নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার যড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে পড়েছে। মনোনয়ন বঞ্চিত অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে আশা ও ওসমান পরিবারের অন্যতম দোসর মাকসুদ চেয়ারম্যান নাশকতার পরিকল্পনা করেছেন বলে গোয়েন্দা সুত্র বলছে। ফলে সর্তকাবস্থায় গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাদা পোষাকে নেমে পড়েছেন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনকে কেন্দ্র করে। দলের কেন্দ্রীয় ঘোষণায় শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদের নাম ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ ও ষড়যন্ত্রের গোপন আগুন জ্বলে উঠেছে পরাজিত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়া আবুল কালামের ছেলে সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা গোপনে হাত মিলিয়েছেন পতিত স্বৈরাচারী দল আওয়ামী লীগের দোসর খ্যাত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির জেলা সহ-সভাপতি ও বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের সঙ্গে। দুজনের মধ্যে একাধিক গোপন বৈঠক হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে একটি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সংস্থা।
দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্র থেকে কঠোর নির্দেশ থাকায় আশার পক্ষের কেউ প্রকাশ্যে মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সাহস পাচ্ছে না। কিন্তু অন্তরালে তারা ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। গত কয়েক দিনে তাঁদের ঘনিষ্ঠ কর্মীরা মদনপুর, চিটাগাং রোড, বন্দর ও সদর এলাকায় গোপনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৫ নভেম্বর) দিনের বেলায় বন্দর এলাকার এক কাঠের স’মিল থেকে বেশ কিছু গাছের গুড়ি ও দাহ্য পদার্থ সংগ্রহ করেছে মাকসুদ-আশা গ্রুপের অনুসারীরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মধ্য রাতে তাঁরা মুখে মাস্ক ও হেলমেট পরে হঠাৎ সড়কে নেমে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাবে। এতে তাঁরা মাসুদুজ্জামানের বিরুদ্ধে “মনোনয়ন বাতিল করো”, “বিক্রি করা প্রার্থী চাই না” এমন উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে পারে বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছে।
সূত্রটি আরও জানায়, শুধু বিক্ষোভ নয়, তাঁরা রাতে চলাচল করা গাড়িতে আগুন ধরানো বা নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলারও প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে এলাকায় নাশকতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ ইউনিট ইতোমধ্যেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং রাতে অতিরিক্ত টহল বাড়ানো হচ্ছে।
গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “মাসুদুজ্জামানের মনোনয়ন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। নাশকতার কোনো ইঙ্গিত পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, যদি সত্যি হয় বিষয়টি বিএনপির জন্য হবে চরম আত্মঘাতী। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। এমন কোন কিছু হওয়ার সুযোগ যেন না পায় সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই বন্দর এলাকায় মাকসুদ হোসেনের সঙ্গে কিছু বিএনপি নেতার অদ্ভুত সম্পর্ক টিকে আছে। এখন সেটি আবার সক্রিয় হচ্ছে নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে। আশা ও মাকসুদ উভয়েই রাজনীতিতে প্রভাব হারিয়ে প্রান্তিক অবস্থানে চলে গেছেন। তাঁদের এই আতঙ্কই হয়তো মাসুদুজ্জামান মাসুদের উত্থান ঠেকাতে মরিয়া করে তুলেছে।
এদিকে বিএনপির জেলা নেতারা বলছেন, দলের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করে আন্দোলন ও নির্বাচনের গতি ভিন্ন খাতে নিতে দেওয়া হবে না। তাঁরা জানিয়েছেন, মাসুদুজ্জামান মাসুদ দলের প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন এবং যেকোনো ষড়যন্ত্রের জবাব গণঅংশগ্রহণের মাধ্যমেই দেবেন।
এটি কেবল একটি আসনের বিরোধ নয়, বরং ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় হারতে না চাওয়া গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত। মাসুদুজ্জামানের জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক শক্তি এখন তাঁকে এই আসনের বিএনপির মূলধারায় সবচেয়ে প্রভাবশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে, যা পুরনো রাজনীতিকদের আতঙ্কে ফেলেছে।
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি নির্বাচনীভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহর ও বন্দরের ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় যেকোনো সহিংসতা বা নাশকতা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “যে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে মাসুদুজ্জামান মাসুদ নিজে বলেন, “আমি দলের প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর প্রার্থী হিসেবে জনগণের কাছে যাচ্ছি। বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। ষড়যন্ত্রের ভয় আমি করি না। বিএনপি নেতাকর্মীরা জানে কারা আন্দোলনের মাঠে ছিল আর কারা শুধু ক্ষমতার লোভে ষড়যন্ত্র করে।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
বন্দর উপজেলা সিনিয়র সিটিজেন ফোরামের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৪২ সদস্য বিশিষ্ট এই নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আগামী দুই বছরের পথচলা শুরু হলো।
গতকাল ১৫ মে (শুক্রবার) বিকেলে মদনগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নবগঠিত এই কমিটিতে সংগঠনের সবার প্রিয়ভাজন, সমাজকর্মী আলমগীর আজাদ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব পেয়েছেন বিগত কমিটির সফল সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ভূঁইয়া মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম মোরশেদ রতন। এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন মো. জিয়াউদ্দিন ভুইয়া।
কমিটি ঘোষণার পর নবাগত নেতৃবৃন্দ সংগঠনের সকল সাধারণ সদস্যের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, তারা অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সাথে পালন করবেন। একই সাথে আগামী দিনে সিনিয়র সিটিজেনদের অধিকার রক্ষা, সংগঠনের অগ্রগতি এবং সামগ্রিক সমাজ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্যান্য সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানান।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ডকইয়ার্ডে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে উল্টো বিপাকে পড়েছেন মহিউদ্দিন সাউদ নামে এক ব্যবসায়ী। থানা ও বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে অভিযুক্তদের হুমকি এবং পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বন্দর ঘাট সংলগ্ন শেফা ডকইয়ার্ডের মালিক মহিউদ্দিন সাউদের কাছে লোহা ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা পরিচয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে স্থানীয় একটি চক্র। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত কয়েকদিন আগে অভিযুক্তরা ডকইয়ার্ডে প্রবেশ করে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, শত শত মানুষের সামনে ডকইয়ার্ড থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের লোহা লুট করে নিয়ে যায় তারা।
এই ঘটনায় মহিউদ্দিন সাউদ স্থানীয় মৃত শামছুলের ছেলে সৈকতকে (৪০) প্রধান আসামি করে সজিব, হুমায়ুন, রাসেল, রাব্বি, আফজাল ও বিপ্লবসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও র্যাব কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, “অভিযুক্তরা নিজেদের যুবদল ও বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। তারা আমার কাছে চাঁদা না পেয়ে লোহা লুট করেছে। এখন আমি জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি।”
এদিকে, চাঁদাবাজির অভিযোগ ধামাচাপা দিতে প্রধান অভিযুক্ত সৈকত হাসান বাদী হয়ে মহিউদ্দিন সাউদের বিরুদ্ধে থানায় একটি পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ডকইয়ার্ডের স্ক্র্যাপ লোহা কেনার জন্য তিনি মহিউদ্দিনকে ৫ লাখ টাকা বায়না দিয়েছিলেন এবং মহিউদ্দিন সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে ৫ লাখ টাকা লেনদেনের স্বপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বন্দরের শীর্ষ সন্ত্রাসী খান মাসুদ পালিয়ে গেলে বন্দর ঘাট এলাকার স্ট্যান্ড বাজার ও ফুটপাতের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নেন এই সৈকত। তিনি নিজেকে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যের (এমপি) ভাতিজা পরিচয় দিয়ে থানা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনার মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চাঁদাবাজির শিকার হয়েও প্রতিকার না পেয়ে মহিউদ্দিন সাউদ এখন আতঙ্কিত। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ এখনো তার অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি। উল্টো সন্ত্রাসীদের ভয়ে এবং পুলিশের অসহযোগিতায় তিনি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ বিষয়ে বন্দর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের একটি ডকইয়ার্ডে চাঁদা না পেয়ে লোহা লুটপাটের অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক মহিউদ্দিন সাউদ। তিনি এ ঘটনায় বন্দর থানা, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, র্যাব বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন।
অভিযোগে ডকইয়ার্ড মালিক স্থানীয় মৃত শামছুল এর পুত্র সৈকত (৪০) কে প্রধান করে, সজিব, হুমায়ুন, রাসেল, রাব্বি, আফজাল ও বিপ্লবসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করেছেন।
অভিযোগে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এরা নিজেদের বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, স্কুল কলেজের ছাত্রীদের রাস্তায় উত্যক্ত ও অসালীন আচরণ করা সহ বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত করে আসছে।
গত সোমবার (৪ মে) চাঁদা না পেয়ে ডকইয়ার্ডে লুটপাট চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী। পরে তিনি জেলা পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দেন।
“অভিযোগকারী মহিউদ্দিন দাবি করেন ওরা আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে হইব। কিন্তু আমি এতে রাজি না হওয়ায় ওরা আমারে বিভিন্ন ভাবে গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করসে। পরবর্তীতে আমার ডকইয়ার্ড থেকে শত শত মানুষের সামনে প্রায় ৭০ হাজার টাকার লোহা নিয়া চলে গেছে। ওরা সবাই যুবদল করে। আমি এখন আমার জীবন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আমি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি সেখানে। রিপোর্ট পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবো। অভিযোগকারীর সাথে যদি ঘটনা মিলে যায় তাহলে অপরাধী যে দলেরই হোক আমি ব্যবস্থা নেবো। আইন সবার জন্যই সমান।”
আপনার মতামত লিখুন