আশ্রয় দেওয়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনে সহযোগিতা, মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আছে। মহানগর বিএনপির একটি সূত্র জানায় সাখাওয়াত ৫ আগস্টের পর মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

সর্বশেষ আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন শামীম ওসমানের বাড়ি ভাঙ্গায় নেতৃত্ব দিয়ে। রাজধানীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে ‘মব কালচারের’ বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি তারা সারাদেশের ভাঙচুরের ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করে এতে উদ্বেগও প্রকাশ করেন এবং সকলকে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

যেদিন বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে এই বিবৃতি দেন ওইদিনই নারায়ণগঞ্জে আদালতপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের কয়েকটি ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচতলায় থাকা বঙ্গবন্ধু কর্নারেও ভাঙচুর করা হয়। এই পুরো কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু।

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানান, ওইদিন বেলা সাড়ে এগারোটর দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। পরে তারা নির্মাণ শ্রমিকদের খবর দেন। বেলা বারোটার দিকে বড় আকারের হাতুড়ি, শাবল নিয়ে নির্মাণ শ্রমিকরা পৌঁছালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থাকা শেখ মুজিবরের ম্যুরালটি ভাঙা শুরু করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হেসেন খান ও আবু আল ইউসুফ টিপু নিজেও শাবল ও হাতুড়ি দিয়ে ম্যুরাল ভাঙা কার্যক্রমে অংশ নেন।

এসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আবক্ষ ভাস্কর্যটিও ভাঙা হয়। পরে পাশে জেলা পুলিশ সুপার এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনের দুটি ম্যুরালও একইভাবে ভাঙা হয়। যদিও এ ম্যুরালগুলো গত ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। এক দফায় ভাঙচুরও চলে তখন। আদালতপাড়ায় ভাঙচুরের সময় শহরের চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দাদাবাড়ি বায়তুল আমান ভাঙার কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির এ নেতা। পরে সন্ধ্যায় বায়তুল আমান এক্সাভেটর দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় মাগরিবের আযানের কিছুক্ষণ পর শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে সাখাওয়াত ও টিপুর নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি বায়তুল আমানের সামনে গিয়ে থামে। এই সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের হাতে থাকা বড় আকারের হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে দেয়াল ভাঙার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পরই একটি এক্সাভেটর আনা হয় এবং ভবনটি পরে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই সময় বিএনপি নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতাকে উল্লাস করতে দেখা যায়। সেই সাখাওয়াত বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দাবি করে বির্তকিত ব্যক্তিদের নিয়ে সভা সমাবেশ করছেন।

রোববার রাতে তাকে দেখা গেছে, বির্তকিত বিএনপি নেতা জাকির খানের বাসভবনে। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে চারদিকে। সন্ত্রাসী শামীম ওসমানের ক্যাডারদেরও তার আশপাশে ঘুরঘুর করতে দেখা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় সাখাওয়াত নিজেকে বিএনপির প্রার্থী দাবি করে চারদিকে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। বিএনপি যদি তাকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী করে তাহলে ভরাডুবি নিশ্চিতই বলা যায়।

ফতুল্লায় গিয়াস–শাহ আলমের সমঝোতার আভাস।

ফতুল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
ফতুল্লায় গিয়াস–শাহ আলমের সমঝোতার আভাস।

 

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ–৪ (ফতুল্লা) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যকর আলোচনা চলছে। বিএনপির দুই হেভিওয়েট বহিষ্কৃত নেতা গিয়াসউদ্দিন ও শাহ আলমকে ঘিরে নির্বাচনী সমঝোতার গুঞ্জনে সরগরম হয়ে উঠেছে এলাকা।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অতীতে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকলেও এবারের নির্বাচনে এই দুই নেতাকে নিয়ে ভিন্ন হিসাব-নিকাশ করছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা, গিয়াসউদ্দিন ও শাহ আলমের মধ্যে যেকোনো একজন অপরজনকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনে থাকবেন। এতে করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের জন্য মাঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা।

নেতাকর্মীদের দাবি, একই ঘরানার একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ফতুল্লার মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিভক্তি হলে বিএনপির জন্য তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। সে কারণে বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একজনকে সামনে রেখে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানাচ্ছেন তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকরা।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গিয়াসউদ্দিন ও শাহ আলম—উভয়েরই ফতুল্লায় নিজস্ব ভোটব্যাংক ও প্রভাব রয়েছে। সমঝোতার মাধ্যমে একজন সরে দাঁড়ালে বিএনপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত গিয়াসউদ্দিন কিংবা শাহ আলমের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহল ধারণা করছে, নির্বাচনী প্রচারনা চলাকালীন সময়ে এই সমঝোতা নিয়ে আরও স্পষ্ট বার্তা আসতে পারে।

ফতুল্লার রাজনীতিতে এই গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত বাস্তবতায় রূপ নেয় কি না, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক অঙ্গনের।

 

বহিষ্কার হলেন রেজাউল, আঙ্গুর ও দুলাল।

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
বহিষ্কার হলেন রেজাউল, আঙ্গুর ও দুলাল।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়েছেন রেজাউল করিম, আতাউর রহমান আঙ্গুর ও মো. দুলাল। নারায়ণগঞ্জের তিনটি আসনে দলীয় প্রার্থী থাকলেও তারা বিদ্রোহ করেছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তিন নেতাকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো জানানো হয়।

গত বুধবার মনোনয়নপত্রের শেষদিনেও তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।

বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি জানিয়েছে, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার জন্য তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের এ তিন নেতা ছাড়াও টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদীরও ছয় নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রেজাউল করিম বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর ও দুলাল হোসেন জেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন।

আড়াইহাজার আসন “কার বাক্সে আওয়ামীলীগের ভোটব্যাংক?”

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
আড়াইহাজার আসন “কার বাক্সে আওয়ামীলীগের ভোটব্যাংক?”

 

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রসঙ্গ- আওয়ামী লীগের ভোট।  বিগত নির্বাচনগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, এ অঞ্চলে আওয়ামী লীগের একটি বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে দলটির পতনের পর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে পারা- সব মিলিয়ে নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অনুপস্থিতি এখন বাস্তবতা। শীর্ষ নেতাদের বেশিরভাগ আত্মগোপনে আছেন, অনেকে আবার জেলে আছেন। তবে এ আসনের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থক এখনো একটি বড় ফ্যাক্টর। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গণে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে- আওয়ামী লীগের এই ভোটগুলো কোথায় যাবে নাকি কর্মী-সমর্থকরা ভোট বর্জন করবেন?

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ সংসদীয় আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম বাবু জয় পান। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি সংসদ নির্বাচনেই এ আসনে  ধারাবাহিকতাভাবে জয় পান আওয়ামী লীগ।যদিও এ তিনটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতি ও প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ ওঠে। এসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হলেও প্রকৃত ভোটের পরিমাণ ও জনসমর্থনের হিসাব প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

বিপরীতে ১৯৯১ থেকে ২০০৭ সালের তুলনামূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ন এ আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫২ থেকে ৬৭ শতাংশের মধ্যে। ওই সময় আওয়ামী লীগ গড়ে ২০ থেকে ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা থেকে বোঝা যায়- উপজেলায় দলটির একটি স্থায়ী ভোটব্যাংক বরাবরই বিদ্যমান ।

আওয়ামীলীগের দলের পতনের পর ভোটারদের একটি বড় অংশ রাজনৈতিকভাবে ‘নিরব অবস্থানে চলে গেছে। দলের নিষিদ্ধ অবস্থান ও নেতৃত্ব-শূণ্যতায় একটি বড় অংশ ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও ধারণা করছেন কেউ কেউ।এ সমীকরণ নজরে রাখছেন আসনগুলোতে ভোটের মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো প্রভাবশালী প্রার্থীরাও। তারা আওয়ামী লীগের ভোটগুলো নিজেদের পক্ষে নিতে নানা কৌশলও ইতোমধ্যে নিয়ে রেখেছেন। একাধিক প্রার্থীর ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে আওয়ামী লীগের কাউকে গ্রেপ্তার না করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান সেই কৌশলের দিকেই আলোকপাত করে।সব মিলিয়ে  আওয়ামী লীগের ভোট একক কোনো রাজনৈতিক শক্তির দিকে একত্রে যাবে- এমন সম্ভাবনা কম। বরং এই ভোট ভাঙবে, ছড়িয়ে পড়বে এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরব থাকবে। এই ছড়ানো ভোটই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণে ‘নিরব নিয়ামক’ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

ফতুল্লায় গিয়াস–শাহ আলমের সমঝোতার আভাস। বহিষ্কার হলেন রেজাউল, আঙ্গুর ও দুলাল। আড়াইহাজার আসন “কার বাক্সে আওয়ামীলীগের ভোটব্যাংক?” ধানের শীষ প্রতীকে মাঠে নামছেন আজাদ। আড়াইহাজারে কলেজ ছাত্রকে বহিস্কার।