বিক্ষোভের মুখে পুনরায় নির্বাচনে ফিরলেন মাসুদুজ্জামান
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির অকাল ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান বলেন, “মরহুম শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন সাহসী ও আপসহীন কন্ঠস্বর। আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁর এই অকাল মৃত্যুকে শহীদি মর্যাদা দান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করেন। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং হাদির পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।
আজ ১৯ ডিসেম্বর, (শুক্রবার) বিকালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মাসুদুজ্জামান বলেন, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলীয় আস্থা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতেই। তিনি আরো বলেন “দল এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, কারন তারা আমাকে যোগ্য মনে করেই এই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন”।
তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তার আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যদি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দলের স্থায়ী কমিটির সম্মানিত নেতৃবৃন্দ কোনোভাবে বিব্রত হয়ে থাকলে, তিনি সে জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। দলীয় শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি তার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে মাসুদুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন পারিপার্শ্বিকতা ও বাস্তবতার কারণে তিনি এক পর্যায়ে মনোনয়ন না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। তবে নেতাকর্মীদের ভালোবাসা, আস্থা ও প্রত্যাশা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, “আপনাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তাই আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমি নির্বাচন করবো এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় সকল সিদ্ধান্ত মেনে নিব।”
তবে এই পুনর্বিবেচনার পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি দলীয় ঐক্য ও সংগঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার আপনাদের কাছে একটাই অনুরোধ, আপনারা কথা দিন, আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, সংগঠিত থাকবেন। কারণ দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র চলছে, আর ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।” তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখা সময়ের অপরিহার্য দাবি। ব্যক্তির চেয়ে দল, দলের চেয়েও দেশ বড়; আমার আগে আমরা, ক্ষমতার আগে জনতা – সবার আগে বাংলাদেশ”-এই আদর্শকে সামনে রেখে সবাইকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণ প্রথমে খানপুর হাসপাতাল রোডে সমবেত হয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে সেখান থেকে একটি মিছিল বের করা হয়, যা নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকা প্রদক্ষিণ করে মাসুদুজ্জামানের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে এবং বিভিন্ন রকমের স্লোগান দিতে থাকে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে মাসুদুজ্জামানের নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়।
এসময় মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মাহানগর বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি যুগ্ম-আহ্বায়ক: আব্দুস সবুর খান সেন্টু, আনোয়ার হোসেন আনু, ফতেহ মো. রেজা রিপন, সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, যুবদল সভাপতি মনিরুল ইসলাম সজল, কৃষকদলের সভাপতি এনামুল খন্দকার স্বপন, সেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শাখাওয়াতুল ইসলাম রানা, সাবেক চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আতাউর রহমান মুকুল, বন্দর থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য এড. মোঃ শরীফুল ইসলাম শিপলু। এছাড়াও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সর্বস্তরের স্থানীয় জনগণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।


আপনার মতামত লিখুন