ছাত্র-জনতার মুখোমুখি নারায়ণগঞ্জ-৫ এর মনোনিত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ক্রীড়ানুরাগী মাসুদুজ্জামান আজ ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ছাত্র-জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য একটি বিস্তৃত ও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরেন। অগণিত ছাত্র, যুবক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষে পরিপূর্ণ মিলনায়তনে তিনি তার রাজনৈতিক দর্শন, ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের প্রতি আজীবনের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।
মাসুদুজ্জামান বলেন, “আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই নারায়ণগঞ্জের নগর খানপুরে। আমার জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এই জেলার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।” তিনি জানান, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের হোস্টেলে পড়াশোনা করতে গিয়ে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা খুব ছোট বয়সেই অর্জন করেছেন। প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা তার সংগ্রামী মনোভাবকে আরও শক্ত করেছে, আর দেশে খালি হাতে ফিরে পরিবারিক ঐতিহ্য অনুসরণ করে শূন্য থেকে ব্যবসা শুরু করলেও আজকের অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে পরিশ্রম, সততা ও আল্লাহর ইচ্ছায়। নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা, শিল্প, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই শহরই আমার পরিচয়, এই শহরই আমার শক্তি-তাই এটিকে আরও আধুনিক, উন্নত, নিরাপদ ও কর্মমুখী শহর হিসেবে গড়ে তোলাই আমার স্বপ্ন।” নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উন্নয়ন পরিকল্পনায় তিনি বন্দরকে আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিক্স হাবে রূপান্তর, নারায়ণগঞ্জকে শিক্ষার কেন্দ্র, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, যানজট নিরসন, পরিবেশ ও নদী রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
মানবসেবা নিয়ে নিজের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি একজন মাওলানার দেওয়া ধর্মীয় শিক্ষা উদ্ধৃত করে বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ইবাদত, আর রাজনীতি তার কাছে ক্ষমতার হাতিয়ার নয় – জনকল্যাণের মাধ্যম; তিনি চান তার শেষ নিঃশ্বাসও যেন মানুষের সেবায় ব্যয় হয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার করে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, “জনতা আগে, নেতা পরে” – এটাই তারেক রহমানের স্বপ্ন এবং তার নিজের রাজনৈতিক নীতি। বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, “আপনাদের ভালোবাসাই আমার শক্তি, আস্থাই আমার অনুপ্রেরণা। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে জীবন উৎসর্গ করতে চাই। আমাদের জন্য দোয়া করবেন – আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”
এ অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ নগর ও বন্দরের গণ্য-মান্য ব্যাক্তিবর্গ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন । দঅনুষ্ঠানের পুরো পরিবেশ ছিল উষ্ণ, অনুপ্রেরণামূলক ঐক্যবদ্ধ মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানের সমাপনীতে মাসুদুজ্জামান সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকের এই উপস্থিতি তার প্রতি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক। তিনি জানান, এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়—জনগণের সঙ্গে জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের যাত্রার সূচনা। নারায়ণগঞ্জকে শান্তি, উন্নয়ন ও কর্মসং সংস্থানের শহর হিসেবে গড়তে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন