জিয়া সাইবার ফোর্স আড়াইহাজার উপজেলার ৬৮ সদস্য কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।গত ২৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা সাইবার ফোর্স এর আহবায়ক মারুফ আহমেদ রোমান ও সদস্য সচিব মো: খোকন রানা সাক্ষরিত এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।উক্ত কমিটিতে আড়াইহাজার উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্স এর সিনিয়র সহ সভাপতি হয়েছেন রাজপথের লড়াকু সৈনিক, কারা নির্যাতিত নেতা ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের একনিষ্ঠ কর্মী মো: শাহজালাল মিয়া।এর আগেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জিয়া সাইবার ফোর্স এর যুগ্ম আহবায়ক।
মো: শাহজালাল মিয়া বলেন, আমি আমার রাজনৈতিক আদর্শ বুকে ধারন করে ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের ভাই এর হাতকে শক্তিশালী করতে আগামী দিনে আড়াইহাজার জিয়া সাইবার ফোর্স সংগঠনকে পূর্বের চেয়ে আরোও অনেক শক্তিশালী সংগঠন এ পরিনত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
আমি বিশেষ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি নারায়ণগঞ্জ জেলা জিয়া সাইবার ফোর্স এর আহবায়ক মারুফ আহমেদ রোমান ও সদস্য সচিব মো: খোকন রানা ভাইকে।
ঢাকা বিভাগের বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ বলেছেন, আপানারা আমাকে এমপি বানিয়ে সকল প্রকার সেবা আপনারা আমার কাছ থেকে বুঝে নিবেন। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, স্বপ্নের আড়াইহাজার গড়ে তুলব। সেই স্বপ্নের আড়াইহাজার গড়তে আপনাদের সকলকে আমি পাশে চাই। আড়াইহাজারে কোন চোর ডাকাত থাকবে না , তাদেরকে কর্মসংস্থানের মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে।
রোববার আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপি’র উদ্যোগে উপজেলার শহীদ মঞ্জুর স্টোডিয়ামে নির্বাচনী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূইয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি মামুন মাহমুদ, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মাকসুদুল হাসান বাজিক, বিএনপি নেতা রাকিবুল ইসলাম রাকিব, লুৎফুর রহমান আব্দু, মতিউর রহমান মতিন, ভিপি কবির হোসেন, মোহাম্মদ উল্লাহ লিটন, সালাউদ্দিন ডালিম, ছাত্রদলের নেতা মোবারক হোসেন ও রফিকুল ইসলাম রফিক ও উপজেলার ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ সহ অংঘসংঘঠনের নেতৃবৃন্দ।
তিনি আরও বলেন, উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত করার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, আত্মসামাজিক ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেগবান করা হবে। পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। ১২ ফেব্রুয়ারী যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য আড়াইহাজারের সকল ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নতুন ভোটার ও জেন জি অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন
নারায়ণগঞ্জ ৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া।
৬ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁওয়ে টিপরদীতে পানাম ফুড রেস্টুরেন্টে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা আবদুল জাব্বার, জেলা আমীর আলহাজ্ব মমিনুল হক সরকার, জেলা সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আকরাম হোসাইন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা তুহিন মাহমুদসহ সোনারগাঁও সিদ্ধিরগঞ্জের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
সভায় জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং এই এলাকাকে এগিয়ে নিতে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন ডঃ ইকবাল। সোনারগাঁও সিদ্ধিরগঞ্জের নানা সামাজিক সমস্যা, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা, যানজট নিরসনসহ নানা বিষয়ে তরুণদের প্রশ্নের উত্তর দেন ডঃ ইকবাল।
বলেন, জনগণের রায়ে আল্লাহ তায়ালা যদি সুযোগ দেন সোনারগাঁও সিদ্ধিরগঞ্জকে মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এমনভাবে সাজানো হবে যাতে কেউ এই এলাকায় ঢুকলে বুঝতে পারে সোনারগাঁওয়ে প্রবেশ করেছে। তাছাড়া সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানজট নিরসনসহ নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট থেকে প্রথমে মাওলানা শাহজাহান শিবলীকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে জরিপ ও জনগণের মতামত এবং তৃনমুল কর্মী সমর্থকদের সিচুয়েশন রিপোর্ট বিবেচনা করে ডঃ ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়াকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছেন ১১ দলীয় জোট তথা জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। মাওলানা মামুনুল হক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং শীঘ্রই মাওঃ শাহজাহান শিবলী সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকছ সরিয়ে নিয়ে জোটের প্রার্থী ডঃ ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়াকে সমর্থন জানাবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর মাত্র ৫দিন বাকি। ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের রাজনৈতিক মাঠ। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর এখন দুই হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বীর চাপে পড়েছেন এ্যাডভোকেট আবুল কালাম।এক সময় যাকে এই আসনের ক্লিন ইমেজের এমপি হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। সময়ের ব্যবধানে ও বয়সের ভারে তিনি নূজ্য। এখন প্রতিদিন ঘাম ঝরাতে হচ্ছে ভোটের হিসাব মেলাতে। ভোটার ও বিএনপি নেতাদের সমীকরনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষ বিজয় মানেই এমপি আবুল কালাম থাকবে নামমাত্র। নিয়ন্ত্রন থাকবে আবুল কাউছার আশার কাছে।
দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই সদর ও বন্দরের প্রত্যন্ত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন এ্যাডভোকেট আবুল কালাম। মুলত তাকে সাপোর্ট দিচ্ছেন তার পুত্র মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউছার আশা। উঠান বৈঠক, কর্মী সভা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সবকিছুতেই সক্রিয় থাকলেও মাঠের বাস্তবতা তার জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এর বেশ কারনও রয়েছে। বর্তমানে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সাথে আবুল কালামের পুত্র আবুল কাউছার আশার রয়েছে বৈরী সম্পর্ক। তৃনমুল কর্মীরাও আদর্শের কারনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রতিকের জন্য প্রচারনা করলেও ভিতরে ভিতরে রয়েছে চরম ক্ষোভের আগুন। এছাড়াও আবুল কাউছার আশা যেন কাউকে তোয়াক্কাও করছেন না। এমনকি নিজ বংশের আপন চাচা মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলও নিরব ভূমিকায় রয়েছেন। আপন চাচাকেও যেন পাত্তা দিচ্ছেন না কাউছার। অথচ বন্দর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলের বন্দর উপজেলায় রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাংক। বিএনপির সিনিয়র নেতারাও পাত্তা পাচ্ছেন না আবল কাউছার আশার কাছে। প্রতিক পেয়ে যেন নিশ্চিৎ বিজয় ভেবে কাউকে গনায় ধরছেন না আবুল কাউছার আশা।
ফলে ভোটারদের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি বিএনপির মধ্যেও স্পষ্ট অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আবুল কাউছার আশার কিছু বক্তব্য এবং তার অনুসারীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। যার প্রভাব পড়েছে জনপ্রিয়তার গ্রাফে। ফলে বিএনপির তৃনমুল কর্মীরা ভাবছেন এই আসনটি আবুল কালামের পুত্রের অহমিকার জন্য হারাতে হতে পারে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন সদর বন্দরের ফুটবল প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনকে ঘিরে চলছে নানা সমিকরন। মাকসুদ হোসেনের প্রার্থীতা বৈধ হওয়ায় ধানের শীষ প্রতিকের আবুল কালামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামায় সেই চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিগত সরকার আমলে ৩ বার বন্দর উপজেলা মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও একবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় মাকসুদ হোসেন এবার আটসাট বেধে মরন কামড় দিবেন এমনই টার্গেট নিয়ে মাঠ পর্যায়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি বন্দরের বিভিন্ন উপজেলা জুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন ও বিভিন্ন মসজিদ মন্দিরে উন্নয়নমুলক কাজও করেছেন নজিরবিহীন। জাতীয় নির্বাচনে আ’লীগ না থাকায় ও জাতীয় পার্টি শূন্য আসনে সদর ও বন্দরে একটি বড় ভোট ব্যাংক মাকসুদ হোসেনকে সমর্থন দিয়ে গোপনে কাজ করছে। অনেকে প্রকাশ্যেই ফুটবল প্রতিকের জন্য মাঠে তৎপর রয়েছে। এমনকি বিএনপির একটি অংশ গোপনে ফুটবলের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সকল হিসেব নিকেশে এগিয়ে রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন।
এর মধ্যেই নতুন করে নির্বাচনী সমীকরণ বদলে খেলাফত মজলিশের দেয়াল ঘড়ি প্রতিকের প্রার্থী সিরাজুল মামুন। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সাথে ১০ দলীয় জোট হওয়ায় জামায়াত ইসলাম এই আসনে খেলাফত মসলিশকে আসনটি ছেড়ে দেয়। দেয়াল ঘড়ি প্রতিকের সিরাজুল মামুনও জোরেশোরে প্রচার শুরু করায় পুরো আসনজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় ওঠে। একটি সুসংগঠিত ভোটব্যাংক ও মাঠপর্যায়ের কর্মী কাঠামো থাকায় জামায়াতকে আবারও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এখন এক জটিল সমীকরণ চলছে। একদিকে বিএনপির ভেতরে ভেতরে অবমূল্যায়নের কারনে ক্ষোভ, অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতিকের মাকসুদ ও জামায়াত প্রার্থীর শক্ত অবস্থান এই দুইয়ের চাপে আবুল কালামের পথটা খুব মশ্রিণ নয় তা একদম স্পষ্ট । শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কার কৌশল কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আপনার মতামত লিখুন