খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮ মাঘ, ১৪৩২

টিপু- শাহ আলম আমার ছোট ভাই।।মোহাম্মদ আলী

দেশবাণী রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
টিপু- শাহ আলম আমার ছোট ভাই।।মোহাম্মদ আলী

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্য নেতাদের এবং সমালোচকদের ‘ছোট ভাই’ বলে সম্বোধন করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআই-এর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবেই, তবে দিনশেষে আমরা সবাই দলের।

শনিবার (০৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে লড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের ভেতরের প্রতিযোগিতা ও সমালোচনার বিষয়ে অত্যন্ত উদার ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারপূর্ণ মন্তব্য করেন এই প্রবীণ নেতা।

শাহ আলম প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘‘নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আপনিও ধানের শীষের মনোনয়ন চান, আরও অনেকেই চান। আমরা জানতে পেরেছি, আপনিসহ শাহ আলমও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন মনোনয়ন পেতে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?’’

জবাবে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘‘রাজনীতিতে অনেক সময় বাবা-ছেলেও একসাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। শাহ আলম আমার ছোট ভাই। আমরা না হয়, একসাথেই মনোনয়নের যুদ্ধটা লড়বো।

টিপু প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নে সাংবাদিকরা জানতে চান, ‘‘মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ক্রমাগতভাবে আপনার বিরোধিতায় সোচ্চার রয়েছেন। প্রায়ই গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ আসছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতার এই বিরোধিতাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

উত্তরে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘‘টিপুও আমার ছোট ভাই। দেখুন, আমি যেহেতু নির্বাচনে একজন প্রার্থী, সুতরাং যে কেউ আমার সমালোচনা করতে পারে। এটা তার অধিকার। সেই অর্থে টিপুও আমার সমালোচনা করতে পারে, এটা তারও অধিকার।

এসময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি বিশ্বাস করি দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তখন সকল মান-অভিমান ভুলে সবাই ধানের শীষের বিজয়ের স্বার্থে আমার সাথে কাজ করবে।

এর আগে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘‘আমি বিএনপির রাজনীতি ধারণ করি। দল যোগ্য মনে করলে আমি নির্বাচন করব। ফতুল্লার মানুষের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। আমি নির্বাচিত হলে ডিএনডি বাঁধের কার্যকর সংস্কারসহ জলাবদ্ধতা নিরসনকে অগ্রাধিকার দেব। এছাড়া মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূল করে একটি শান্তির জনপদ গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।

এ সময় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কার্যকরী কমিটির সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ, সহ-সভাপতি বিল্লাল হোসেন রবিন, যুগ্ম সম্পাদক আহসান সাদিক শাওন, কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান জুয়েল, কার্যকরী সদস্য আরিফ আলম দিপু, রফিকুল ইসলাম জীবন, আব্দুস সালাম, মাহফুজুর রহমান ও প্রণব কৃষ্ণ রায়।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রুমন রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আশরাফ, সিনিয়র সাংবাদিক নাহিদ আজাদ, রফিকুল ইসলাম রফিক প্রমুখ।

ফতুল্লায় গিয়াস–শাহ আলমের সমঝোতার আভাস।

ফতুল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
ফতুল্লায় গিয়াস–শাহ আলমের সমঝোতার আভাস।

 

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ–৪ (ফতুল্লা) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যকর আলোচনা চলছে। বিএনপির দুই হেভিওয়েট বহিষ্কৃত নেতা গিয়াসউদ্দিন ও শাহ আলমকে ঘিরে নির্বাচনী সমঝোতার গুঞ্জনে সরগরম হয়ে উঠেছে এলাকা।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অতীতে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকলেও এবারের নির্বাচনে এই দুই নেতাকে নিয়ে ভিন্ন হিসাব-নিকাশ করছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা, গিয়াসউদ্দিন ও শাহ আলমের মধ্যে যেকোনো একজন অপরজনকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনে থাকবেন। এতে করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের জন্য মাঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা।

নেতাকর্মীদের দাবি, একই ঘরানার একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ফতুল্লার মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিভক্তি হলে বিএনপির জন্য তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। সে কারণে বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একজনকে সামনে রেখে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানাচ্ছেন তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকরা।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গিয়াসউদ্দিন ও শাহ আলম—উভয়েরই ফতুল্লায় নিজস্ব ভোটব্যাংক ও প্রভাব রয়েছে। সমঝোতার মাধ্যমে একজন সরে দাঁড়ালে বিএনপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত গিয়াসউদ্দিন কিংবা শাহ আলমের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহল ধারণা করছে, নির্বাচনী প্রচারনা চলাকালীন সময়ে এই সমঝোতা নিয়ে আরও স্পষ্ট বার্তা আসতে পারে।

ফতুল্লার রাজনীতিতে এই গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত বাস্তবতায় রূপ নেয় কি না, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক অঙ্গনের।

 

বহিষ্কার হলেন রেজাউল, আঙ্গুর ও দুলাল।

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
বহিষ্কার হলেন রেজাউল, আঙ্গুর ও দুলাল।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়েছেন রেজাউল করিম, আতাউর রহমান আঙ্গুর ও মো. দুলাল। নারায়ণগঞ্জের তিনটি আসনে দলীয় প্রার্থী থাকলেও তারা বিদ্রোহ করেছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তিন নেতাকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো জানানো হয়।

গত বুধবার মনোনয়নপত্রের শেষদিনেও তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।

বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি জানিয়েছে, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার জন্য তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের এ তিন নেতা ছাড়াও টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদীরও ছয় নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রেজাউল করিম বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর ও দুলাল হোসেন জেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন।

আড়াইহাজার আসন “কার বাক্সে আওয়ামীলীগের ভোটব্যাংক?”

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
আড়াইহাজার আসন “কার বাক্সে আওয়ামীলীগের ভোটব্যাংক?”

 

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রসঙ্গ- আওয়ামী লীগের ভোট।  বিগত নির্বাচনগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, এ অঞ্চলে আওয়ামী লীগের একটি বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে দলটির পতনের পর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে পারা- সব মিলিয়ে নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অনুপস্থিতি এখন বাস্তবতা। শীর্ষ নেতাদের বেশিরভাগ আত্মগোপনে আছেন, অনেকে আবার জেলে আছেন। তবে এ আসনের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থক এখনো একটি বড় ফ্যাক্টর। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গণে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে- আওয়ামী লীগের এই ভোটগুলো কোথায় যাবে নাকি কর্মী-সমর্থকরা ভোট বর্জন করবেন?

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ সংসদীয় আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম বাবু জয় পান। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি সংসদ নির্বাচনেই এ আসনে  ধারাবাহিকতাভাবে জয় পান আওয়ামী লীগ।যদিও এ তিনটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতি ও প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ ওঠে। এসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হলেও প্রকৃত ভোটের পরিমাণ ও জনসমর্থনের হিসাব প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

বিপরীতে ১৯৯১ থেকে ২০০৭ সালের তুলনামূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ন এ আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫২ থেকে ৬৭ শতাংশের মধ্যে। ওই সময় আওয়ামী লীগ গড়ে ২০ থেকে ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা থেকে বোঝা যায়- উপজেলায় দলটির একটি স্থায়ী ভোটব্যাংক বরাবরই বিদ্যমান ।

আওয়ামীলীগের দলের পতনের পর ভোটারদের একটি বড় অংশ রাজনৈতিকভাবে ‘নিরব অবস্থানে চলে গেছে। দলের নিষিদ্ধ অবস্থান ও নেতৃত্ব-শূণ্যতায় একটি বড় অংশ ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও ধারণা করছেন কেউ কেউ।এ সমীকরণ নজরে রাখছেন আসনগুলোতে ভোটের মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো প্রভাবশালী প্রার্থীরাও। তারা আওয়ামী লীগের ভোটগুলো নিজেদের পক্ষে নিতে নানা কৌশলও ইতোমধ্যে নিয়ে রেখেছেন। একাধিক প্রার্থীর ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে আওয়ামী লীগের কাউকে গ্রেপ্তার না করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান সেই কৌশলের দিকেই আলোকপাত করে।সব মিলিয়ে  আওয়ামী লীগের ভোট একক কোনো রাজনৈতিক শক্তির দিকে একত্রে যাবে- এমন সম্ভাবনা কম। বরং এই ভোট ভাঙবে, ছড়িয়ে পড়বে এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরব থাকবে। এই ছড়ানো ভোটই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণে ‘নিরব নিয়ামক’ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

ফতুল্লায় গিয়াস–শাহ আলমের সমঝোতার আভাস। বহিষ্কার হলেন রেজাউল, আঙ্গুর ও দুলাল। আড়াইহাজার আসন “কার বাক্সে আওয়ামীলীগের ভোটব্যাংক?” ধানের শীষ প্রতীকে মাঠে নামছেন আজাদ। আড়াইহাজারে কলেজ ছাত্রকে বহিস্কার।